কোহিনূর আক্তার সুচন্দা
ঢাকাই চলচ্চিত্রের জন্মলগ্নের অন্যতম উজ্জ্বল নাম ও জীবন্ত কিংবদন্তি অভিনেত্রী ও পরিচালক সুচন্দা। এই জীবন্ত কিংবদন্তীর পাচ্ছেন আরো একটি পুরস্কার। জানা গেছে, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ফিল্ম অ্যান্ড আর্টস (বাইফা) অ্যাওয়ার্ডের পঞ্চম আসরে আজীবন সম্মাননা পাচ্ছেন সুচন্দা ।
আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, এবারের আসরের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ সম্মাননা নিজ হাতে গ্রহণ করবেন সুচন্দা। সম্প্রতি আয়োজক প্রতিষ্ঠানের পরিচালকমণ্ডলীর সদস্য মাসিদ রণর হাত থেকে ‘বাইফা সিজন ৫’-এর উপহার বক্স গ্রহণের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এই সম্মাননা গ্রহণে সম্মতি জানান তিনি।

এই স্বীকৃতি প্রসঙ্গে নিজের অনুভূতি জানিয়ে সুচন্দা বলেন, ‘দীর্ঘ সময় ধরে নিষ্ঠার সঙ্গে অভিনয় করেছি। প্রযোজনা ও পরিচালনার সঙ্গেও যুক্ত ছিলাম। অনেকদিন অভিনয় থেকে দূরে থাকলেও নতুন প্রজন্ম আমাকে মনে রেখেছে-এটাই সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। বাইফার সঙ্গে তরুণদের স্বপ্ন জড়িয়ে আছে। তারা যখন আমাকে এই সম্মাননার কথা জানায়, খুব ভালো লেগেছে। তাই এর আগে অনেক পুরস্কার গ্রহণে অনীহা থাকলেও এই সম্মাননা আমি আনন্দের সঙ্গে গ্রহণ করছি।’
‘বাইফা সিজন ৫’
আগামী ৮ মে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র-এর গৌরবমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে ‘বাইফা সিজন ৫’-এর বর্ণাঢ্য আয়োজন। এবারের আসরে মোট ২৯টি বিভাগে সরাসরি দর্শক ভোট এবং জুরি বোর্ডের রায়ের ভিত্তিতে গান, নাচ, ফ্যাশন, নাটক, ওটিটি ও চলচ্চিত্রের সেরাদের হাতে তুলে দেওয়া হবে পুরস্কার।
পুরস্কার বিতরণীর পাশাপাশি অনুষ্ঠানে থাকছে জনপ্রিয় তারকাদের মনোমুগ্ধকর পরিবেশনা, ফ্যাশন শো, লালগালিচা সংবর্ধনা এবং গ্ল্যামারাস নানা আয়োজন।

বাইফা অ্যাওয়ার্ডের তৃতীয় আসর থেকে আজীবন সম্মাননা প্রদান শুরু হয়। এর আগে এই সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন রুনা লায়লা, শামীম আরা নীপা এবং শিবলী মোহাম্মদ। এবার সেই গৌরবময় তালিকায় যুক্ত হতে যাচ্ছেন ঢাকাই সিনেমার বরেণ্য অভিনেত্রী সুচন্দা।
সুচন্দার পরিচয় ও কাজ
সুচন্দা দেশের অন্যতম কিংবদন্তী অভিনেত্রী ববিতার বড় বোন। সুচন্দা প্রয়াত চলচ্চিত্র পরিচালক জহির রায়হানের সহধর্মিনী। ১৯৬৭ সালে বেহুলা সিনেমায় অভিনয় করার সময় জহির রায়হানের ঘনিষ্ঠ হয়ে উঠেন। এরপর বিয়ে করেন তাঁরা।
সুচন্দা ১৯৬৫ সালে প্রখ্যাত অভিনেতা কাজী খালেকের একটা প্রামাণ্যচিত্রে অভিনয় শুরু করেন। এরপর সুভাষ দত্ত পরিচালিত কাগজের নৌকা চলচ্চিত্রের মাধ্যমে ১৯৬৬ সালে তার চলচ্চিত্রে অভিষেক ঘটে। পরবর্তীকালে, ১৯৬৭ সালে হিন্দু পৌরাণিক কাহিনী নিয়ে চলচ্চিত্র বেহুলায় অভিনয় করেন। এতে তিনি রাজ্জাকের বিপরীতে অভিনয় করেন।

সুচন্দার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য সিনেমা ‘জীবন থেকে নেয়া’। এছাড়াও ৬০ এর দশকের শেষের দিকে গোলাম মুস্তফার বিপরীতে চাওয়া পাওয়া, আজিমের বিপরীতে নয়নতারা, রাজ্জাকের বিপরীতে সুয়োরানী দুয়োরানী এবং ৭০ এর দশকে যে আগুনে পুড়ি, কাঁচের স্বর্গ, অশ্রু দিয়ে লেখা তার উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র।
চলচ্চিত্র প্রযোজনা
অভিনয়ের পাশপাশি তিনি চলচ্চিত্র প্রযোজনাও করেছেন। জহির রায়হানের জীবদ্দশায় টাকা আনা পাই ও প্রতিশোধ চলচ্চিত্র দুটি প্রযোজনা করেন। এছাড়াও তিনকন্যা, বেহুলা লখীন্দর, বাসনা ও প্রেমপ্রীতি চলচ্চিত্রগুলো প্রযোজনা করেন। তার পরিচালিত প্রথম সিনেমা ‘সবুজ কোট কালো চশমা’। ২০০৫ সালে স্বামী জহির রায়হানের ‘হাজার বছর ধরে’ উপন্যাসের আলোকে চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন তিনি এবং এই চলচ্চিত্রের জন্য সেরা প্রযোজক ও পরিচালক হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান। এছাড়া ২০১৯ সালে তাঁকে আজীবন সম্মাননা বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রদান করা হয়।


