অ্যানা হ্যাথাওয়ে-মেরিল স্ট্রিপ
সম্প্রতি মুক্তি পেয়েছে ‘দ্য ডেভিল ওয়্যারস প্রাডা ২’ সিনেমা। মুক্তির পর শুক্রবারে উত্তর আমেরিকার ৪,১৫০টি প্রেক্ষাগৃহ থেকে মোট ৩২.৫ মিলিয়ন ডলার আয় করে সিনেমাটি। আর এতেই বক্স অফিসের শীর্ষে উঠে এসেছে ‘দ্য ডেভিল ওয়্যারস প্রাডা ২’। ভ্যারাইটি অবলম্বনে।
ফ্যাশনদুনিয়ার এই বহুল প্রতীক্ষিত সিক্যুয়েলটি রবিবারের মধ্যে ৭৫ থেকে ৮০ মিলিয়ন ডলার আয় করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে কিছু বক্স অফিস বিশ্লেষকের পূর্বাভাস, মুক্তির প্রথম সপ্তাহান্তে ছবিটির আয় ৯০ মিলিয়ন ডলার পর্যন্তও পৌঁছাতে পারে।

প্রথম ‘দ্য ডেভিল ওয়্যারস প্রাডা’ মুক্তি পেয়েছিল জুন ২০০৬-এ। ছবিটি মুক্তির প্রথম সপ্তাহান্তে দেশীয় (উত্তর আমেরিকা) বক্স অফিসে আয় করেছিল ২৭.৫ মিলিয়ন ডলার, আর পুরো প্রদর্শনী শেষে দেশীয় বাজারে এর মোট আয় দাঁড়ায় ১২৫ মিলিয়ন ডলার। মুদ্রাস্ফীতি সমন্বয় করলে, সেই অঙ্ক যথাক্রমে ৪৫ মিলিয়ন ডলার এবং ২০৪ মিলিয়ন ডলার বর্তমানে।
‘দ্য ডেভিল ওয়্যারস প্রাডা ২’-এর মধ্য দিয়ে সিনেমায় ফিরেছেন চলচ্চিত্রের মূল পরিচালক ডেভিড ফ্র্যাঙ্কেল এবং চিত্রনাট্যকার এলাইন ব্রশ ম্যাককেনা। পাশাপাশি মূল তারকারাও-মেরিল স্ট্রিপ, অ্যান হ্যাথাওয়ে, এমিলি ব্লান্ট এবং স্ট্যানলি টুচি আবার এক হয়েছেন।
সিক্যুয়েলের গল্পে দেখা যাবে, অ্যান হ্যাথাওয়ে অভিনীত অ্যান্ডি স্যাক্স এখন ফ্যাশন সাংবাদিকতার জগতে প্রতিষ্ঠিত ও প্রভাবশালী এক নাম। এই পথচলায় তিনি আবারও একত্রিত হন রানওয়ে ম্যাগাজিনের ক্ষমতাধর সম্পাদক-প্রধান মিরান্ডা প্রিস্টলির সঙ্গে, যে চরিত্রে ফিরেছেন মেরিল স্ট্রিপ।

বোহেমিয়ান র্যাপসোডিকে অতিক্রম
গত সপ্তাহান্তের শীর্ষে থাকা ‘মাইকেল’ এবার নেমে এসেছে দ্বিতীয় স্থানে। প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির দ্বিতীয় শুক্রবারে উত্তর আমেরিকার বাজারে ছবিটি আয় করেছে ১৪.৪ মিলিয়ন ডলার। রবিবারের মধ্যে লায়ন্সগেট-এর এই পপসম্রাট মাইকেল জ্যাকসন-কে নিয়ে নির্মিত সংগীতভিত্তিক বায়োপিক আরও ৫১ মিলিয়ন ডলার আয় করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা গত সপ্তাহের তুলনায় প্রায় ৪৮ শতাংশ কম। এতে সপ্তাহান্ত শেষে ছবিটির দেশীয় মোট আয় গিয়ে দাঁড়াতে পারে ১৮০ মিলিয়ন ডলারে।

তবে ‘মাইকেল’ যদি বক্স অফিসে শক্ত অবস্থান ধরে রাখতে পারে, তাহলে সর্বকালের সর্বোচ্চ আয় করা সংগীতভিত্তিক বায়োপিক হিসেবে ২০১৮ সালের ‘বোহেমিয়ান র্যাপসোডি’-কে ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে। বোহেমিয়ান র্যাপসোডি তার প্রদর্শনী শেষে বিশ্বব্যাপী ৯১০ মিলিয়ন ডলার আয় করেছিল।

এমনকি সেই রেকর্ড ভাঙতে না পারলেও, মাইকেল-এর সামনে আরও একটি বড় অর্জনের সুযোগ রয়েছে। লায়ন্সগেট-এর ইতিহাসে সর্বোচ্চ আয় করা চলচ্চিত্র হিসেবে ‘দ্য হাঙ্গার গেমস: ক্যাচিং ফায়ার’-কে পেছনে ফেলা। ২০১৩ সালের সেই চলচ্চিত্রটির বিশ্বব্যাপী আয় ছিল ৮৬৫ মিলিয়ন ডলার।
‘অ্যানিমেল ফার্ম’
‘দ্য ডেভিল ওয়্যারস প্রাডা ২’-এর পাশাপাশি শুক্রবার প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে অ্যাঞ্জেল স্টুডিওস-এর অ্যানিমেটেড চলচ্চিত্র ‘অ্যানিমেল ফার্ম’। অ্যানিমেল ফার্ম অবলম্বনে নির্মিত ছবিটি উত্তর আমেরিকার ১,১৩০টি প্রেক্ষাগৃহ থেকে আনুমানিক ১.১ মিলিয়ন ডলার আয় করে বক্স অফিসে ষষ্ঠ স্থান দখল করেছে।
পরিবারবান্ধব এই নতুন সিনেমাটি পরিচালনা এবং অভিনয়ও করেছেন অ্যান্ডি সার্কিস। জর্জ অরওয়েল-এর ১৯৪৫ সালের রূপকধর্মী উপন্যাস অ্যানিমেল ফার্ম’ অবলম্বনে সিনেমাটি নির্মিত। ছবিটির তারকাবহুল কাস্টে রয়েছেন জিম পারসন্স, ইমান ভেল্লানি, সেথ রোজেন, উডি হ্যারেলসন, স্টিভ বুসেমি, গ্লেন ক্লোজ এবং কিয়েরান কালকিন।

এদিকে ‘দ্য সুপার মারিও গ্যালাক্সি’ শুক্রবার উত্তর আমেরিকায় ২.৭ মিলিয়ন ডলার আয় করে তৃতীয় স্থানে রয়েছে। রবিবারের মধ্যে ছবিটি আরও ১২ মিলিয়ন ডলার যোগ করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এতে মুক্তির পাঁচ সপ্তাহান্ত শেষে দেশীয় বাজারে এর মোট আয় পৌঁছাতে পারে ৪০২ মিলিয়ন ডলারে।
পাঁচে ‘প্রজেক্ট হেইল মেরি’
নিয়ন-এর নতুন ছবি ‘হোকাম’ চতুর্থ স্থানে রয়েছে। উত্তর আমেরিকায় আনুমানিক ২.৬ মিলিয়ন ডলার আয় করা ছবিটি রবিবারের মধ্যে প্রায় ৬ মিলিয়ন ডলার আয় করতে পারে। ভৌতিক এই চলচ্চিত্রটি লিখেছেন ও পরিচালনা করেছেন ড্যামিয়ান ম্যাকার্থি। গল্পে দেখা যাবে, এক লেখক তার প্রয়াত বাবা-মায়ের অস্থিভস্ম ছড়িয়ে দিতে আয়ারল্যান্ডের একটি সরাইখানায় যান; কিন্তু তিনি জানেন না, জায়গাটি বহু প্রাচীন এক অশুভ শক্তির দ্বারা আচ্ছন্ন। এ ছবির প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন অ্যাডাম স্কট। এছাড়া রয়েছেন পিটার কুনান, ডেভিড উইলমট এবং ম্যালোরি অ্যাডামস।

সবশেষে, ‘প্রজেক্ট হেইল মেরি’ পঞ্চম স্থানে থেকে আয় করেছে ২.২ মিলিয়ন ডলার। সপ্তাহান্তে আরও ৮.৯ মিলিয়ন ডলার যোগ হলে, রবিবারের মধ্যে উত্তর আমেরিকায় ছবিটির মোট আয় গিয়ে দাঁড়াতে পারে ৩১৮ মিলিয়ন ডলারে।


