একাডেমি অব মোশন পিকচার আর্টস অ্যান্ড সায়েন্সেস
অস্কার পুরস্কারে এলো যুগান্তকারী পরিবর্তন। একাডেমি অব মোশন পিকচার আর্টস অ্যান্ড সায়েন্সেস অস্কারের নিয়মাবলিতে বড় ধরনের রদবদল এনেছে। ২০২৭ সালে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ৯৯তম একাডেমি অ্যাওয়ার্ডস বা অস্কারের আসর থেকে এসব নতুন নিয়ম কার্যকর হবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক ফিচার ফিল্ম বিভাগের মনোনয়ন-অনেক ক্ষেত্রেই আনা হয়েছে বিশেষ পরিবর্তন।

এআই-সংক্রান্ত নতুন নিয়ম
একাডেমি অব মোশন পিকচার আর্টস অ্যান্ড সায়েন্সেস জানিয়েছে, অভিনয়ের জন্য অস্কার পাওয়ার ক্ষেত্রে মানুষের অবদান অপরিহার্য। তাই কাজটিতে অবশ্যই মানুষের সৃজনশীল অবদান থাকতে হবে। ডিজিটাল উপায়ে তৈরি বা জেনারেটিভ এআই দিয়ে নির্মিত কোন অভিনয়ের জন্য কোন সিনেমা, অভিনেতা-অভিনেত্রী অস্কার পুরস্কারের জন্য বিবেচিত হবে না। সৃজনশীল কাজে মানুষের মেধার মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখতেই এই কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
আন্তর্জাতিক ফিচার ফিল্ম বিভাগ
অস্কারের ইন্টারন্যাশনাল ফিচার ফিল্ম বিভাগের নীতিমালায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। এই পরিবর্তনের উদ্দেশ্য হল রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ কমিয়ে নির্মাতাদের সৃজনশীলতাকে সর্বোচ্চ সম্মান জানানো। আগে এ বিভাগের সিনেমা কোনো দেশের অফিশিয়াল এন্ট্রির ওপর নির্ভরশীল ছিল। তাতে অনেক সমস্যায় পড়তে হত নির্মাতাদের। বিভিন্ন দেশের সরকার রাজনৈতিক কারণে ভিন্নমতাবলম্বী নির্মাতাদের সিনেমা অস্কারে পাঠাতে দিত না।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এ বিভাগে জায়গা পেতে দেশের অনুমোদনের প্রয়োজন হবে না। ইংরেজি ভাষার বাইরের কোনো সিনেমা যদি বার্লিন, বুসান, কান, সানড্যান্স, টরন্টো ও ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে সর্বোচ্চ পুরস্কার পায় তবে সিনেমাটি সরাসরি এ বিভাগে জায়গা পাবে। এতে লাগবে না দেশের অনুমোদন। এর ফলে এখন একটি দেশ থেকে একাধিক চলচ্চিত্রও একই বিভাগে মনোনয়ন পাওয়ার সুযোগ পাবে।
নির্বাচক কমিটি
এ ছাড়া, ইন্টারন্যাশনাল ফিচার ফিল্ম বিভাগে সিনেমা পাঠানোর ক্ষেত্রে প্রতিটি দেশে যে নির্বাচক কমিটি থাকে, তাদের গঠন এবং বাছাইপ্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখন থেকে একাডেমিকে দিতে হবে, যদি অস্কার কর্তৃপক্ষ চায়। এই প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই পরিবর্তন আনা হয়েছে।
দেশ নয় নির্মাতা
এছাড়াও, আরেকটি বড় পরিবর্তন এনেছে অস্কার কর্তৃপক্ষ। সেরা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র বিভাগের পুরস্কারটি এখন থেকে আর কোনো দেশের নামে দেয়া হবে না। পুরস্কারটি সরাসরি চলচ্চিত্রের পরিচালকের নামে স্বীকৃত হবে। যেমন, এ বছর নরওয়ের হয়ে বিভাগটি জিতেছিল ‘সেন্টিমেন্টাল ভ্যালু’। ছবিটি পরিচালনা করেছিলেন জোয়াকিম ট্রিয়ার কিন্তু আনুষ্ঠানিকভাবে পুরস্কারটি গিয়েছিল নরওয়ের নামে। নতুন নিয়মে এখন থেকে ট্রফিতে এবং অস্কারের আনুষ্ঠানিক নথিতেও দেশের নামের বদলে পরিচালকের নাম যুক্ত থাকবে।

একই বিভাগে একাধিক মনোনয়ন
অস্কারের ইতিহাসে একই ক্যাটাগরিতে দ্বৈত মনোনয়ন বিষয়টি আগে ছিলো না। আগে একজন শিল্পী একই বছরে দুটি ভিন্ন সিনেমার জন্য একই ক্যাটাগরিতে মনোনয়ন পেতে পারতেন না। তবে নতুন নিয়মের ফলে একজন অভিনেতা বা অভিনেত্রীর এখন একই বছরে দুটি ভিন্ন সিনেমার জন্য একই ক্যাটাগরিতে মনোনয়ন পাওয়ার পথ প্রশস্ত হয়েছে। অনেক সময় দেখা যায় একজন শিল্পী একই বছরে দুটি ভিন্ন সিনেমায় অসাধারণ অভিনয় করেছেন। আগে নিয়ম অনুযায়ী ওই অভিনেতা-নেত্রীকে কেবল একটির জন্যই মনোনীত করা হতো। নতুন এই পরিবর্তনের ফলে একজন শিল্পীর একাধিক ভালো কাজকে স্বীকৃতি দিতে পারবে একাডেমি কর্তৃপক্ষ।
তথ্যচিত্র ও অ্যানিমেশন
আরও বেশ কিছু নিয়মে গুরুত্বপূর্ণ বদল এনেছে একাডেমি কর্তৃপক্ষ। যার ফলে বাড়তি সুবিধা পাবে অ্যানিমেশন সিনেমা ও তথ্যচিত্র। যদি কোনো দেশ থেকে কোনো অ্যানিমেটেড বা ডকুমেন্টারি সিনেমাকে আন্তর্জাতিক ফিচার ফিল্ম বিভাগে পাঠানো হয়, তবে সেটি একই সঙ্গে ‘সেরা অ্যানিমেটেড ফিচার’ বা ‘সেরা ডকুমেন্টারি’ বিভাগেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবে। এ ছাড়া, কোনো সিনেমা অস্কারের তালিকায় স্থান পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির শর্তকে আরও কঠোর করা হয়েছে।
সেরা কাস্টিং
এ ছাড়া একাডেমি অব মোশন পিকচার আর্টস অ্যান্ড সায়েন্সেস আরও কিছু পরিবর্তন এনেছে। সেরা কাস্টিং বিভাগে একটি ছবির পক্ষে আগে সর্বোচ্চ দুজন মনোনয়ন-যোগ্য হতো। নতুন নিয়ম অনুযায়ী এখন সেই সংখ্যা বাড়িয়ে তিনজন করা হয়েছে। পাশাপাশি সেরা চিত্রগ্রহণ বিভাগের শর্টলিস্টে ২০ জনে নির্ধারণ করা হয়েছে।
ইউটিউব
২০২৭ সালের ১৪ মার্চ, যুক্তরাষ্ট্রের লস এঞ্জেলস শহরে, ৯৯তম অস্কার আয়োজন করা হবে। ২০২৯ সাল থেকে পরবর্তী ১০ বছরের জন্য অস্কারের আসর ডলবি থিয়েটারের পরিবর্তে বসবে পিকক থিয়েটার-এ। একই সঙ্গে সম্প্রচারের মাধ্যমেও আসছে বড় পরিবর্তন। দীর্ঘদিনের সম্প্রচার সহযোগী এবিসি আর থাকছে না। এবিসির পরিবর্তে অনুষ্ঠানটি সরাসরি সম্প্রচার করবে ইউটিউব।
সূত্র :


