শাম্মী ইসলাম নীলা
সম্প্রতি অভিনেত্রী শাম্মী ইসলাম নীলা সেরা নবাগত অভিনয়শিল্পী হিসেবে মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার পেয়েছেন। কিন্তু তাঁর সংগ্রামের গল্প অনেকেরই অজানা। মডেলিং দিয়ে ক্যারিয়ার শুরু করলেও পরে আসেন অভিনয়ে। তাঁর প্রথম নাটকের নাম ‘লাভ সাব’। তৌসিফ মাহবুবের সঙ্গে খুবই ছোট একটি চরিত্রে অভিনয় করেন। বর্তমানে তিনি দেশের ছোটপর্দার অন্যতম গ্ল্যামারাস অভিনেত্রীদের মধ্যে অন্যতম। তবে এই গ্ল্যামার আর প্রতিপত্তির পূর্বে তাঁর জীবন ছিলো বেশ কন্টকময়। এতো সহজ ছিলো না তাঁর জীবনযাত্রা। জানা গেছে, শাম্মী ইসলাম নীলা তাঁর বাবার চিকিৎসা করাতে অনলাইনে জামাকাপড়ও বিক্রি করতেন একসময়।

অভিনেত্রী শাম্মী তাঁর বাবাকে নিয়ে বেশসংগ্রাম করেছেন। সে দিনগুলোর কথা স্মরণ করে শাম্মী দেশের এক গণমাধ্যমকে বলেন, ‘চোখের সামনে দিনের পর দিন বাবাকে হাসপাতালের বেডে শুয়ে থাকতে দেখেছি। একসময় আমাদের আইসিইউ বিল দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত অর্থ ছিল না। অথচ বাবাই ছিলেন একমাত্র আয়ের মানুষ। তখন আমরা কেউই ভালো ছিলাম না। যখন আমার বন্ধুদের সঙ্গে হাসি-খেলা-আড্ডায় মেতে থাকার কথা, তখন আমাকে দায়িত্বের কথা ভাবতে হয়েছে।’
অনলাইনে জামাকাপড় বিক্রি
এই সংগ্রামের সময়ে নীলার বয়স ছিল মাত্র ১৭। এই অল্প বয়সেই এই সংগ্রামের দিনগুলোতে হাল ধরতে হয়েছে পরিবারের। এ নিয়ে তিনি বলেন, ‘ফেসবুকে নানা কিছু করার চেষ্টা করি। লাইভ করি, পোস্ট দিই, মার্কেটিংয়ের কাজ করি। ব্র্যান্ডিং করতেও শিখেছি। অনলাইনে জামাকাপড় বিক্রি করতে হয়েছে। যে কারণে অনেকেই বলতেন, “ও, জামাকাপড় বিক্রি করে আসছে, ওকে দিয়ে আর কী হবে।” নেতিবাচক কথা কানে নিইনি। কাপড় বিক্রি করেই আইসিইউর বিল দিয়েছি। আমার জার্নিটা এত সহজ ছিল না। পরিশ্রম করে আজকের স্থানে আমাকে আসতে হয়েছে।’

পরিবারের প্রয়োজনে ব্যবসা করেছেন, এরপর এলেন মডেলিংয়ে, অংশ নিয়েছেন ‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ’ প্রতিযোগিতায়। সেখানে সেরার পুরস্কার জেতার পর এলেন অভিনয়ে। অভিনয় থেকে এখন জিতলেন সেরার পুরস্কার।
দেশের নারীদের নিয়ে যা বললেন
জীবনের এই নানা ঘাত-প্রতিঘাতে অনেককিছু শিখেছেন অভিনেত্রী নীলা। তাঁর ভাষ্যে, ‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ হওয়ার পর একটা কথাই বারবার মনে হলো, আমাদের দেশের নারীদের ঠিকমতো কথা বলতে শেখাটা জরুরি। অনেক নারী মেধাবী। অথচ কতজন নিজের দক্ষতা তুলে ধরতে পারেন? এই প্ল্যাটফর্মে এসে আমি বুঝতে শিখেছি, বড় অর্জনের জন্য সুন্দর করে কথা বলতে হয়, সুন্দর চিন্তা করতে হয়, সর্বোপরি নিজের দক্ষতা অর্জন করতে হয়। আজ আমি বড় বড় প্রতিষ্ঠান, ব্র্যান্ডের সঙ্গে কাজ করি। এগুলো একদিনে হয়নি। প্রতিযোগিতা করে আমাকে টিকে থাকতে হয়েছে। নারী হিসেবে নয়, গুণ আছে বলেই আমি প্রায়োরিটি পাই।’

টিকে থাকা মানেই পরিশ্রম
তবে নীলা জানালেন অভিনয় নিয়ে তাঁর কোন স্কুলিং নেই, থিয়েটারেও যাননি কখনো। তাঁর কাছে জানতে চাওয়া হয় অভিনয়ে টিকে থাকার প্রসঙ্গ মাথায় এলে কি ভাবেন তিনি। এ নিয়ে তিনি বলেন,’ভাবছি অভিনয়ের মাধ্যমেই সহশিল্পীদের কাছ থেকে শিখব। সহশিল্পীদের ভালো জিনিসগুলোই আয়ত্ত করতে চাই। এর বাইরে পড়াশোনা, সিনেমা দেখা তো রয়েছেই। টিকে থাকা মানেই আমার কাছে পরিশ্রম।’
আরো যোগ করে নীলা বলেন, ‘আমার পথচলায় আশপাশের অনেকেই সহায়তা করেছেন। আমি দেখতে মিষ্টি ছিলাম, যার কারণে কেউ কখনোই অন্যভাবে দেখেনি। সবাই অনেক স্নেহ করতেন, ভালোবাসতেন। একটা কথাই বলব, যোগ্যতা দিয়েই সেরা নবাগত অভিনেত্রীর সম্মান পেয়েছি। এই সম্মান আমাকে অনেক দূরে নিয়ে যাবে। আরও অনেক অর্জন বাকি।’
এছাড়াও অভিনেত্রী শাম্মী ইসলাম নীলা জানালেন নাটক থেকে সামনে তিনি সিনেমায়ও কাজ করতে চান, নিজেকে আরো মেলে ধরতে চান।


