মা চিত্রনায়িকা মৌসুমীকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচারের অভিযোগে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন ছেলে ফারদিন এহেসান স্বাধীন। সংশ্লিষ্ট ফেসবুক পেজগুলোকে কনটেন্ট সরিয়ে নিতে ২৪ ঘণ্টার সময় দিয়েছেন তিনি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা সরানো না হলে উকিল নোটিশ পাঠানোর পাশাপাশি মামলা করার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন ঢাকাই চলচ্চিত্রের তারকা দম্পতি ওমর সানী ও মৌসুমীর ছেলে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দিবাগত রাত ১টা ৫৭ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে এ হুঁশিয়ারি দেন ফারদিন।
স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন, ‘২৪ ঘণ্টা সময় দিচ্ছি, তারপরে উকিল নোটিশ এবং মামলা। এই কথা বলার আগে তার কলিজা কতটুকু, সে বাংলাদেশের জন্ম কি না, সেটা আমার দেখা দরকার আছে। আমার মা হচ্ছে আমার মাথার তাজ। অনেক হয়েছে, প্যাকেট করে বাসায় যাও। এইসব ডিলিট করার সময় ২৪ ঘণ্টা, না হলে বাকিটা পরশু দেখা যাবে।’

ফারদিনের পোস্টে দুটি ফেসবুক পেজের স্ক্রিনশট দেখা যায়। তাঁর অভিযোগ, এসব পেজে ওমর সানী ও মৌসুমীর পরিবারকে নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ও কনটেন্ট প্রচার করা হচ্ছিল। পোস্টের সঙ্গে একটি ভিডিওর লিংকও শেয়ার করেন তিনি। তবে লিংকটিতে প্রবেশ করে ভিডিওটি আর পাওয়া যায়নি।
মৌসুমীকে নিয়ে ছড়ানো হয়েছিল যে অভিযোগ
এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মৌসুমীকে নিয়ে একটি অভিযোগ ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে দাবি করা হয়, ফারদিন কৌশলে পরিবারের সব সম্পত্তি নিজের নামে লিখিয়ে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে মাকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে অনলাইনে নানা ধরনের পোস্ট ছড়িয়ে পড়লে এর প্রতিবাদ জানান ওমর সানী।
এই অভিনেতা অভিযোগটিকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ফারদিন বর্তমানে দুবাইয়ে থাকেন, আর মৌসুমী অবস্থান করছেন যুক্তরাষ্ট্রে। যুক্তরাষ্ট্রে তাঁদের কোনো সম্পত্তি নেই বলেও দাবি করেন ওমর সানী। ফলে মৌসুমীকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার খবরের কোনো ভিত্তি নেই বলে জানান তিনি।

মাকে নিয়ে ছড়ানো এসব অভিযোগের বিরুদ্ধে ফারদিনের অবস্থানের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন বাবা ওমর সানীও। ছেলের ফেসবুক পোস্টটি নিজের টাইমলাইনে শেয়ার করে তাঁকে ধন্যবাদ জানান এই অভিনেতা।
পরিবারকে নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের অভিযোগে ফারদিনের এই কঠোর অবস্থান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর প্রতিবাদের বিষয়টিকে সামনে এনেছে। এখন সংশ্লিষ্ট পেজগুলো তাঁর দেওয়া ২৪ ঘণ্টার সময়সীমার মধ্যে কনটেন্ট সরিয়ে নেয় কি না, সেটিই দেখার বিষয়। নির্ধারিত সময়ের পর তিনি আইনি পদক্ষেপ নেন কি না, সে বিষয়েও পরবর্তী পরিস্থিতির দিকে নজর থাকবে।



