নব্বইয়ের দশকের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস, বন্ধুত্ব, প্রেম আর তারুণ্যের উচ্ছ্বাস নিয়ে নির্মিত হয়েছে চলচ্চিত্র ‘চিরকুট’। সত্য ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত সিনেমাটির টিজার, ট্রেলার ও গান প্রকাশের পর দর্শকদের আগ্রহ বেড়েছে। সব ঠিক থাকলে আগামী ১৬ অক্টোবর দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে মুনতাসির আকিব পরিচালিত সিনেমাটি।
‘চিরকুট’ এর গল্পের সূত্রপাত নব্বইয়ের দশকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘটে যাওয়া একটি সত্য ঘটনা থেকে। সেই সময়ের ক্যাম্পাসজীবন, মানুষের আবেগ, বন্ধুত্ব ও প্রেমের স্মৃতিকে পর্দায় তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন নির্মাতা। পুরোনো দিনের সেই গল্পের মধ্য দিয়ে দর্শকদের একটি বিশেষ সময়ের কাছে ফিরিয়ে নিতে চান তিনি।
ফিল্ম ম্যানিয়া প্রযোজিত সিনেমাটির গল্প, চিত্রনাট্য ও পরিচালনা করেছেন মুনতাসির আকিব। নির্মাতার লক্ষ্য, দর্শক যেন শুধু একটি ঘটনা দেখেই প্রেক্ষাগৃহ থেকে ফিরে না যান, বরং নব্বইয়ের দশকের ক্যাম্পাসজীবন ও সেই সময়ের আবেগও অনুভব করতে পারেন।

‘চিরকুট’ এ তারকাদের বড় দল
সিনেমাটির অন্যতম আকর্ষণ এর বড় অভিনয়শিল্পী দল। ‘চিরকুট’-এ অভিনয় করেছেন শ্যামল মাওলা, আজিজুন মিম, কাজী নওশাবা, সুমন পাটোয়ারী, তেহজিব, আবদুল্লাহ আল সেন্টু, সঞ্জিব আহমেদ, শাওন আশরাফ, ইকবাল, আজমল মিঠু, সিয়াম নাসির, শিমুল, সাদি খান, শামীম আহসান, শেখ চাঁদনী, মাহিরা হাসান ও ইব্রাহিম সুজনসহ অনেকে।
পেশাদার অভিনয়শিল্পীদের পাশাপাশি সিনেমাটিতে অংশ নিয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী। নির্মাতার তথ্যমতে, চলচ্চিত্রটিতে অভিনয় করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ২৫০ থেকে ৩০০ জন শিক্ষার্থী। তাঁদের অংশগ্রহণের ফলে ক্যাম্পাসের পরিবেশ ও শিক্ষার্থীদের জীবনযাত্রা বড় পরিসরে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

টিজার-ট্রেলারে সাড়া, আশাবাদী নির্মাতা
‘চিরকুট’ এর টিজার, ট্রেলার ও ‘প্রেমে গেলাম ডুবে’ গান প্রকাশের পর দর্শকদের কাছ থেকে পাওয়া সাড়ায় উচ্ছ্বসিত নির্মাতা মুনতাসির আকিব। তাঁর প্রত্যাশা, সিনেমাটি দর্শকদের কাছে নব্বইয়ের দশকের একটি বিশেষ সময়ের আবেগ ও স্মৃতি পৌঁছে দিতে পারবে।
নির্মাতা বলেন, “টিজার, ট্রেলার আর রোমান্টিক গান ‘প্রেমে গেলাম ডুবে’ রিলিজের পর থেকে এত রেসপন্স পাচ্ছি, যা দেখে আমি অভিভূত। চিরকুট একটি বিশুদ্ধ বাংলা সিনেমা। নব্বইয়ের দশকের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘটে যাওয়া একটি সত্য ঘটনা থেকেই ‘চিরকুট’ এর গল্পের সূত্রপাত। সেই সময়ের পরিবেশ, মানুষের আবেগ এবং ঘটনাটিকে সিনেমার ভাষায় তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। দর্শক যেন শুধু একটি গল্প দেখেন না, বরং একটি সময়কে অনুভব করতে পারেন, সেটাই আমাদের চেষ্টা। আশা করি, চিরকুট এবারের দুর্গাপূজার আনন্দ বাড়িয়ে দেবে।”
নব্বইয়ের দশকের ক্যাম্পাসজীবনের স্মৃতি আর বর্তমান সময়ের নির্মাণশৈলী মিলিয়ে তৈরি ‘চিরকুট’ কতটা দর্শক টানতে পারে, এখন সেই অপেক্ষা। আগামী ১৬ অক্টোবর প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির মধ্য দিয়ে দর্শকদের সামনে আসবে সিনেমাটি।






