‘দ্য দেবেরাকোন্ডা ফাউন্ডেশন’
বিয়ের পর এবার জনকল্যাণে নেমেছেন বিজয় দেবরাকোন্ডা ও রাশমিকা মান্দানা। সরকারি স্কুলের মেধাবী শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষায় সহায়তার লক্ষ্যে একটি বিশেষ বৃত্তি প্রকল্প চালু করেছেন বিজয় ও রাশমিকা দম্পতি। রবিবার (১৪ জুন) বিজয়ের বাবার পৈত্রিক গ্রাম তেলেঙ্গানার আচামপেট মণ্ডলের থুম্মানপেটে গিয়ে তারা এই উদ্যোগের সূচনা করেন। ‘দ্য দেবেরাকোন্ডা ফাউন্ডেশন’-এর মাধ্যমে এই অঞ্চলের ১৮০ জন শিক্ষার্থীকে এই বৃত্তি দেওয়া হচ্ছে।
নিজের ‘এক্স’ হ্যান্ডেলে বিজয় লিখেছেন তাঁর যাত্রার মুহূর্ত শেয়ার করে লেখেন, ‘আমরা থুম্মানপেটের পথে, যেখানে আমার বাবার জন্ম। গত ফেব্রুয়ারিতে রাশমিকা এবং আমি একটি ছোট স্বপ্ন পূরনের কথা ঘোষণা করেছিলাম। তেলেঙ্গানার আচামপেটের নবম ও দশম শ্রেণীর সব পরিশ্রমী শিক্ষার্থীদের পুরস্কৃত করা। এখানে ১৮০ জন শিশুর তালিকা দেওয়া হলো, যারা তাদের বাবা-মায়ের মুখ উজ্জ্বল করেছে।

অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বিজয় বলেন, ‘আপনাদের এই বৃত্তি দেওয়াটি আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমি আপনাদের জীবনের অংশ হতে চাই। নিজের গ্রাম দিয়ে শুরু করলাম, তবে ধীরে ধীরে আমার এই উদ্যোগ পুরো তেলেঙ্গানা জুড়ে ছড়িয়ে দিতে চাই। এটাই আমার স্বপ্ন।
স্থানীয় বাসিন্দারা গ্রামীণ সরকারি স্কুলের প্রতিভা বিকাশের এই পদক্ষেপকে দারুণভাবে স্বাগত জানিয়েছেন।
অনুষ্ঠানে রাশমিকাও বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, ‘আজ আমি ‘দ্য দেবরাকোন্ডা ফাউন্ডেশন’-এর মাধ্যমে একটি ভালো কাজ শুরু করছি। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমাদের শ্বশুরমশাইয়ের গ্রাম থেকে এটি শুরু করব। আজ আমি আপনাদের সামনে রাশমিকা মান্দানা দেবেরাকোন্ডা হিসেবে দাঁড়িয়ে কথা বলতে পেরে খুবই উচ্ছ্বসিত।
তিনি শিক্ষার্থীদের সাফল্য ও ব্যর্থতা-উভয়ই মেনে নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন।
‘দেবেরাকোন্ডা ফাউন্ডেশন’
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে উদয়পুরে তাঁদের রূপকথার মতো বিয়ের পর, ‘দেবেরাকোন্ডা ফাউন্ডেশন’-এর মাধ্যমে একটি বড় সামাজিক প্রকল্পের ঘোষণা করেন তাঁরা। এই প্রকল্পের আওতায় থুম্মানপেট এলাকার ৪৪টি সরকারি স্কুলের নবম ও দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের শিক্ষায় সহায়তা করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সময়মতো ফি প্রদান নিশ্চিত করা হচ্ছে, পাশাপাশি নোটবুক ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় শিক্ষাসামগ্রী সরবরাহ করা হচ্ছে। ফলে অভিভাবকদের আর্থিক চাপ অনেকটাই কমছে এবং আর্থিক সংকটের কারণে শিক্ষার্থীদের স্কুলছুট হওয়ার সম্ভাবনাও হ্রাস পাচ্ছে।
বিজয় সম্প্রতি জানান, এই প্রকল্পের প্রথম বছর সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। মোট ৪৫টি স্কুলের প্রায় ১৮০ জন শিক্ষার্থীকে বৃত্তি দেওয়া হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী দিনে এই উদ্যোগ আরও বড় পরিসরে বিস্তৃত হবে। ২০২৭ সালের জুন মাসে আবারও এই শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দেখা করার আশাও ব্যক্ত করেছেন তিনি।
সব মিলিয়ে, বিজয় দেবেরাকোন্ডা এবং রশ্মিকা মান্দানার এই উদ্যোগ শুধু একটি সামাজিক কাজ নয়, বরং সমাজে শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরার এক অনুপ্রেরণামূলক উদাহরণ।
অনুষ্ঠানটির বেশ কিছু ভিডিও অনলাইনে ভাইরাল হয়েছে। এর মধ্যে একটি ভিডিওতে রাশমিকাকে যত্নে বিজয়ের মুখের ঘাম মুছে দিতে দেখা যায়, যা ভক্তদের মাঝে বেশ সাড়া ফেলেছে। বাস্তব জীবনের পাশাপাশি পর্দাতেও আবার একসঙ্গে দেখা যাবে এই তারকা দম্পতিকে। ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে নির্মিত তাদের পরবর্তী সিনেমা ‘রণবালী’ আগামী ১১ই সেপ্টেম্বর বিশ্বব্যাপী মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে।


