বনলতা সেন-রকস্টার-রইদ
ঈদ মানেই বাংলা সিনেমার সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক যুদ্ধ। বছরে যত সিনেমাই মুক্তি পাক না কেন, প্রযোজক, পরিচালক, তারকা-সবার চোখ থাকে ঈদের বাজারে। কারণ এই একটি সময়েই দেশের প্রেক্ষাগৃহগুলোতে তৈরি হয় সবচেয়ে বড় দর্শকচাপ। ঈদুল আযহাকে ঘিরে এই প্রতিযোগিতার ময়দানে এবার আলোচনায় তিনটি ভিন্নধর্মী সিনেমা। ঈদে তিন সিনেমার লড়াই দেখা যাবে যার মধ্যে আছে ‘বনলতা সেন’, ‘রকস্টার’ ও ‘রইদ’।
বনলতা সেন সিনেমাটি সাহিত্য, সাহিত্যিক ও পরাবাস্তবতা নিয়ে নির্মিত। এদিকে রকস্টার তারুণ্য, মিউজিক ও বিদ্রোহী ব্যক্তিত্বকে কেন্দ্র করে তৈরি। অন্যদিকে ‘রইদ’ হাজির হচ্ছে লোককথার গল্প নিয়ে। আদতে সিনেমাটি আদম আর ঈভের সেই পুরাতন গল্প নিয়েই হাজির হচ্ছে।
সিনেমা ‘বনলতা সেন’

‘জীবনানন্দ দাশের কালজয়ী কবিতা ‘বনলতা সেন’ অবলম্বনে নির্মিত হচ্ছে চলচ্চিত্রটি। এটি নির্মাণ করেছেন মাসুদ হাসান উজ্জ্বল। ইতিমধ্যে সিনেমাটির প্রায় সব চরিত্রের আলাদা আলাদা পোস্টার প্রকাশ করেছেন নির্মাতা। পোস্টারগুলোর অভিনবত্ব দেখে মুগ্ধ হয়েছেন নেটিজেনরা। সিনেমায় জীবনানন্দ দাসের চরিত্রে আছেন অভিনেতা খায়রুল বাসার। আরো আছেন মাসুমা রহমান নাবিলা, সোহেল মণ্ডল, নাজিবা বাশারসহ অনেকে।

চলচ্চিত্রটির সঙ্গে যুক্ত আছেন পশ্চিমবঙ্গের বিশিষ্ট লেখক, জীবনানন্দ গবেষক এবং কলকাতা বাংলা একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত গৌতম মিত্র। প্রায় দশ বছর ধরে সিনেমাটির চিত্রনাট্য লিখেছেন মাসুদ হাসান উজ্জ্বল। এতে চিত্রনাট্যটি মোট ১২ বার সংশোধন করেছেন বলেও জানান গৌতম মিত্র।
সিনেমা ‘রকস্টার’
এবারের ঈদের অন্যতম আলোচিত সিনেমা হতে যাচ্ছে মেগাস্টার শাকিব খান অভিনীত এবং আজমান রুশো পরিচালিত ‘রকস্টার’। চরিত্রের প্রয়োজনে শাকিব খান ওজন কমিয়েছেন, লুকে এনেছেন আমূল পরিবর্তন, যা দেখে অবাক শাকিবভক্ত ও সমালোচক সকলেই।

এদিকে, নির্মাতা আজমান রুশো জানিয়েছেন, তিনি নির্মাণে আসার আগে একজন মিউজিশিয়ান ছিলেন। নিজের জীবন ও বাস্তব জীবনের রকস্টারদের সঙ্গে ঘটে যাওয়া নানা ঘটনার অভিজ্ঞতার মিশেলে এই গল্পটি তৈরি করেছেন তিনি।
সিনেমায় শাকিব খানের বিপরীতে রয়েছেন অভিনেত্রী সাবিলা নূর। এ ছাড়া আরও অভিনয় করেছেন মিস ইউনিভার্স বাংলাদেশ বিজয়ী মডেল ও অভিনেত্রী তানজিয়া জামান মিথিলা। শাকিব খান তাঁর ক্যারিয়ারে এমন চরিত্রে আগে অভিনয় করেননি, ফলে এটি শাকিব ভক্তদের জন্য সম্পুর্ণ একটি নতুন অভিজ্ঞতা।
সিনেমা ‘রইদ’
এছাড়াও এবারের ঈদে ব্যাপক আলোচনায় সিনেমা ‘রইদ’। কারণ এটি কেবল সিনেমা নয়, নির্মাতার ভাষ্যে এটি আবর্তিত হয়েছে আদম-হাওয়ার ঐতিহাসিক আখ্যান নিয়ে! গল্পে আছেন সাদু ও তাঁর পাগলা বউ তথা সাদুর বউ।

নির্মাতা সুমন জানান, ‘সাদু, তার পাগল স্ত্রী এবং তাদের বাড়ির পাশের তালগাছকে ঘিরে আবর্তিত এই গল্পে আমরা আদতে আদম ও হাওয়ার আদিম আখ্যানকেই খোঁজার চেষ্টা করেছি। আমরা সেই হাজার বছরের পুরনো আখ্যানকে বর্তমানে পুনর্নির্মাণ করেছি-তবে সময়ের বর্তমানে নয়, বরং অনুভূতির বর্তমানে।’
এছাড়া তিনি জানালেন এই ছবির প্রতিটি স্তরে জড়িয়ে আছে চিত্রশিল্পী এস এম সুলতানের দেখা গ্রামীণ বাংলার আবহ। ছবিটিতে আছেন মোস্তাফিজুর নূর ইমরান, নাজিফা তুষি, গাজী রাকায়েত, আহসাবুল ইয়ামিন রিয়াদ সহ আরও অনেকে।
তিন সিনেমায় কে এগিয়ে থাকবে?
ঈদের এই তিন সিনেমার প্রতিযোগিতা মূলত তিন ধরনের দর্শক-রুচির প্রতিনিধিত্ব করছে। ‘বনলতা সেন’ সাহিত্য, পরাবাস্তবতা ও নান্দনিক নির্মাণের মাধ্যমে বুদ্ধিবৃত্তিক দর্শকদের আকৃষ্ট করতে চাইছে। এদিকে ‘রকস্টার’ তারুণ্য, মিউজিক ও তারকাখ্যাতিকে কেন্দ্র করে বড় পরিসরের বাণিজ্যিক হাইপ তৈরি করেছে। আর ‘রইদ’ লোককথা, আদিম মানবিক অনুভূতি ও গ্রামীণ আবহকে আধুনিক ব্যাখ্যায় তুলে ধরে এক ধরনের বিকল্পধারার অভিজ্ঞতা দেওয়ার চেষ্টা করছে।
প্রতিযোগিতার দিক থেকে দেখলে, ‘রকস্টার’ গণ মানুষের আলোচনায় অনেক বেশি এগিয়ে আছে, যার অন্যতম কারণ শাকিব খান ও তাঁর নবজন্ম। তবে ‘বনলতা সেন’ শিল্প-সাহিত্য ও জীবনানন্দ ভক্তদের জন্য হতে পারে উত্তম সিনেমা।
অন্যদিকে ‘রইদ’ সবচেয়ে রহস্যময় ও ব্যতিক্রমধর্মী প্রকল্প হিসেবে কৌতূহল তৈরি করছে। এতে শিল্প -সাহিত্য, লোককথা, লোকজ দর্শন ও প্রতীকী গল্প পছন্দ করেন এমন মানুষদেরকে প্রাধান্য দিচ্ছে। তবে সব সিনেমারই উদ্দেশ্য থাকে গণ মানুষের কাছে জনপ্রিয় হবার। সেই দৌড়ে কে এগিয়ে থাকবে তা বক্স অফিসই বলে দেবে।


