কান ডকস ২০২৬
চলমান ৭৯তম কান উৎসবে চার বাংলাদেশি নির্মাতা গিয়েছেন তাঁদের প্রামাণ্যচিত্র নিয়ে। এই চারজন হলেন কাজী আরেফিন আহমেদ, চিত্ত আনন্দী, এস এম কামরুল আহসান ও সুমন দেলোয়ার। আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ দ্য চিটাগংয়ের উদ্যোগে তাঁরা অংশ নিয়েছেন কান ডকসে।
কান চলচ্চিত্র উৎসবের পাশাপাশি অনুষ্ঠিত হয় কান ডকস প্রোগ্রাম। এটি প্রামাণ্যচিত্র নির্মাতা, প্রযোজক, সম্প্রচারক এবং পরিবেশকদের জন্য বিশ্বের অন্যতম প্রধান একটি প্ল্যাটফর্ম। এই উৎসবটিও মঙ্গলবার (১২ মে) থেকে শুরু হয়েছে।
বাংলাদেশের এই নির্মাতাদের প্রতিনিধির নেতৃত্বে আছেন আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ দ্য চিটাগংয়ের প্রধান ব্রুনো লাক্রাম্প। মার্চে দ্যু ফিল্মের বিভিন্ন সভা, পিচিং সেশন ও নেটওয়ার্কিং আয়োজনে তাঁরা নিজেদের ডকুমেন্টারি চলচ্চিত্রের জন্য আন্তর্জাতিক সহপ্রযোজক, পরিবেশক ও অর্থায়নের সহযোগিতা খুঁজছেন।

চারটি গল্প
বাংলাদেশি এই চার নির্মাতার চলচ্চিত্রে ব্যক্তি ও সমাজের নানা সংকট, স্মৃতি, পরিচয় ও টিকে থাকার গল্প বলা হয়েছে। কাজী আরেফিন আহমেদের ‘অপেক্ষা’ নির্মিত হয়েছে তাঁর ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত দাদিকে কেন্দ্র করে। স্মৃতিভ্রংশের ভেতর একজন মানুষের ধীরে ধীরে হারিয়ে যাওয়ার বেদনাকে তিনি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে তুলে ধরছেন। একই ভাবনার একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের জন্য তিনি এর আগে আন্তর্জাতিক সমালোচক সংগঠন ফিপরেস্কি পুরস্কারও পেয়েছিলেন।
এছাড়া, সুমন দেলোয়ারের সিনেমা ‘মাই কাজিন’। এতে দেখা যায়, এইচআইভি পজিটিভ হয়ে দেশে ফিরে আসা এক প্রবাসী শ্রমিকের জীবনসংগ্রাম ও সামাজিক বিচ্ছিন্নতার গল্প।
এস এম কামরুল আহসানের ‘ইন সার্চ অব হার’ সিনেমায় দেখা যাবে দুই ডাচ দত্তক সন্তানের বাংলাদেশে ফিরে নিজেদের শিকড় খোঁজার যাত্রা। চিত্ত আনন্দীর (সুমাইয়া বিনতে সেলিম) ‘ব্লু-কলারস ফ্রম দ্য ফ্রন্টলাইন’ চলচ্চিত্রে উঠে এসেছে তিন প্রজন্মের নারীর শ্রম, বেঁচে থাকা ও সংগ্রামের গল্প।
কাজী আরেফিন আহমেদে বলেন, কানের মতো আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে অংশ নেওয়ার মাধ্যমে তাঁদের চলচ্চিত্র বিশ্বব্যাপী দর্শক, প্রযোজক ও চলচ্চিত্র-সংশ্লিষ্টদের সামনে পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ দ্য চিটাগংয়ের পাশাপাশি এই উদ্যোগে সহয়তা করেছে বিসুবো আর্ট অর্গানাইজেশন এবং ফরাসি সাংস্কৃতিক ও সৃজনশীল শিল্প কর্মসূচি (পিআইসিসি)।
আন্তর্জাতিক বাজারে শক্তিশালী গল্প
এর আগে আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ দ্য চিটাগং, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে চালু করা একটি উন্মুক্ত আহ্বানের মাধ্যমে প্রকল্পগুলো নির্বাচন করা হয়, যার পর একটি স্বচ্ছ ও বিস্তারিত জুরি মূল্যায়ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।
শৈল্পিক মান, স্বতন্ত্র দৃষ্টিভঙ্গি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে শক্তিশালী সম্ভাবনা তৈরি করতে পারবে এমন শক্তিশালী চারটি প্রকল্প নির্বাচন করা হয়েছে।
আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ দ্য চিটাগং বলছে, এই প্রকল্পগুলো সমসাময়িক বাংলাদেশী প্রামাণ্যচিত্রের বৈচিত্র্য ও গভীরতাকে তুলে ধরে, যা সামাজিক বাস্তবতায় প্রোথিত এবং বিশ্বব্যাপী সাড়া জাগানিয়া। কান ডকস-এ অংশগ্রহণ নির্বাচিত বাংলাদেশী দলগুলোকে আন্তর্জাতিক যৌথ প্রযোজনা, পরিবেশনা এবং দীর্ঘমেয়াদী সহযোগিতার সুযোগ করে দেবে।


