মাতিয়া বাণু শুকু
দেশের অন্যতম মেধাবী চিত্রনাট্যকার, নাট্যকার ও পরিচালক মাতিয়া বাণু শুকু । তিনি ভাষা সৈনিক আব্দুল মতিনের বড় মেয়ে। তিনি এ যাবতকালে বহু নাটক নির্মাণ করেছেন যা ব্যাপক দর্শকপ্রিয়তাও পেয়েছে। সর্বশেষ তিনি ‘লাল মোরগের ঝুটি’ সিনেমার প্রযোজনা করেছেন যা ২০২১ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছে। তার স্বামী আরেক গুণী নির্মাতা নুরুল আলম আতিক। বর্তমানে মাতিয়া বেশ অসুস্থ। আর সেকারণে মাতিয়া বাণু শুকু’র চিকিৎসার জন্য সরকারের কাছে সাহায্য চেয়ে তাঁর পরিবার।
পরিবারসূত্রে জানা গেছে, পরিচালক মাতিয়া বাণু শুকু ক্যানসারে আক্রান্ত এবং অনেকদিন ধরেই তিনি অসুস্থ। ক্যান্সারের চিকিৎসা ব্যয়বহুল হওয়াতে এর খরচ মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে শুকুর পরিবার। সেজন্য বর্তমান সরকারের কাছে সহযোগিতা চাইছে শুকুর পরিবার।

এই বিষয়ে দেশের গণমাধ্যমের সাথে কথা বলেছেন নির্মাতা নুরুল আলম আতিক। নুরুল আলম আতিক বলেন, ‘আসলে আমরা যারা নাটক ও চলচ্চিত্র নির্মাণ করি তাদের তো কোনো পেনশন নেই। কাজটাই আসল আমাদের কাছে। হঠাৎ করে কেউ ক্যানসারে আক্রান্ত হলে পরিবারের বাকি সদস্যদের ওপর দিয়ে ঝড় বয়ে যায়। আমাদের ওপর দিয়েও যাচ্ছে।’
তিনি আরো বলেন,‘বন্ধুদের সহযোগিতা পেয়েছি। কাছের মানুষদের সহযোগিতা পেয়েছি। আমার স্ত্রী মাতিয়া বাণু শুকু’র অনেক শুভাকাঙ্ক্ষী আছেন। সকলে আশীর্বাদ করবেন। সে যেন সুস্থ হয়ে যায়।’
সরকারের কাছে সাহায্যের আবেদন
সরকারের সহযোগিতার বিষয়ে নুরুল আলম আতিক বলেন, ‘আমরা শিল্পী মানুষ। দুজনই নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত। মাঝে শুকুকে চেন্নাই নিয়ে গেছি। অনেক টাকা খরচ হয়েছে। এই চিকিৎসা অনেক দিন করতে হবে। সেজন্য সরকারের সহযোগিতা চাইছি। সরকার পাশে দাঁড়ালে চিরকৃতজ্ঞ থাকব। আশা করছি সরকার পাশে দাঁড়াবে।’
মাতিয়া বানুকে চিকিৎসার জন্য আবারও চেন্নাই নিতে হবে কিনা-জানতে চাইলে নুরুল আলম আতিক বলেন, ‘ হ্যাঁ, নিতে হবে। ২৩ এপ্রিল অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়া আছে। কিছু কাগজ ঠিক করতে হচ্ছে। তাছাড়া অর্থের বিষয়টি তো আছেই।’

জানা গেছে, ৮ মাস আগে মাতিয়া বাণু শুকুর প্রথম ক্যান্সার ধরা পড়ে। এরপর তাকে চেন্নাই নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে বেশ কিছুদিন ছিলেন। কেমো দেওয়া হয়েছে এবং থেরাপিও দেওয়া হয়েছে। প্রতি সপ্তাহে একটি করে কেমো দিতে হয়েছে। এছাড়া ২১ দিন পর পর থেরাপি দেওয়া হয়েছে।
নুরুল আলম আতিক বলেন, ‘গত সপ্তাহে কেমো দেওয়া হয়েছে। কিছু পরীক্ষা করাতে হবে।’
সবশেষে এই নির্মাতা বলেন, ‘মানুষের কাছে শুকুরের জন্য দোয়া চাই। ভালোবাসা চাই। সবার ভালোবাসায় যেন সবকিছু ঠিক হয়ে যায়।’
মাতিয়া বাণু শুকু’র কর্মজীবন
মাতিয়া বাণু শুকু মেগা টেলিভিশন সিরিয়াল ‘লাবণ্য প্রভা’-এর চিত্রনাট্যকার হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন। ‘টু লেট’ ছবির মাধ্যমে তিনি পরিচালক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছেন। তার উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে ‘মন-এ মন-এ’, ‘ডেঙ্গু-র দিনগুলিতে প্রেম। এছাড়া তাঁর পরিচালিত আলোচিত ধারাবাহিকগুলো হচ্ছে-গোল্লাছুট, টু লেট, একটা কিনলে আরেকটা ফ্রি।
বেশ কয়েক বছর আগে মাতিয়া তাঁর কাজ নিয়ে গণমাধ্যমে জানিয়েছিলেন,“আমার বেশিরভাগ কাজই দৈনন্দিন ঘটনা থেকে অনুপ্রাণিত। আমার মনে হয়, দর্শকেরা দৈনন্দিন গল্পের সঙ্গে নিজেদের মেলাতে পারেন এবং একারণে তাঁরা আরও বেশি সংযুক্ত বোধ করেন।”
মাতিয়া তাঁর শিক্ষাজীবন ও কর্মজীবন নিয়ে বলেন, ‘আমি চারুকলার ছাত্রী ছিলাম। আমি চারুকলা ইনস্টিটিউটের প্রিন্ট মেকিং বিভাগ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেছি। বেশ কয়েক বছর আমি চিত্রকলা নিয়ে কাজ করেছি’। এছাড়াও তিনি জানান ভাস্কর্য চর্চার সাথেও তিনি নিযুক্ত ছিলেন।


