‘সেভ দ্য আর্থ! মিনিস্টার্স অ্যাওয়ার্ড’
জাপানের টোকিওভিত্তিক শর্টস ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল ‘শর্ট শর্টস ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল অ্যান্ড এশিয়া ২০২৬’এ পুরস্কার জিতেছেন বাংলাদেশি–কানাডীয় নির্মাতা ওয়াহিদ ইবনে রেজা। রেজা তাঁর অ্যানিমেশন চলচ্চিত্র ‘আফটার আস’ এর জন্য ফেস্টিভ্যালের ‘সেভ দ্য আর্থ! মিনিস্টার্স অ্যাওয়ার্ড’ পেয়েছেন। ওয়াহিদ ইবনে রেজার ‘আফটার আস’ পরিবেশ নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে বলেই এই পুরস্কার জিতেছেন তিনি।
২০০৮ সালে ‘স্টপ গ্লোবাল ওয়ার্মিং কম্পিটিশন’ নামে শুরু হওয়া এই উদ্যোগ পরে ২০১৩ সালে ‘সেভ দ্য আর্থ! কম্পিটিশন’ নামে বিস্তৃত হয়। ২০২০ সাল থেকে এটি আরও বড় পরিসরে পরিবেশ ও বৈশ্বিক বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে ‘সেভ দ্য আর্থ’ অ্যাওয়ার্ডস নামে পরিচালিত হচ্ছে। একই সঙ্গে উৎসবটি ‘ডেকো–কাতসু ওয়েনদান’ নামের একটি পাবলিক–প্রাইভেট উদ্যোগের সঙ্গেও যুক্ত, যার লক্ষ্য কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে একটি টেকসই সমাজ গঠন।

আফটার আস-এর গল্প
২০২৫ সালে কানাডায় নির্মিত হয় ‘আফটার আস’। চলচ্চিত্রটির দৈর্ঘ্য ৫ মিনিট ৫ সেকেন্ড। এতে মানবসভ্যতা বিলুপ্ত হওয়ার পর নীরব ধ্বংসস্তূপে একটি নেকড়ে ও একটি উলভারিনের গল্প দেখানো হয়েছে, যারা একে অপরের ওপর আস্থা তৈরির মাধ্যমে নতুন এক পৃথিবীর খোঁজে যাত্রা করে।
সিনেমাটি নিয়ে জাপানের পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, চলচ্চিত্রটি সহাবস্থানের মূল চেতনাকে প্রাণীর দৃষ্টিকোণ থেকে তুলে ধরে গভীরভাবে ভাবতে বাধ্য করে। ধ্বংসের পরও প্রকৃতির পুনর্জন্ম ও নতুন ভারসাম্যের সম্ভাবনাকে চলচ্চিত্রটি শক্তিশালীভাবে উপস্থাপন করেছে। এতে পরিবেশকে ‘দূর ভবিষ্যতের সংকট’ হিসেবে না দেখে ‘আজই পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয় বিষয়’ হিসেবে দেখানো হয়েছে, যা সব বয়স ও ভাষার দর্শকের মধ্যে সহমর্মিতা তৈরি করতে সক্ষম।
নির্মাতার পরিচয়
পরিচালক ওয়াহিদ ইবনে রেজা ভ্যাঙ্কুভার, কানাডাভিত্তিক একজন বাংলাদেশি–কানাডীয় নির্মাতা। তিনি এক দশকের বেশি সময় ধরে ভিএফএক্স ও অ্যানিমেশন ক্ষেত্রে কাজ করছেন। তিনি এমি জয়ী ও অস্কার মনোনীত নানা প্রকল্পেও কাজ করেছেন। তিনি সাধারণত সায়েন্স ফিকশন, ফ্যান্টাসি, কমেডি ও অ্যাকশন ঘরানার কাজ করেন।
তিনি ‘স্পাইডার-ম্যান: নো ওয়ে হোম’ এ কাজ করছেন। এর আগে তিনি ‘গেম অব থ্রোনস’, ‘ব্যাটম্যান বনাম সুপারম্যান: ডন অব জাস্টিস’, ‘ক্যাপ্টেন আমেরিকা: সিভিল ওয়ার’, ‘গার্ডিয়ানস অব দ্য গ্যালাক্সি ভলিউম ২’–সহ আরও অনেক জনপ্রিয় ও আলোচিত প্রজেক্টে কাজ করেছেন।
ওয়াহিদ ইবনে রেজা বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে যন্ত্রকৌশল (মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং) বিষয়ে বিএসসি ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। এরপর চলচ্চিত্র নির্মাণের প্রতি আগ্রহ থেকে তিনি কানাডার ইউনিভার্সিটি অব ব্রিটিশ কলাম্বিয়া–তে ফিল্ম প্রোডাকশন বিষয়ে বিএফএ (ব্যাচেলর অব ফাইন আর্টস) ডিগ্রি অর্জন করেন।
ডিগ্রি অর্জন করার পরে চাকরির খোঁজে ৮৪টি চলচ্চিত্র স্টুডিওতে আবেদন করেছিলেন তিনি কিন্তু একটির কাছ থেকেও ইতিবাচক সাড়া পাননি। জীবিকা নির্বাহের জন্য সে সময় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের একটি কল সেন্টারে কাজ করতেন। পরে অ্যানিমেশন স্টুডিও ‘বারডেল’-এ প্রোডাকশন অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে কাজের সুযোগ পেয়ে তাঁর পেশাজীবন শুরু করেন।
ওয়াহিদ ইবনে রেজা পুরস্কার গ্রহণ করে তাঁর অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, ‘এ চলচ্চিত্রের প্রযোজক ন্যাশনাল ফিল্ম বোর্ড অব কানাডার প্রতি কৃতজ্ঞ। তারা আমাকে সম্পূর্ণ সৃজনশীল স্বাধীনতা দিয়েছে, যা আমার জীবনে খুবই বিরল অভিজ্ঞতা।’
এই নির্মাতা আরও বলেন, ‘এই চলচ্চিত্র নির্মাণে যাঁরা কাজ করেছেন এবং যাঁরা ব্যক্তিগতভাবে সহযোগিতা করেছেন, সবার প্রতি কৃতজ্ঞ। আমার পাঁচ বছর বয়সী কন্যা সামারা ওয়াহিদকে পুরস্কারটি উৎসর্গ করছি। আমি আশা করি, আমরা একসঙ্গে এমন একটি পৃথিবী গড়ে তুলতে পারব, যেখানে সে ও তার প্রজন্ম আরও ভালোভাবে বড় হতে পারবে।’
পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত উৎসবের অনলাইন প্ল্যাটফর্মে চলচ্চিত্রটি প্রদর্শিত হবে।


