আইসিসির প্রশংসায় দীপিকা
নারী ক্রিকেটারদের জন্য আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) নতুন মাতৃত্বকালীন নির্দেশিকার প্রশংসা করেছেন বলিউড অভিনেত্রী দীপিকা পাড়ুকোন । খেলাধুলার জগতে নারীদের জন্য এই উদ্যোগকে তিনি একটি “যুগান্তকারী” এবং “ঐতিহাসিক” পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
সম্প্রতি নারী ক্রিকেটারদের মাতৃত্বকালীন সময় এবং সন্তান জন্মদানের পর মাঠে ফেরার প্রক্রিয়াকে আরও সহজ ও সহায়ক করতে নতুন নীতিমালা চালু করেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল। এই ঘোষণার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে নিজের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানান দীপিকা।
বর্তমানে দীপিকা ও তার স্বামী রণবীর সিং তাদের দ্বিতীয় সন্তানের অপেক্ষায় রয়েছেন। মা হতে যাওয়া এই অভিনেত্রী ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে আইসিসির নতুন নীতিমালা সম্পর্কিত একটি প্রতিবেদন শেয়ার করে এর গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি মনে করেন, পেশাদার ক্রীড়াজগতে নারীদের জন্য এ ধরনের সহায়ক নীতি দীর্ঘদিনের একটি প্রয়োজন ছিল।

আইসিসির নতুন নির্দেশিকার মূল লক্ষ্য হলো, কোনো নারী ক্রিকেটার যেন মা হওয়ার কারণে তার পেশাগত ক্যারিয়ার থেকে ছিটকে না পড়েন। সন্তান জন্মদানের পর খেলোয়াড়দের শারীরিক ও মানসিকভাবে পুনরায় প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে ফিরতে সহায়তা করাই এই উদ্যোগের প্রধান উদ্দেশ্য।
মাতৃত্বকালেও সুরক্ষিত থাকবে ক্যারিয়ার
নতুন নীতিমালার আওতায় নারী ক্রিকেটাররা চিকিৎসা সহায়তা, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা, ব্যক্তিগত পুনর্বাসন পরিকল্পনা, শিশু পরিচর্যা সহায়তা, ভ্রমণ সুবিধা এবং চুক্তিগত নিরাপত্তা পাবেন। ফলে মাতৃত্বকালীন সময়েও তাদের পেশাগত ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা কমবে।
ক্রিকেট প্রশাসকদের মতে, এই উদ্যোগের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো , নারী ক্রীড়াবিদদের আর মা হওয়া এবং ক্যারিয়ারের মধ্যে কোনো একটি বেছে নেওয়ার চাপের মুখে পড়তে হবে না। বরং তারা পরিবার ও পেশাজীবনের মধ্যে একটি স্বাস্থ্যকর ভারসাম্য বজায় রাখতে পারবেন।
নারীদের অধিকার, কর্মক্ষেত্রে সমতা এবং মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে বরাবরই সরব দীপিকা পাড়ুকোন। অতীতেও তিনি কর্মক্ষেত্রে নারীবান্ধব পরিবেশ, নির্দিষ্ট কর্মঘণ্টা, মাতৃত্বকালীন সহায়তা এবং মানসিক সুস্থতার মতো বিষয়গুলো নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলেছেন। তাই আইসিসির এই পদক্ষেপকে তিনি নারীদের ক্ষমতায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে দেখছেন।

আইসিসি মেডিক্যাল অ্যাডভাইজরি কমিটির তৈরি করা এই কাঠামোটি ক্রিকেটের ইতিহাসে প্রথম আনুষ্ঠানিক মাতৃত্বকালীন সহায়তা ব্যবস্থা। এটি ছয়টি ধাপে পরিচালিত হবে এবং একজন খেলোয়াড়কে ধাপে ধাপে সুস্থ হয়ে প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে ফিরতে সহায়তা করবে।
ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, এই নীতিমালা শুধু বর্তমান ক্রিকেটারদের জন্যই নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নারী খেলোয়াড়দের জন্যও একটি ইতিবাচক বার্তা বহন করছে। এর মাধ্যমে বিশ্ব ক্রিকেটে নারী ক্রীড়াবিদদের জন্য আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সহায়ক পরিবেশ গড়ে তোলার পথ প্রশস্ত হবে।
দীপিকার প্রশংসা এবং আইসিসির নতুন উদ্যোগ, দুটিই এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, এটি নারী ক্রীড়াবিদদের অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে থাকবে।


