২৬ জুন মুক্তি পাচ্ছে সুপারগার্ল সিনেমাটি
নতুন সুপারগার্ল বাংলাদেশে আসছে ২৬ জুন। দীর্ঘ ৪২ বছর পর আবারও বড় পর্দায় ফিরছে জনপ্রিয় এই চরিত্র। ১৯৮৪ সালে মুক্তি পাওয়া প্রথম ‘সুপারগার্ল’ সিনেমাটি বক্স অফিসে প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। সমালোচকদের নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার কারণে নারী সুপারহিরো-কেন্দ্রিক চলচ্চিত্রের ভবিষ্যৎও একসময় অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল। তবে, এবার নতুন সুপারগার্ল বাংলাদেশে মুক্তির খবর ইতোমধ্যে ভক্তদের মধ্যে উচ্ছ্বাস তৈরি করেছে।

একই দিনে বিশ্বব্যাপী ও বাংলাদেশে মুক্তি
এবার সেই অধ্যায়ের নতুন সূচনা হতে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক মুক্তির দিনেই নতুন সুপারগার্ল বাংলাদেশে প্রদর্শিত হবে স্টার সিনেপ্লেক্সে। ২৬ জুন বিশ্বজুড়ে মুক্তি পাবে ডিসি ইউনিভার্সের বহুল প্রতীক্ষিত সিনেমাটি। ফলে বাংলাদেশের দর্শকদের আলাদা করে অপেক্ষা করতে হবে না।
সিনেমাটির কেন্দ্রীয় চরিত্র কারা জোর-এল বা সুপারগার্লের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন মিলি অ্যালকক। ‘হাউস অব দ্য ড্রাগন’ সিরিজে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি আগেই দর্শকদের নজর কেড়েছিলেন। ২০২৫ সালে জেমস গানের ‘সুপারম্যান’ সিনেমায় কয়েক সেকেন্ডের উপস্থিতিতেই আলোচনায় আসেন তিনি। এবার পূর্ণাঙ্গ চরিত্রে তাকে দেখা যাবে বড় পর্দায়।
সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন ক্রেইগ গিলেস্পি। এর আগে ‘আই, টনিয়া’ এবং ‘ক্রুয়েলা’র মতো আলোচিত চলচ্চিত্র নির্মাণ করে তিনি প্রশংসা কুড়িয়েছেন। অভিনয়ে আরও রয়েছেন ম্যাথিয়াস শোনার্টস, ইভ রিডলি, ডেভিড ক্রামহোল্টজ, এমিলি বিচাম, ডেভিড কোরেনসওয়েট এবং জেসন মোমোয়া।

গল্পে থাকছে অন্ধকার ও আবেগঘন যাত্রা
এই সিনেমার গল্পে দেখা যাবে, সুপারম্যানের মতো সুখী শৈশব পায়নি কারা জোর-এল। ধ্বংসপ্রাপ্ত ক্রিপ্টনের একটি অংশে বেড়ে ওঠায় তাকে ছোটবেলা থেকেই মৃত্যু ও ধ্বংসের সাক্ষী হতে হয়েছে। ফলে তার ব্যক্তিত্ব অনেক বেশি কঠোর এবং বাস্তবধর্মী।
গল্পে নিজের পোষা কুকুর ক্রিপ্টোকে নিয়ে মহাকাশ ভ্রমণে বের হয় সুপারগার্ল। সেখানে তার পরিচয় হয় রুথি নামের এক কিশোরীর সঙ্গে। রুথির পরিবারকে হত্যা করা এক দস্যু নেতার বিরুদ্ধে ন্যায়বিচার ও প্রতিশোধের অভিযানে নামে তারা। সেই যাত্রাই সিনেমার মূল আকর্ষণ হয়ে উঠবে।
ভক্তদের অন্যতম আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু লোবো চরিত্র। প্রথমবারের মতো লাইভ-অ্যাকশন সংস্করণে দেখা যাবে জনপ্রিয় এই মহাকাশ ভাড়াটে শিকারিকে। চরিত্রটিতে অভিনয় করেছেন জেসন মোমোয়া। নির্মাতাদের দাবি, কমিকসের মূল চরিত্রের প্রতি যথাসম্ভব বিশ্বস্ত থেকেই লোবোকে উপস্থাপন করা হয়েছে।
ট্রেলারেই মিলেছে ইতিবাচক সাড়া
ট্রেলার প্রকাশের পর থেকেই সিনেমাটি নিয়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা। অনেক দর্শকের মতে, এটি প্রচলিত সুপারগার্ল গল্পের চেয়ে বেশি পরিণত, আবেগঘন এবং অন্ধকারধর্মী। কেউ কেউ এর ভিজ্যুয়াল স্টাইলের সঙ্গে ‘ম্যাড ম্যাক্স: ফিউরি রোড’ ও ‘গার্ডিয়ানস অব দ্য গ্যালাক্সি’র তুলনাও করেছেন।
শুধু একটি একক সুপারহিরো সিনেমা হিসেবেই নয়, নতুন ডিসি ইউনিভার্স নির্মাণের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবেও দেখা হচ্ছে এই চলচ্চিত্রকে। সুপারম্যানের পাশাপাশি সুপারগার্লকে কেন্দ্রীয় নায়ক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার পরিকল্পনার বড় পদক্ষেপ হতে পারে এই সিনেমা।