২ দিনের রিমান্ডে মিলেছে ‘গুরুত্বপূর্ণ তথ্য’
স্ত্রীকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় দুই দিনের রিমান্ডে শেষে যাহের আলভী কারাগারে। মঙ্গলবার তাকে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে আদালত যাহের আলভীকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এ সময় পুলিশ জানায়, রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে যাহের আলভী মামলার তদন্তে সহায়ক গুরুত্বপূর্ণ দিয়েছেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের মিরপুর জোনাল টিমের ইন্সপেক্টর আব্দুল মালেক আদালতে বলেন, আসামিকে বিভিন্নভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে মামলার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলেছে এবং প্রাথমিকভাবে ঘটনার সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার তথ্যও পাওয়া গেছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে রাখা প্রয়োজন বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়।

শুনানির সময় যাহের আলভীকে এজলাসে তোলা হলেও তার পক্ষে কোনো জামিন আবেদন করা হয়নি। বাদীপক্ষের আইনজীবী আবজাল হোসাইন মৃধা মামলায় আর কারও সম্পৃক্ততা থাকলে তা লিখিতভাবে আদালতকে জানানোর আবেদন করেন। পরে বিচারক আলভীর কাছে কিছু বলার আছে কি না জানতে চাইলে তিনি মাথা নেড়ে ‘না’ বলেন।
এ ছাড়া রিমান্ডে কোনো ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়েছেন কি না জানতে চাইলে আলভী বলেন, ‘না’। এরপর আদালত যাহের আলভী কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
গত ১৮ জুন আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেছিলেন যাহের আলভী। তবে আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠান। পরে ২১ জুন পুলিশ তার ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করে। ২৪ জুন শুনানি শেষে আদালত দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এর আগে ৪ জুন একই মামলায় আত্মসমর্পণ করে জামিন পান আলভীর মা নাসরিন সুলতানা।
মামলার নথি অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পল্লবী ডিওএইচএসের একটি বাসা থেকে আলভীর স্ত্রী ইকরাকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরিবারের সদস্যরা তাকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে।
ইকরার মৃত্যুর রাতেই তার বাবা কবির হায়াত খান পল্লবী থানায় মামলা করেন। অভিযোগে তিনি দাবি করেন, দীর্ঘদিনের পারিবারিক কলহ ও বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের কারণেই ইকরা আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছেন। বর্তমানে মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।