থালাপতি বিজয়ের দেহরক্ষীর পোস্ট ঘিরে রহস্য
থালাপতি বিজয় মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন রোববার সকালে। চেন্নাইয়ের নেহরু স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় থালাপতি বিজয়ের শপথ অনুষ্ঠান। এতে উপস্থিত ছিলেন রাজনৈতিক ও চলচ্চিত্রের অনেক তারকা ও বিশিষ্ট ব্যক্তি। এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে বিজয়ের দীর্ঘদিনের দেহরক্ষীর একটি রহস্যময় ইনস্টাগ্রাম পোস্ট। থালাপতি বিজয় মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথের খবর ঘিরে সমর্থকদের মধ্যে শুরু হয়ে ব্যাপক আলোচনা।

সেখানে লেখা ছিল, “মহাবিশ্ব কখনো ভুল করে না। ধৈর্য ধরুন… বড় কিছু হতে যাচ্ছে।” পোস্টের শেষে ছিল “হ্যাপি ডে” বার্তা। এই পোস্ট ঘিরে টিভিকে সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। অনেকেই এটিকে বিজয়ের মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন।
যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেননি বিজয় বা তার দল। তবে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা আরও বেড়েছে। কারণ নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই বিভিন্ন বক্তব্যে আশাবাদের ইঙ্গিত দিয়ে আসছিলেন তিনি।

তামিলনাড়ুতে বিজয়ের বড় রাজনৈতিক চমক
তামিল চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় নায়ক থেকে রাজনীতিতে এসে এবার বড় চমক দেখিয়েছেন বিজয়। তার দল তামিলাগা ভেট্রি কাজাগাম (টিভিকে) তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনে একক বৃহত্তম দল হিসেবে উঠে এসেছে। ২৩৪ সদস্যের বিধানসভায় সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ছিল ১১৮ আসন। টিভিকে পেয়েছে ১০৮টি আসন। পরে বিদুথালাই চিরুথাইগাল কাচ্চি (ভিসিকে) ও ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লিগ (আইইউএমএল) এর সমর্থনে জোটের আসন সংখ্যা দাঁড়ায় ১২০-এ।
রাজ্যপালের সঙ্গে বৈঠক বিজয় থালাপতির
সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত হওয়ার পর শনিবার রাজ্যপালের সঙ্গে বৈঠক করেন থালাপতি বিজয়। এরপরই সরকার গঠনের পথ পুরোপুরি পরিষ্কার হয়ে যায়। দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে নিয়ে তিনি সমর্থনপত্র জমা দেন। কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়া (সিপিআই) ও সিপিআই(এম) এর সমর্থনও তার জোটকে আরও শক্তিশালী করেছে।

তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে সিনেমার প্রভাব বহু পুরোনো। এম জি রামাচন্দ্রন, জয়ললিতা ও করুনানিধির মতো নেতাদের উত্থানও হয়েছিল চলচ্চিত্রজগত থেকে। সেই ধারাবাহিকতায় এবার নতুন রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছেন থালাপতি বিজয়। বিশ্লেষকদের মতে, তরুণ ভোটারদের বিপুল সমর্থনই তাকে এই অবস্থানে নিয়ে এসেছে।
টিভিকে সদর দপ্তরে উৎসবের আমেজ
নির্বাচনের পর টিভিকে সদর দপ্তরে উৎসবের আমেজ দেখা গেছে। সমর্থকদের উদ্দেশে বিজয় বলেন, “উল্লাস শুরু করো।” দক্ষিণি চলচ্চিত্র অঙ্গনের অনেক তারকাও প্রকাশ্যে তার প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। অভিনেতা বিশাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, “টিভিকেকে ছাড়া তামিলনাড়ুর কোনো রাজনৈতিক জোট কল্পনাই করা যায় না।”
সব নজর চেন্নাইয়ের নেহরু স্টেডিয়ামের দিকেই ছিলো । কারণ শপথের মধ্য দিয়েই দক্ষিণি সিনেমার জনপ্রিয় নায়ক থালাপতি বিজয়ের রাজনৈতিক অধ্যায়ের নতুন সূচনা হয়েছে।

