অস্তিত্বের লড়াইয়ে পূর্ণিমার সচেতনতার বার্তা
পূর্ণিমার অস্তিত্বের লড়াই প্রমাণ্যচিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে আবারও ফিরেছেন আলোচনায়। দীর্ঘদিন অভিনয় থেকে দূরে থাকা এই নায়িকা এবার অংশ নিয়েছেন একটি সচেতনতামূলক প্রামাণ্যচিত্রে। অভিনয় ও সৌন্দর্য দিয়ে এক সময় দর্শকদের মন জয় করা পূর্ণিমা বর্তমানে খুব বেছে কাজ করেন। পূর্ণিমার অস্তিত্বের লড়াই প্রমাণ্যচিত্র ঘিরে ভক্তদের মধ্যেও তৈরি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ।

ভোলার দুর্যোগ নিয়ে নির্মিত ‘অস্তিত্বের লড়াই’
১৯৭০ সালে ভোলায় ঘটে যাওয়া ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগকে কেন্দ্র করে নির্মিত হয়েছে পূর্ণিমার অস্তিত্বের লড়াই প্রামাণ্যচিত্রটি। ‘প্রেমের তাজমহল’খ্যাত নির্মাতা গাজী মাহবুব এটি পরিচালনা করেছেন। প্রামাণ্যচিত্রটির নাম রাখা হয়েছে ‘অস্তিত্বের লড়াই’। সম্প্রতি বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন (এফডিসি)-তে এর দৃশ্যধারণ শেষ হয়েছে।
১৯৭০ সালের বন্যার স্মৃতি এবার প্রামাণ্যচিত্রে
মানবসুর উন্নয়ন সংস্থা (মাউস)-এর জন্য নির্মিত এই প্রামাণ্যচিত্রের পরিকল্পনা ও গ্রন্থনা করেছেন সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সোহরাব লাভু। জানা গেছে, এতে তুলে ধরা হবে ১৯৭০ সালের ভয়াবহ বন্যার মর্মান্তিক স্মৃতি। পাশাপাশি বর্তমান জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় মানুষের করণীয় বিষয়ও দেখানো হবে।

ভালো কাজের সঙ্গেই থাকতে চান পূর্ণিমা
পূর্ণিমা বলেন, “প্রামাণ্যচিত্রের ভাবনা ভালো লাগায় মানুষকে সচেতন করার দায়িত্ববোধ থেকে কাজটি করেছি। আমি সবসময় ভালো কাজের সঙ্গে থাকতে চাই।” এই মন্তব্যের পর থেকেই পূর্ণিমার অস্তিত্বের লড়াই প্রামাণ্যচিত্রটি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, সামাজিক সচেতনতার এমন কাজে তার অংশগ্রহণ প্রশংসার দাবি রাখে।
অনলাইনেও আসছে ‘অস্তিত্বের লড়াই’
গাজী মাহবুব জানান, জলবায়ু সহনশীল বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যেই নির্মিত হয়েছে এই প্রামাণ্যচিত্র। মানবসুর উন্নয়ন সংস্থার উদ্যোগে আয়োজিত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা স্বেচ্ছাসেবক প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে এটি প্রদর্শন করা হবে। পরে এটি অনলাইনেও প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন নির্মাতা।
অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা প্রায় দুই হাজার স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনকে বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ ও সনদ দেওয়া হবে। প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য সংস্থাটির ফেসবুক পেইজে প্রকাশ করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন সোহরাব লাভু।
শিশুশিল্পী থেকে নায়িকা, পূর্ণিমার পথচলা
১৯৮৪ সালের ১১ জুলাই চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে জন্ম নেওয়া পূর্ণিমার শৈশব কেটেছে সেখানেই। পরে ঢাকায় এসে খুব অল্প বয়সেই চলচ্চিত্রে পা রাখেন তিনি। নবম শ্রেণিতে পড়ার সময় শিশুশিল্পী হিসেবে ‘শত্রু ঘায়েল’ সিনেমায় প্রথম অভিনয় করেন। এরপর মাত্র ১৭ বছর বয়সে পরিচালক জাকির হোসেন রাজু পরিচালিত ‘এ জীবন তোমার আমার’ সিনেমার মাধ্যমে নায়িকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। প্রথম ছবিতেই তাঁর বিপরীতে ছিলেন রিয়াজ। সেই শুরু থেকেই দর্শকদের হৃদয়ে জায়গা করে নেন তিনি।

নাচ-গান-অভিনয়ে সমান পারদর্শী পূর্ণিমা
চলচ্চিত্রের পাশাপাশি ছোটবেলা থেকেই নাচ ও গানের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন পূর্ণিমা। ব্যস্ত ক্যারিয়ারেও নিয়মিত নাটক ও টেলিফিল্মে কাজ করেছেন। জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘লাল নীল বেগুনী’ তাঁকে টিভি দর্শকদের কাছেও আলাদা পরিচিতি এনে দেয়। এছাড়া ‘ল্যাবরেটরি’, ‘নিলিমার প্রান্তে’, ‘অমানিশা’, ‘শঙ্খচিল’ ও ‘লাভ অ্যান্ড কোং’-সহ বহু নাটকে তাঁর অভিনয় প্রশংসিত হয়েছে।
‘মনের মাঝে তুমি’ আজও দর্শকের হৃদয়ে
ঢালিউডের অসংখ্য জনপ্রিয় নায়কের সঙ্গে জুটি বেঁধে অভিনয় করেছেন পূর্ণিমা। মান্না, ফেরদৌস, আমিন খান, শাকিল খান থেকে শুরু করে শাকিব খান—সবার সঙ্গেই তাঁর রসায়ন দর্শকপ্রিয়তা পেয়েছে। তবে সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়তা পায় রিয়াজ-পূর্ণিমা জুটি। ‘মনের মাঝে তুমি’, ‘হৃদয়ের কথা’ ও ‘আকাশ ছোঁয়া ভালোবাসা’র মতো সিনেমাগুলো দর্শকদের মনে এখনো বিশেষ জায়গা দখল করে আছে।

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও পেয়েছেন পূর্ণিমা
অভিনয়ে সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে ২০১০ সালে কাজী হায়াৎ পরিচালিত ‘ওরা আমাকে ভালো হতে দিল না’ ছবির জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন পূর্ণিমা। এছাড়া ‘মনের মাঝে তুমি’ ও ‘হৃদয়ের কথা’ সিনেমার জন্য পেয়েছেন মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কারও।
‘জ্যাম’ ও ‘গাঙচিল’ নিয়ে অপেক্ষায় পূর্ণিমা
ব্যক্তিজীবনে ২০০৭ সালে আহমেদ জামাল ফাহাদের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন এই অভিনেত্রী। তাঁদের ঘর আলো করে জন্ম নেয় কন্যা আরশিয়া উমাইজা। পরবর্তীতে সেই সংসারের ইতি টেনে আশফাকুর রহমান রবিনের সঙ্গে নতুন জীবন শুরু করেন তিনি।
বর্তমানে চলচ্চিত্রে খুব বেশি নিয়মিত না হলেও তাঁর অভিনীত ‘জ্যাম’ ও ‘গাঙচিল’ সিনেমা মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে। এ দুই ছবিতে তাঁর সহশিল্পী হিসেবে আছেন ফেরদৌস এবং আরেফিন শুভ।
বড় পর্দায় উপস্থিতি কমলেও টেলিভিশনের পর্দায় এখনো নিয়মিত দেখা মেলে পূর্ণিমার। কখনো উপস্থাপক, কখনো বিচারক , বিভিন্ন আয়োজনে তিনি এখনো দর্শকদের কাছে সমান আকর্ষণের নাম। সৌন্দর্য, ব্যক্তিত্ব আর অভিনয় দক্ষতার মিশেলে তাই আজও তিনি ঢালিউডের অন্যতম অনন্য নক্ষত্র।
দর্শকদের ভাবনায় নাড়া দেবে ‘অস্তিত্বের লড়াই’
পূর্ণিমার অস্তিত্বের লড়াই প্রামাণ্যচিত্রে আরও অংশ নিয়েছেন বরেণ্য নির্মাতা কাজী হায়াৎ, অভিনেতা শিবা শানু, অভিনেত্রী তানহা তাসনিয়া, শিরিন শিলা, মৌ খান ও জয় চৌধুরীসহ আরও অনেকে। সচেতনতার বার্তা নিয়ে নির্মিত এই প্রামাণ্যচিত্র দর্শকদের নতুনভাবে ভাবতে শেখাবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
