নির্বাচনের আগে আইনি জটিলতায় থালাপতি
থালাপতি বিজয়ের বিরুদ্ধে মামলা করেছে চেন্নাই পুলিশ। নির্ধারিত নিয়ম ভেঙে চেন্নাইয়ের ব্যস্ত এলাকায় রোডশো করার অভিযোগ তার বিরুদ্ধে। এর ফলে নির্বাচনের আগে আইনি জটিলতায় জড়িয়েছেন জনপ্রিয় অভিনেতা ও রাজনীতিক দল তামিলাগা ভেটরি কাজাগম এর প্রধান থালাপতি বিজয়।
পুলিশের অনুমতি ভেঙে বিজয়ের রোডশো
পুলিশের দাবি, বিজয়কে নির্দিষ্ট একটি স্থানে রাজনৈতিক কর্মসূচি করার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি সেই নির্দেশনা না মেনে চেন্নাইয়ের টি নগর, থাউজ্যান্ড লাইটস ও এগমোরসহ একাধিক ব্যস্ত এলাকায় রোডশো করেন। এতে হাজারো সমর্থক রাস্তায় নেমে আসেন এবং শহরের প্রধান সড়কে ব্যাপক যানজট সৃষ্টি হয়।

বিজয়ের নামে মামলায় রাজনৈতিক উত্তেজনা
নির্বাচন কমিশনের ফ্লাইং স্কোয়াডের অভিযোগের ভিত্তিতে এই মামলা দায়ের করা হয়। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ২২৩ ধারায় মামলা করা হয়েছে। এ ঘটনায় টিভিকে দলের আরও কয়েকজন নেতার নামও যুক্ত রয়েছে। তবে এখনো থালাপতি বিজয় বা তাঁর দল কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি। এই থালাপতি বিজয়ের নামে মামলা নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

আদালতের সিদ্ধান্তের দিকে সবার নজর
বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনার ফলে নির্বাচনী পরিবেশে নতুন চাপ তৈরি হয়েছে। বিজয় তার নতুন রাজনৈতিক দল তামিলাগা ভেটরি কাজাগম (টিভিকে) নিয়ে নির্বাচনে বড় ভূমিকা রাখতে চাইছিলেন। কিন্তু এই বিতর্ক তাঁর প্রচারণায় প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সমর্থকদের বড় সমাগম যেমন তাঁর জনপ্রিয়তা দেখায়, তেমনি প্রশাসনিক নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগ নতুন প্রশ্নও তুলছে। এখন সবার নজর আদালতের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।
বিজয়ের সিনেমা জন নায়গন পাইরেসির শিকার
এদিকে, থালাপতি বিজয় মামলা শুধু রাজনীতিতেই সীমাবদ্ধ নয়, তাঁর সিনেমা জগতেও বড় ধাক্কা লেগেছে। তাঁর বহুল আলোচিত সিনেমা ‘জন নায়গন’ মুক্তির আগেই পাইরেসির শিকার হয়েছে।
প্রথমে কিছু দৃশ্য ফাঁস হয়, পরে পুরো ছবির এইচডি সংস্করণ অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ে। এই ঘটনায় সাইবার ক্রাইম বিভাগ ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে। এখন পর্যন্ত মোট ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ফ্রিল্যান্স এডিটর থেকে ফুটেজ চুরির অভিযোগ
তদন্তে জানা গেছে, একজন ফ্রিল্যান্স অ্যাসিস্ট্যান্ট এডিটর অবৈধভাবে এডিটিং স্টুডিও থেকে ফুটেজ সংগ্রহ করেন। পরে সেই কনটেন্ট ব্যবহার করে পুরো সিনেমার কপি তৈরি করে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। হোয়াটসঅ্যাপ, টেলিগ্রাম, ফেসবুক ও ইউটিউবসহ বিভিন্ন মাধ্যমে এটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
জড়িতদের খুঁজতে পুলিশি অভিযান চলছে
গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের আদালতে পাঠানো হয়েছে । তারা বর্তমানে জুডিশিয়াল কাস্টডিতে আছেন। পুলিশ আরও কারা এই চক্রের সঙ্গে জড়িত তা খতিয়ে দেখছে।

প্রযোজনা সংস্থা জানিয়েছে, সিনেমার কোনো অংশ শেয়ার বা ডাউনলোড করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। তারা কপিরাইট রক্ষায় কঠোর অবস্থান নিয়েছে।
রাজনীতি ও সিনেমায় চাপের মুখে বিজয়
সব মিলিয়ে, একদিকে রাজনৈতিক থালাপতি বিজয় মামলা, অন্যদিকে সিনেমা পাইরেসি দুই মিলিয়ে কঠিন সময় পার করছেন এই জনপ্রিয় অভিনেতা-রাজনীতিক। এখন দেখার বিষয়, এই দুই বিতর্ক তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ ও চলচ্চিত্র জীবনে কী প্রভাব ফেলে।