৬০ ভাগ শুটিং শেষ, আগামী শীতে মুক্তি
পল্লীকবি জসীমউদ্দীনের অন্যতম কাব্যগ্রন্থ সোজন বাদিয়ার ঘাট। মাত্র ৩০ বছর বয়সে লেখা জসীমউদ্দীনের এই কাব্যগ্রন্থ পড়ে প্রশংসা করেছিলেন কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। সেই কাব্যগ্রন্থ এবার বড় পর্দায় আনছেন পরিচালক তানভীর মোকাম্মেল। সোজন বাদিয়ার ঘাট সিনেমার প্রায় ৬০ শতাংশ দৃশ্যধারণ শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। গোপালগঞ্জের চান্দার বিল অঞ্চলে ইতোমধ্যে বড় অংশের শুটিং সম্পন্ন হয়েছে। শুটিং হওয়া অংশের সম্পাদনার কাজও শেষ হয়েছে।
বর্ষায় শুরু হবে সিনেমার বাকি দৃশ্যধারণ
তানভীর মোকাম্মেল জানান, চলতি বর্ষা মৌসুমেই সোজন বাদিয়ার ঘাট চলচ্চিত্রটির বাকি অংশের শুটিং শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এখনো শুটিংয়ের নির্দিষ্ট তারিখ চূড়ান্ত হয়নি। তিনি আশা করছেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে দ্রুত কাজ শেষ করা সম্ভব হবে।

প্রেম, বিচ্ছেদ ও গ্রামবাংলার গল্প
সোজন বাদিয়ার ঘাট এর গল্প আবর্তিত হয়েছে শিমুলতলী গ্রামের হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়কে ঘিরে। গ্রামের তরুণ সোজন ও দুলালীর প্রেম কাহিনি গল্পের মূল উপজীব্য। কিন্তু তাদের প্রেমের শেষ পরিণতি ঘটে করুণ ও বেদনাবিধুর বিচ্ছেদের মধ্য দিয়ে।
চলচ্চিত্রটিতে সোজন চরিত্রে অভিনয় করছেন তনয় বিশ্বাস এবং দুলী চরিত্রে রাদিফা নারমিন। এছাড়া ছোট সোজনের ভূমিকায় দিহান ও ছোট দুলীর চরিত্রে দেখা যাবে শ্রেয়া বৈদ্যকে। আরও অভিনয় করছেন চিত্রলেখা গুহ, কাজী রাজু, শাহ আলম দুলাল, আহসানুল হক মিনু, জয়িতা মহলানবিশ, সংগীতা চৌধুরী, দেবাশীষ ঘোষসহ অনেক শিল্পী।

যে কারণে সিনেমা বানাচ্ছেন পরিচালক
তানভীর মোকাম্মেল বলেন, সোজন বাদিয়ার ঘাট এ যে অসাম্প্রদায়িক গ্রামবাংলার চিত্র রয়েছে, তা আজ প্রায় হারিয়ে গেছে। সেই বাংলার রূপ, সৌন্দর্য ও সম্প্রীতির চিত্র নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতেই তিনি সিনেমাটি নির্মাণের তাগিদ অনুভব করেছেন। তিনি জসীমউদ্দীনের পরিবারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, তাদের অনুমতিতেই এই চিত্রায়ণ সম্ভব হয়েছে।
চলচ্চিত্রটির চিত্রনাট্যও লিখছেন তানভীর মোকাম্মেল নিজেই। চিত্রগ্রহণে রয়েছেন রাকিবুল হাসান। শিল্পনির্দেশক ও প্রধান সহকারী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন উত্তম গুহ। কাস্টিং ডিরেক্টর ও পোশাক পরিকল্পনার দায়িত্বে রয়েছেন চিত্রলেখা গুহ। সংগীত পরিচালনা করছেন সৈয়দ সাবাব আলী আরজু। সহ-প্রযোজক হিসেবে আছেন কবি জসীমউদ্দীনের কন্যা হাসনা জসীমউদ্দীন মওদুদ।

আগামী শীতে মুক্তির পরিকল্পনা
পরিচালক জানিয়েছেন, আগামী শীতেই সোজন বাদিয়ার ঘাট মুক্তির পরিকল্পনা রয়েছে। এর আগে তানভীর মোকাম্মেল ‘নদীর নাম মধুমতি’, ‘চিত্রা নদীর পারে’, ‘লালসালু’, ‘লালন’ ও ‘রূপসা নদীর বাঁকে’র মতো প্রশংসিত চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছেন। এবার তিনি বাংলা সাহিত্যের এক কালজয়ী কাব্যকে বড় পর্দায় তুলে আনতে যাচ্ছেন।