কত টাকার মালিক বলিউড অভিনেতা নওয়াজুদ্দিন সিদ্দিকী
নওয়াজুদ্দিন সিদ্দিকী ধনেপাতা বিক্রি থেকে বলিউড অভিনেতা । ৫২ বছর বয়সী নওয়াজুদ্দিন সিদ্দিকী জুনিয়র আর্টিস্ট থেকে এখন বড় তারকা। তবে, এই পর্যায়ে আসতে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে তাকে। অভাবের দিনে বাঁচার জন্য ধনেপাতাও বিক্রি করেন। নওয়াজুদ্দিন সিদ্দিকী! ১৯৭৪ সালের ১৯ মে ভারতের উত্তর প্রদেশের মুজাফফরনগরের ছোট শহর বুধানায় জন্ম নেন নওয়াজউদ্দিন।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস বাংলার তথ্যমতে, এক সময় ক্ষুধার্ত ঘুমানো নওয়াজ আজ কোটি টাকার মালিক। বছর তিনেক আগে মুম্বাইয়ে নিজের বিলাসবহুল বাংলো বানিয়েছেন। কর্মজীবনের শুরুতে, নওয়াজ একজন রাঁঝুনি এবং ওয়াচম্যান হিসাবেও কাজ করেছিলেন। বর্তমানে নওয়াজ একটি ছবির জন্য প্রায় ৬ কোটি টাকা নেন। এছাড়া বিজ্ঞাপন থেকেও ভালো আয় করেন নওয়াজ। একটি বিজ্ঞাপনের জন্য এক কোটি টাকা নেন নওয়াজ। নওয়াজের মোট সম্পদ আছে একশো কোটি টাকা ওপরে।
টিকিট ছাড়া ট্রেনে ভ্রমণ ছিলো নিয়মিত ঘটনা
নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকির জীবন শুরু হয়েছিল অনেক কষ্টের মধ্য দিয়ে। তিনি ছোট শহর থেকে স্বপ্ন নিয়ে মুম্বাইয়ে আসেন। তখন টিকিট ছাড়া ট্রেনে ভ্রমণ করা ছিল নিয়মিত ঘটনা। এত বাধা পেরিয়েও নওয়াজুদ্দিন সিদ্দিকী অভিনয়ের স্বপ্ন ছাড়েননি।
সিনেমায় ছোট চরিত্র দিয়েই শুরু
উত্তরপ্রদেশের বুধানা শহর থেকে মুম্বাইয়ে এসে অভিনয়ের জগতে জায়গা খুঁজতে থাকেন তিনি। শুরুতে সিনেমায় ছোট ছোট চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পেতেন। ১৯৯৯ সালে আমির খানের ‘সারফারোশ’ সিনেমায় ছোট একটি চরিত্রে দেখা যায় তাঁকে। এরপর ইরফান খানের সঙ্গে ‘দ্য বাইপাস’ নামের স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রে অভিনয় করে প্রশংসা পান।

‘গ্যাংস অব ওয়াসিপুর’ বদলে দেয় জীবন
দীর্ঘ অপেক্ষার পর ২০১২ সালে ‘গ্যাংস অব ওয়াসিপুর’ সিনেমা নওয়াজের জীবনে বড় পরিবর্তন আনে। ‘ফয়জাল খান’ চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকদের নজর কাড়েন তিনি। একই বছরে ‘কাহানি’, ‘তালাশ’, ‘পান সিং তোমর’সহ কয়েকটি আলোচিত সিনেমায় অভিনয় করেন। এরপর আর তাঁকে পেছনে তাকাতে হয়নি।
ধনেপাতা বিক্রির সেই কঠিন দিন
অভিনয়ের সুযোগ না পেয়ে একসময় ধনেপাতা বিক্রি করেছিলেন নওয়াজ। ২০০ রুপির ধনেপাতা কিনে লাভের আশায় বিক্রি করতে গিয়েছিলেন। কিন্তু ঠিকভাবে যত্ন নিতে না পারায় পাতাগুলো শুকিয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত পুরো টাকাই ক্ষতি হয় তাঁর। এই অভিজ্ঞতা আজও তাঁর জীবনের কষ্টের স্মৃতি হয়ে আছে।

ছোট আয় থেকে বড় স্বপ্ন
জুনিয়র আর্টিস্ট হিসেবে কাজ করে একবার চার হাজার রুপি পেয়েছিলেন নওয়াজ। সেই টাকার বড় অংশই দিতে হয়েছিল সমন্বয়কারীকে। বাকিটাকা দিয়ে হোটেল ভাড়া ও যাতায়াত খরচ চালিয়েছিলেন। এত কম আয়ের মধ্যেও তিনি অভিনয়ের স্বপ্ন ধরে রেখেছিলেন।
ওটিটি ও বড় পর্দায় সমান জনপ্রিয়
নওয়াজুদ্দিন সিদ্দিকী এখন সিনেমার পাশাপাশি ওটিটিতেও নিয়মিত কাজ করছেন। ‘দ্য লাঞ্চবক্স’, ‘বজরঙ্গি ভাইজান’, ‘মান্টো’, ‘রাত আকেলি হ্যায়’সহ নানা ধরনের চরিত্রে অভিনয় করে প্রশংসা পেয়েছেন। তাঁর মতে, একজন অভিনেতার জন্য মাধ্যম নয়, ভালো অভিনয়টাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

মেয়ের সমালোচনাও গ্রহণ করেন
নওয়াজ জানিয়েছেন, তাঁর মেয়ে শোরা তাঁর সবচেয়ে বড় সমালোচক। মেয়ের মতামত তিনি গুরুত্ব দিয়ে শোনেন। শোরা অভিনয়ে না আসতে চাইলেও কখনো জোর করেননি তিনি। তবে প্রয়োজন হলে অবশ্যই পরামর্শ দেবেন বলে জানিয়েছেন অভিনেতা নওয়াজুদ্দিন সিদ্দিকী।