হেপাটাইটিস ‘এ’
কারিনা কায়সারের পর এবার দেশের জনপ্রিয় গায়িকা ও ডিজে সনিকা হেপাটাইটিস ‘এ’ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। বর্তমানে তিনি রাজধানীর বনানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
সোমবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অসুস্থতার খবর প্রকাশ করেন ডিজে সনিকা। হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে তোলা একটি ছবি পোস্ট করে তিনি লেখেন, আগামী কয়েক দিনের জন্য এটাই আমার ঘর।
তার অসুস্থতার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই ভক্ত-অনুরাগী ও সহকর্মীরা সামাজিকমাধ্যমে দ্রুত সুস্থতা কামনা করছেন। তবে ঠিক কিভাবে এ রোগে তিনি আক্রান্ত হলেন তাঁর বিস্তারিত উল্লেখ্য করেন নি এই গায়িকা।

সনিকা ২০০৭ সালে পেশাদার ডিজে হিসেবে সংগীতজগতে যাত্রা শুরু করেন। অল্প সময়েই তিনি দেশের সংগীতাঙ্গনে পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন। ২০১১ সালের আইসিসি ক্রিকেট বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পারফর্ম করে তিনি আন্তর্জাতিক মঞ্চেও বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন।
২০১৩ সালে ঢালিউড চলচ্চিত্র ও সংগীত পুরস্কারে তিনি ‘শ্রেষ্ঠ বাংলাদেশি মহিলা ডিজে’ হিসেবে সম্মাননা পান। পরে তিনি গায়িকা হিসেবেও আত্মপ্রকাশ করেন। ২০১৪ সালে তার প্রথম মিউজিক ভিডিও ‘ভাল্লাগে’ প্রকাশ পায়।
অন্যদিকে, সংগীতের পাশাপাশি ছোটপর্দাতেও কাজ করেছেন সনিকা। ২০১৫ সালে তিনি অভিনয়ে নাম লেখান এবং ‘লাস্ট সিকোয়েন্স’ ও ‘ত্রিপল এফ’ নাটকে অভিনয় করে দর্শকের প্রশংসা পান।
কারিনা কায়সার
এর আগে হেপাটাইটিস ‘এ’ রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন দেশের জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও তরুণ অভিনেত্রী কারিনা কায়সার। গত ৮ মে রাতে গুরুতর লিভার-সংক্রান্ত জটিলতায় হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি। এরপর তাঁর শারীরিক অবস্থার তেমন উন্নতি না হওয়ায় তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভারতে নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসারত অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন। গত রোববার ভারত থেকে তাঁর মরদেহ দেশে আনা হয়। ঢাকায় দুই দফা জানাজা শেষে তাঁকে সোমবার (১৮ মে) সকাল ৯টায় মুন্সীগঞ্জ জেলার গজারিয়া উপজেলার আবদুল্লাহপুরে তাঁর নানাবাড়িতে তাঁকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়।
তাঁর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ ও স্মৃতিচারণ করেছেন দেশের শোবিজ অঙ্গনের তারকারা। এদিকে, কারিনার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দেশে নিষিদ্ধঘোষিত রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের সাথে বিদ্যমান জুলাই জনতার অনলাইন যুদ্ধ শুরু হয়। কারিনার মৃত্যুতে অনেকেই উদযাপন করছিলেন যার বিপরীতে দাঁড়ান জুলাইপক্ষ।
রাজনীতি
ফলে, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে কারিনা কায়সারের মরদেহের জানাজা শেষে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক বিরোধী দল জামায়াত-এনসিপি ও রাজনীতি নিরপেক্ষ জুলাই সমর্থকেরা মিছিল বের করে এর প্রতিবাদ জানায়। সামাজিক মাধ্যম থেকে বিষয়টি গড়ায় মাঠের রাজনীতিতে।
এতে অনেকেই বলছেন কারিনা কায়সারের মরদেহ নিয়ে রাজনীতি করেছেন বিরোধি দল আবার অনেকেই বলছেন, কারিনা তাঁর মৃত্যুর মধ্য দিয়ে জুলাই জনতাকে আবারো এক করে দিয়ে গেছে।


