সংস্কৃতি অঙ্গনের উদ্বেগ ও সুস্থতা কামনায় দোয়া
লাইফ সাপোর্টে আছেন অভিনেতা আতাউর রহমান। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি প্রবীণ নাট্যব্যক্তিত্বের অবস্থা সংকটাপন্ন। পরিবারের পক্ষ থেকে সবার কাছে দোয়া চাওয়া হয়েছে। গত শুক্রবার বাসায় হঠাৎ পড়ে যাওয়ার পর তাঁর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে। পরে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে দ্রুত রাজধানীর গুলশানের একটি হাসপাতালে নিয়ে যান। লাইফ সাপোর্টে আতাউর রহমান, এ খবর ছড়িয়ে পড়লে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন সহকর্মী, শিল্পী ও সাংস্কৃত অঙ্গনের মানুষজন।

আইসিইউ সংকট ও হাসপাতালে স্থানান্তর
প্রাথমিক পরীক্ষার পর চিকিৎসকেরা জানান, তাঁর অবস্থার অবনতি হওয়ায় আইসিইউ সাপোর্ট প্রয়োজন। তবে ওই হাসপাতালে আইসিইউ সুবিধা না থাকায় তাঁকে পরবর্তীতে ধানমন্ডির একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে ভর্তি করার পরপরই লাইফ সাপোর্টে নেয়া হয় আতাউর রহমানকে।
কিছুটা উন্নতি হলেও আবার অবনতি
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, পরবর্তীতে কিছুটা শারীরিক উন্নতি দেখা দিলে চিকিৎসকেরা লাইফ সাপোর্ট খুলে দেন। কিন্তু কিছু সময়ের মধ্যেই আবার তাঁর অবস্থার অবনতি ঘটে। ফলে আবারও তাঁকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি সংকটাপন্ন অবস্থায় আছেন এবং চিকিৎসকেরা নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছেন।
পরিবারের পক্ষ থেকে সর্বশেষ তথ্য
সোমবার দুপুরে তাঁর শারীরিক অবস্থার সর্বশেষ তথ্য নিশ্চিত করেছেন তাঁর মেয়ে শর্মিষ্ঠা রহমান। তিনি বলেন, “আব্বার অবস্থা খুবই জটিল। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, তাঁর একাধিক অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সঠিকভাবে কাজ করছে না। আমরা সবাই খুব দুশ্চিন্তায় আছি। দয়া করে সবাই তাঁর সুস্থতার জন্য দোয়া করবেন।”

সাংস্কৃতিক অঙ্গনে আতাউর রহমানের অবদান
বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে আতাউর রহমান এক বহুমাত্রিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত। তিনি একাধারে নাট্যজন, অভিনেতা, মঞ্চনির্দেশক এবং লেখক। দীর্ঘ সময় ধরে তিনি দেশের মঞ্চনাট্য আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত থেকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছেন।
১৯৪১ সালের ১৮ জুন নোয়াখালীতে জন্মগ্রহণ করেন এই গুণীজন। স্বাধীনতাত্তোর বাংলাদেশে আধুনিক মঞ্চনাটকের বিকাশে তিনি ছিলেন অন্যতম অগ্রণী ব্যক্তিত্ব। তাঁর নির্দেশনা ও অভিনয়ে বহু নাটক দর্শকমহলে ব্যাপক প্রশংসা পেয়েছে। তিনি শুধু মঞ্চেই নয়, সাংস্কৃতিক আন্দোলনেও সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন।

সংস্কৃতি অঙ্গনে তাঁর অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি একুশে পদক এবং স্বাধীনতা পদকসহ দেশের অন্যতম সম্মানজনক পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। নাট্যচর্চা, গবেষণা এবং নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করার কাজে তাঁর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন সহকর্মীরা।
সংস্কৃতি অঙ্গনের উদ্বেগ ও প্রার্থনা
বর্তমানে তাঁর শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বিগ্ন পরিবার, সহকর্মী এবং সাংস্কৃতিক অঙ্গনের মানুষজন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও অনেকে তাঁর দ্রুত সুস্থতা কামনা করছেন। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, পরিস্থিতি এখনও সংকটাপন্ন এবং সময়ই বলে দেবে পরবর্তী অগ্রগতি কেমন হয়।
