মুখে দাড়ি, ধর্মচর্চায় মনযোগ সিদ্দিকের
১১ মাস পর কারামুক্ত হলেন ছোট ও বড়পর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা সিদ্দিকুর রহমান সিদ্দিক। মুক্তির পর মুখে দাড়ি ও মাথায় টুপি পরিহিত ছবিতে দেখা যায় অভিনেতাকে। গত ১৮ মার্চ তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পান। কারাগারের ১১ মাসের জেলজীবনের সময়টা তাকে ভেতর থেকে বদলে দিয়েছে বলে জানান এই অভিনেতা।
কারামুক্তির পর ভিন্ন অনুভূতি সিদ্দিকের
সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘আমার নামে দুটি মামলা রয়েছে। তবে কারাগার থেকে মুক্ত হওয়ার পর ভিন্ন এক অনুভূতি কাজ করছে, যা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। আমি প্রায় ১০ মাস কারাগারে ছিলাম। জীবনের এক ভিন্ন অভিজ্ঞতা নিয়ে ফিরেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘মুক্তির পর গত কয়েকদিন পরিবারের সঙ্গে সময় কাটিয়েছি। নিজেকে কিছুটা গুছিয়ে নিয়েছি। এতদিন এক ধরনের পরিবেশে ছিলাম, এখন সম্পূর্ণ ভিন্ন পরিবেশে এসেছি। নিজের মতো করে সময় কাটানোর জন্যই এতদিন বিষয়টি প্রকাশ করিনি।’
‘দীর্ঘদিন আমার নিজের অফিস বন্ধ ছিল। যেহেতু আমি ছিলাম না, বন্ধ থাকা স্বাভাবিক। এখন সেখানে কিছুটা সময় দিচ্ছি। সবমিলে এখন ভালো আছি।’
কারাগারে বসেই লিখেন ১৫ নাটক, ৩ সিনেমা
তিনি আরও বলেন, ‘কারাগারে থাকলেও সেখানে অযাচিত সময় নষ্ট করেনি। নিয়মিত নামাজ, কুরআন অনুযায়ী চলার চেষ্টা করেছেন। জেলজীবনের এই সময়ে ১৫টি নাটক ও ৩টি সিনেমার গল্প লিখেছেন বলে জানান সিদ্দিক। ওখানে যে গল্পগুলো লিখেছি, সেই কাজগুলো করব, জেলে যাওয়ার দিন থেকে জেলজীবন ও আমার নিজের পরিবর্তন নিয়ে বই লিখছি, সেই কাজগুলো গোছাচ্ছি। হয়তো কিছুদিন পর থেকে কাজ শুরু করব।’
কারাগারের একটি বাক্য ‘রাখিব নিরাপদ দেখাবো আলোর পথ’ তার মনে গভীরভাবে দাগ কেটেছে বলে জানান এই অভিনেতা। তার ভাষায়, ‘যেহেতু তারা আমাকে নিরাপদে রাখবে, আমি নিজেই আমার আলোর পথ খুঁজে নিয়েছি।’

বেইলি রোড ঘটনার পর গ্রেপ্তার সিদ্দিক
গত ১৮ মার্চ কারাগার থেকে ছাড়া পেয়েছেন অভিনেতা সিদ্দিকুর রহমান। অভিনয়ের পাশাপাশি আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে জড়িয়েছিলেন সিদ্দিক। দলটির হয়ে জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিতে মনোনয়ন ফরমও সংগ্রহ করেছিলেন তিনি। গত বছরের ২৯ এপ্রিল বিকেলে রাজধানীর বেইলি রোডে আওয়ামী লীগের দোসর অ্যাখ্যা দিয়ে সিদ্দিককে মারধরের পর রমনা থানায় সোপর্দ করে উত্তেজিত জনতা। পরদিন গুলশানের ভ্যানচালক জব্বার আলী হাওলাদার হত্যাচেষ্টা মামলায় সিদ্দিকের ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। রিমান্ড শেষে কারাগারে রাখা হয় তাকে।