কানাই দাস বাউল
উপমহাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় ও প্রভাবশালী বাউল কানাই দাস গত ১৮ এপ্রিল মারা গেছেন। মানবতাবাদী ও আধ্যাত্মিক গভীরতা সম্পন্ন এই বাউল শিল্পীকে হারিয়ে শোকাচ্ছন্ন বাউল গানের ভক্ত থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষেরাও। এই তালিকায় আছেন হাওয়া’খ্যাত নির্মাতা মেজবাউর রহমান সুমনও। কারণ, কানাই দাস বাউলকে শেষ গান শোনাতে পারলেন না রইদ নির্মাতা সুমন।
নির্মাতা মেজবাউর রহমান সুমনের ‘রইদ’ সিনেমার একটি গানে গত বছর কণ্ঠ দিয়েছিলেন কানাই দাস বাউল। আর গানটিই ছিলো কানাইয়ের কোনো সিনেমায় গাওয়া প্রথম ও শেষ প্লেব্যাক। তবে সিনেমায় গাওয়া নিজের এই প্লেব্যাকটি শুনে যেতে পারলেন না কানাই দাস বাউল। আর এ নিয়েই মন খারাপ নির্মাতা মেজবাউর রহমান সুমনের। বিষয়টি নিয়ে ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়ে নির্মাতা তাঁর খারাপ লাগার কথা জানিয়েছেন।
কানাই দাসকে নিয়ে সুমন
সুমন জানান, গত বছর ‘রইদ’ সিনেমার জন্য গানটি রেকর্ড করেন কানাই দাস বাউল। গানটি প্রস্তুত হওয়ার পর শুনতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সেটা আর হলো না। সুমন লিখেছেন, ‘কানাই দাস বাউল আপনি চলে গেলেন, রেখে গেলেন আমাদের কাছে আপনার গাওয়া শেষ গান !!
গত বছর রইদ-এর গান রেকর্ডিং এর সময় তার সাথে কথা হচ্ছিল। বললাম আপনি কি সিনেমায় এর আগে গান করেছেন? বল্লেন কেউ ডাকেনি তো!! মাতান চাঁদ গোসাই-এর এই গানটি আপনার কণ্ঠে বহুবার শুনেছি। কিছুদিন পর গানটি প্রকাশ পাবে। শেষ হবার পর শুনতে চেয়েছিলেন। আপনার আর শোনা হলো না…”
রইদ সিনেমার ‘রইদে আইলা গা জুড়াইতে’ শিরোনামে একটি গান ইতিমধ্যে প্রকাশ পেয়েছে। গানটির কথা, সুর ও কণ্ঠ দিয়েছেন সহজিয়া ব্যান্ডের রাজীব আহমেদ রাজু। সংগীত পরিচালনা করেছেন রাশীদ শরীফ শোয়েব। গানটি প্রকাশের পর দর্শক আগ্রহ আরো বেড়ে গেছে সিনেমাটির প্রতি। ‘রইদ’ সিনেমায় অভিনয় করেছেন মোস্তাফিজুর নূর ইমরান, নাজিফা তুষি, গাজী রাকায়েত প্রমুখ।
এর আগে ‘হাওয়া’ সিনেমায় মেজবাউর রহমান সুমন ব্যবহার করেছেন বাসুদেব দাস বাউলের গাওয়া ‘আটটা বাজে দেরি করিস না’ গানটি। সেই ধারাবাহিকতায় নতুন সিনেমা ‘রইদ’-এ কানাই দাস বাউলের গান অন্তর্ভূক্ত করেছেন এই নির্মাতা। তবে গানটি কোন গান তা এখনই প্রকাশ করেননি নির্মাতা। তিনি জানালেন, গানটি শিগগিরই প্রকাশ পাবে।
কানাই দাস বাউল
ভারতীয় বাউল সংগীতের অন্যতম ব্যক্তিত্ব কানাই দাস এক সাধারণ পরিবারে জন্ম নিয়েছেন। ছোটবেলা থেকেই ছিলেন দৃষ্টিহীন। তবে পথ দেখতেন সুর দিয়ে। জীবন ও মানবতা খুঁজে পেয়েছিলেন অন্তর্দৃষ্টিতে।
মেঠোপথের বাউল ছিলেন কানাই দাস। একতারা হাতে গ্রাম থেকে গ্রামে, মেলা ও আখড়ায় ঘুরে ঘুরে গাইতেন গান। তার কণ্ঠে মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি…”, ‘কে বলে মানুষ মরে, আমি বুঝলাম না ব্যাপার’-এর মতো গান।
প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ উইলিয়াম ডালরিম্পল তার আলোচিত বই ‘নাইন লাইভস’- বইয়ের নবম অধ্যায়ে ‘দ্য সংস অব দ্য ব্লাইন্ড মিনস্ট্রেল’ শিরোনামে একটি অধ্যায় উৎসর্গ করেছেন বাউল শিল্পীদের জীবনযাপন, দর্শন নিয়ে যেখানে আলোচনা করা হয়েছে কানাই দাস বাউলের জীবন নিয়েও।


