জন্মশতবর্ষে মেরিলিন মনরো
গতকাল সোমবার (১জুন) ছিলো হলিউড ও দুনিয়াখ্যাত অভিনেত্রী মেরিলিন মনরোর জন্ম শতবার্ষিকী। এই অভিনেত্রীর আসল নাম নর্মা জিন মর্টেনসন। ১৯২৬ সালের এই দিনে তিনি জন্মগ্রহণ করেছিলেন। মেরিলিন মনরোপর্দায় আকর্ষণীয় ও হাস্যরসাত্মক “ব্লন্ড বোম্বশেল” হিসেবে অভিনয় করে বিখ্যাত হয়ে উঠেন। ১৯৫০ এবং ৬০ এর দশকের শুরুর দিকে তিনি বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় যৌন আবেদনময়ী প্রতীক (সেক্স সিম্বল) হয়ে ওঠেন। মনরোর উপস্থিতি, আত্মবিশ্বাস, আকর্ষণ এবং ব্যক্তিত্ব দিয়ে চারপাশের মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে বরাবরই সক্ষম ছিলেন যার কারণে তাঁকে পপ কালচারের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ‘ব্লন্ড বোম্বশেল’ নায়িকা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে মেরিলিন মুনরো এসবের চেয়েও অন্য একটি বিষয় নিয়েও তুমুল আলোচনায় ছিলেন। তাঁর বই পড়া ও বাম ঘরানার লোকেদের সাথে চলাফেরার কারণে প্রশ্ন উঠেছে মনরো কি কমিউনিস্ট কিনা। যার কারণে এফবিআই তাঁকে নজরে রাখতো।

এফবিআই ও মেরিলিন মনরো
মেরিলিন মনরোর জীবনের শেষ কয়েক বছর ধরে এফবিআই তাঁর রাজনৈতিক যোগাযোগ ও পরিচিতজনদের ওপর নজরদারি চালায়। এর প্রধান কারণ ছিল তাঁর কিছু ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও পরিচিত ব্যক্তির বামপন্থী বা কমিউনিস্ট-ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক অবস্থান।
এফবিআইয়ের নথিতে দেখা যায়, মনরোর নাগরিক অধিকার আন্দোলনের প্রতি সমর্থন, ম্যাকার্থিবাদবিরোধী মনোভাব এবং কিছু বামঘেঁষা ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ নিয়ে সংস্থাটি আগ্রহী ছিল। তবে দীর্ঘ পর্যবেক্ষণের পরও এফবিআই কখনো কোনো প্রমাণ পায়নি যে মনরো কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য ছিলেন বা পার্টির হয়ে কাজ করতেন। দীর্ঘ সময়ব্যাপী এসব নিয়ে নানা আলোচনার পর মেরিলিন মনরোর এফবিআই ফাইল পুনরুদ্ধার হয়। ওসব ফাইল মারফত জানা যায় মনরো কখনো কমিউনিস্ট ছিলেন না ।
নতুন প্রকাশিত নথিগুলোতে মনরোর কিছু কমিউনিস্ট-ঘনিষ্ঠ পরিচিত ব্যক্তির নাম উঠে এসেছে, যাদের নিয়ে মার্কিন সরকারি কর্মকর্তারা এবং মনরোর ঘনিষ্ঠ মহল উদ্বিগ্ন ছিল।

একই সাথে মনরোর মৃত্যু নিয়েও চলেছে নানা আলোচনা। আগে যেসব অংশ ব্যাপকভাবে গোপন রাখা হয়েছিল, সেগুলো উন্মুক্ত করার পরও মনরোর ৫০ বছর আগে ঘটে যাওয়া মৃত্যুকে ঘিরে কোনো নতুন তথ্য পাওয়া যায়নি। ফাইলে থাকা চিঠিপত্র ও সংবাদপত্রের কাটিং থেকে জানা যায়, মনরোকে হত্যা করা হয়েছিল এমন বিভিন্ন তত্ত্ব সম্পর্কে অবগত ছিল এফবিআই। কিন্তু এসব দাবির তদন্তে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল বলে নথিতে কোনো প্রমাণ নেই। লস অ্যাঞ্জেলেস কর্তৃপক্ষ মনরোর মৃত্যুকে সম্ভাব্য আত্মহত্যা বলে সিদ্ধান্তে পৌঁছেছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের তথ্য অধিকার আইন অনুযায়ী অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) হালনাগাদকৃত এফবিআই নথিগুলো সংগ্রহ করে। সেগুলো থেকে স্পষ্ট হয়, ১৯৬২ সালের আগস্টে মনরোর মৃত্যুর আগে কয়েক বছর ধরে তাঁর সম্ভাব্য কমিউনিস্ট-সংযোগ নিয়ে এফবিআই কতটা নিবিড় নজরদারি চালিয়েছিল।
ভ্যান্ডারবিল্ট ও মনরো
নথিতে দেখা যায়, মনরোর ঘনিষ্ঠদের মধ্যে অনেকেই তাঁর সঙ্গে ফ্রেডেরিক ভ্যান্ডারবিল্ট ফিল্ডের সম্পর্ক নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন। বামপন্থী রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে ধনী ভ্যান্ডারবিল্ট পরিবার থেকে উত্তরাধিকার হারিয়েছিলেন ফিল্ড।
সেই বছরের শুরুতে আসবাবপত্র কেনার উদ্দেশ্যে মেক্সিকো সফরে গিয়ে মনরোর সঙ্গে ফিল্ডের ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। ফিল্ড তখন নিজের স্ত্রীকে নিয়ে স্বেচ্ছা নির্বাসনে মেক্সিকোতে বসবাস করছিলেন। এফবিআইকে তথ্যদাতারা জানান, ফিল্ড ও মনরোর মধ্যে “পারস্পরিক আকর্ষণ” গড়ে উঠেছিল। ফাইল অনুযায়ী, এ সম্পর্ক নিয়ে মনরোর ঘনিষ্ঠ মহল, এমনকি তাঁর মনোচিকিৎসকও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিলেন।
একটি নথিতে বলা হয়েছে, “এই পরিস্থিতি মিস মনরোর ঘনিষ্ঠ মহল এবং মেক্সিকোতে থাকা আমেরিকান কমিউনিস্ট গোষ্ঠী, উভয়ের মধ্যেই উল্লেখযোগ্য উদ্বেগ সৃষ্টি করেছিল।”
ফিল্ড তাঁর আত্মজীবনী ফ্রম রাইট টু লেফট বইয়ে মনরোর মেক্সিকো সফর নিয়ে পুরো একটি অধ্যায় লিখেছেন, যার শিরোনাম ‘এন ইন্ডিয়ান সামার ইন্টারলুড’। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, তিনি ও তাঁর স্ত্রী মনরোর সঙ্গে কেনাকাটা ও বিভিন্ন খাবারের আড্ডায় অংশ নিয়েছিলেন। রাজনৈতিক প্রসঙ্গ মাত্র একবার এসেছে তাঁদের নৈশভোজের আলাপচারিতা বর্ণনা করতে গিয়ে।

ফিল্ড লিখেছেন, “তিনি মূলত নিজের জীবন এবং তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ণ মানুষদের নিয়েই কথা বলতেন। তিনি নাগরিক অধিকার, কৃষ্ণাঙ্গদের সমঅধিকার নিয়ে তাঁর গভীর অনুভূতির কথা বলেছিলেন। একই সঙ্গে চীনে যা ঘটছে তার প্রতি তাঁর প্রশংসা, কমিউনিস্টবিরোধী প্রচারণা ও ম্যাকার্থিবাদের প্রতি তাঁর ক্ষোভ, এবং এফবিআই পরিচালক জে. এডগার হুভারের প্রতি তাঁর ঘৃণার কথাও বলেছিলেন।”
হুভারের নেতৃত্বে এফবিআই বহু তারকার রাজনৈতিক ও সামাজিক জীবন পর্যবেক্ষণ করেছিল। তাঁদের মধ্যে ছিলেন ফ্র্যাঙ্ক সিনাত্রা, চার্লি চ্যাপলিন এবং মনরোর সাবেক স্বামী আর্থার মিলার। এছাড়া এলিজাবেথ টেলরের বিরুদ্ধে হুমকি, ক্লার্ক গেবলকে ঘিরে চাঁদাবাজির ঘটনা এবং পরবর্তীকালে র্যাপার নটোরিয়াস বি.আই.জি.-এর হত্যাকাণ্ডের তদন্তেও এফবিআই জড়িত ছিল।
গোপন ফাইলে কি আছে?
মনরোকে নিয়ে ২০২২ সালে তাঁর মৃত্যুর ৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস এফবিআই ফাইলের গোপন অংশগুলো উন্মুক্ত করার আবেদন জানায়। এফবিআই প্রথমে জানায়, ফাইলগুলো মেরিল্যান্ডের একটি ন্যাশনাল আর্কাইভস কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, তারা এমন কোনো নথি পাননি। কয়েক মাস পর এফবিআই ফাইলগুলোর একটি নতুন সংস্করণ প্রকাশ করে, যেখানে ডজনখানেক গোপন অংশ তুলে দেওয়া হয়।
দীর্ঘদিন ধরে এই ফাইলগুলো গবেষক, জীবনীকার এবং যারা মনরোর মৃত্যু আত্মহত্যা ছিল বলে বিশ্বাস করেন না-তাদের কাছে বিশেষ আগ্রহের বিষয় হয়ে ছিল।
১৯৮২ সালে লস অ্যাঞ্জেলেস ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তদন্তে সব উপলব্ধ তদন্ত নথি পর্যালোচনা করে কোনো হত্যাকাণ্ডের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল যে এফবিআই ফাইলগুলো “ব্যাপকভাবে সেন্সর করা” ছিল।
এই মন্তব্য মনরোর ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক ড. থমাস নোগুচির আগ্রহ জাগায়। যদিও জেলা অ্যাটর্নির তদন্তে তাঁর ময়নাতদন্তকে যথাযথ বলে স্বীকৃতি দেওয়া হয়, নোগুচি পরে স্বীকার করেন যে মনরোর মৃত্যুর সব খুঁটিনাটি সম্ভবত কখনোই জানা যাবে না। ১৯৮৩ সালে প্রকাশিত তাঁর স্মৃতিকথা Coroner-এ তিনি লিখেছিলেন, এফবিআই ফাইল এবং অভিনেত্রীর বন্ধুদের সঙ্গে নেওয়া গোপন সাক্ষাৎকার, যা কখনো প্রকাশ করা হয়নি, হয়তো কিছু উত্তর দিতে পারত।
নোগুচি লিখেছিলেন, “ময়নাতদন্ত থেকে শুরু করে পুরো ঘটনার সঙ্গে আমার সম্পৃক্ততার ভিত্তিতে আমি মনরোর মৃত্যুকে ‘অত্যন্ত সম্ভাব্য আত্মহত্যা’ বলব। কিন্তু আমি এটাও বিশ্বাস করি, যতদিন পর্যন্ত এফবিআইয়ের সম্পূর্ণ নথি প্রকাশ না হবে এবং আত্মহত্যা তদন্ত প্যানেলের সাক্ষাৎকার ও নোট উন্মুক্ত না হবে, ততদিন তাঁর মৃত্যুকে ঘিরে বিতর্ক চলতেই থাকবে।”
সোভিয়েত ইউনিয়নের ভিসা
মনরোর এফবিআই ফাইল ১৯৫৫ সালে শুরু হয় এবং মূলত তাঁর ভ্রমণ ও পরিচিতজনদের ওপর কেন্দ্র করে এটি তৈরি করা হয়। সেখানে তাঁর মধ্যে বামপন্থী মতাদর্শ বা কমিউনিজমের সম্ভাব্য যোগসূত্র খোঁজার চেষ্টা করা হয়েছে। একটি নথিতে, যা আগে প্রায় পুরোপুরি গোপন ছিল, উল্লেখ রয়েছে যে ১৯৫৫ সালে মনরো ও আরও কয়েকজন বিনোদনজগতের ব্যক্তিত্ব সোভিয়েত ইউনিয়ন সফরের জন্য ভিসা চেয়েছিলেন।
ফাইলটি তাঁর মৃত্যুর কয়েক মাস আগ পর্যন্ত চলেছিলো এবং এতে বিভিন্ন সংবাদ প্রতিবেদন ও লেখক নরম্যান মেইলারের মনরো-জীবনী সম্পর্কিত উল্লেখও রয়েছে। সেই জীবনীতে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল, মনরোকে সরকার হত্যা করেছিল কি না।
কমিউনিস্ট-সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের সঙ্গে মনরোর ঘনিষ্ঠতা নিয়ে এত নজরদারি সত্ত্বেও, এফবিআই কখনোই প্রমাণ করতে পারেনি যে তিনি কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য ছিলেন।
১৯৬২ সালের জুলাই মাসের একটি নথিতে বলা হয়েছিল, “বিষয়টির (মনরোর) রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি অত্যন্ত স্পষ্ট ও সংক্ষিপ্তভাবে বামঘেঁষা। তবে তাঁকে যদি কমিউনিস্ট পার্টি সক্রিয়ভাবে ব্যবহারও করে থাকে, তাহলে লস অ্যাঞ্জেলেসে আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের কাছে সে বিষয়ে কোনো সাধারণ ধারণা নেই।”
কিভাবে এই সন্দেহ তৈরি হল?
নাট্যকার আর্থার মিলারের সঙ্গে বিয়ে হওয়ার সূত্রেই অভিনেত্রীর প্রতি আমেরিকা সরকারের আগ্রহের সূত্রপাত হয়েছিল। মনরোর প্রতি এফবিআইয়ের আগ্রহের মূল কারণ ছিল মিলারের সঙ্গে তাঁর প্রেমের সম্পর্ক, যা প্রথমে গোপন ছিল কিন্তু পরে গণমাধ্যমের ব্যাপক আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে। মিলার ছিলেন রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় একজন ব্যক্তি, যিনি কমিউনিস্ট পার্টির বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং একজন প্রগতিশীল মার্কিন লেখক হিসেবে ফ্যাসিবাদের দৃঢ় বিরোধিতা করতেন। এর ফলে সন্দেহ তৈরি হয় যে মনরোও হয়তো কমিউনিস্ট হতে পারেন। সেই সন্দেহ থেকেই এফবিআই তাঁর চলাফেরা সম্পর্কে নজরদারি বাড়ায় এবং তাঁর রাজনৈতিক মতামত পর্যবেক্ষণ করতে শুরু করে।
যুক্তরাষ্ট্র সবসময় নিজেকে স্বাধীনতা ও ব্যক্তিগত স্বায়ত্তশাসনের দেশ হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছে, কিন্তু একই সময়ে এফবিআই অনেক আমেরিকানকে কারাবন্দি করছিল এবং সেইসব সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডকে সেন্সর করছিল, যা এই সরকারি ভাবমূর্তির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না। এটি সেই গল্প, যেখানে দেখা যায় কীভাবে মেরিলিন মনরো কমিউনিস্টবিরোধী আতঙ্ক ও উন্মাদনার জগতে টেনে আনা হয়েছিলেন।

মনরো ও পিয়ানো
ঘটনাচক্রে, মনরোর জীবনের একেবারে শুরুর দিক থেকেই কমিউনিস্ট-ঘনিষ্ঠ সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের উপস্থিতি দেখা যায়। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, যে পিয়ানোটি মনরোর অত্যন্ত প্রিয় ছিল এবং একসময় ফ্রেডরিক মার্চ এর মালিকানায় ছিল, সেই মার্চও সামাজিক নানা বিষয় নিয়ে গভীরভাবে আগ্রহী ছিলেন।
মার্চ ১৯৩১ সালের ‘ডক্টর জেকিল অ্যান্ড মিস্টার হাইড’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য শ্রেষ্ঠ অভিনেতার অস্কার জিতেছিলেন এবং আর্থার মিলার এর নাটক অবলম্বনে নির্মিত ‘ডেথ অব আ সেলসম্যান’ (একজন বিক্রয়কর্মীর মৃত্যু) চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য মনোনয়নও পেয়েছিলেন। তিনি ১৯৩৬ সালে বিখ্যাত লেখক ডরোথি পার্কারসহ আরও কয়েকজন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বকে নিয়ে হলিউড অ্যান্টি-নাজি লীগ প্রতিষ্ঠা করেন।
মার্চ ও পার্কার দুজনকেই তাঁদের প্রগতিশীল রাজনৈতিক বিশ্বাস এবং সম্ভাব্য কমিউনিস্ট-সংযোগের সন্দেহে হাউস আন-আমেরিকান অ্যাক্টিভিটিজ কমিটি (এইচইউএসি) তদন্তের আওতায় এনেছিল। যা থেকে মনরোর প্রতিও সন্দেহ বাড়তে থাকে।
মনরোর জীবনীকার কিথ ব্যাডম্যান এর মতে, সেই বিখ্যাত ফ্রেডরিক মার্চের পিয়ানোটি মনরোর কাছে ছিল “একটি স্থায়ী বাড়ি এবং পারিবারিক নিরাপত্তার প্রতীক যা তিনি কখনোই সত্যিকার অর্থে পাননি।”
মনরোর সংক্ষিপ্ত জীবনের নানা উত্থান-পতনের মধ্যেও সাদা রঙের সেই পিয়ানোটি তাঁর মৃত্যুর আগ পর্যন্ত হাতে গোনা কয়েকটি স্থায়ী সঙ্গীর একটি ছিল। খুব সাধারণ দেখতে এই বাদ্যযন্ত্রটি শুধু মনরোর জটিল পারিবারিক ইতিহাসকেই নয়, বরং বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি আমেরিকায় কমিউনিজমবিরোধী প্রতিক্রিয়াশীল রাজনৈতিক পরিবেশকেও প্রতীকীভাবে তুলে ধরেছিল।


