Chitralee will take you closer to the world of entertainment.
Chitralee will take you closer to the world of entertainment.
সোমবার, এপ্রিল ২৭, ২০২৬

চার হাজার কারাবন্দী লিখেছেন সিনেমার গল্প

কিস্তি ‘খলনায়ক রিটার্নস’

প্রায় তিন দশক আগে মুক্তি পায় সিনেমা ‘খলনায়ক’, যা আজও জনপ্রিয়। আর এই ছবির দ্বিতীয় কিস্তি ‘খলনায়ক রিটার্নস’ আসার কথা শোনা যাচ্ছে। তবে চমকপ্রদ খবর হচ্ছে এই ব্লকবাস্টার সিনেমাটির দ্বিতীয় কিস্তির গল্প বুনন হয়েছে জেলের ভেতরে। যেখানে চার হাজার কারাবন্দী লিখেছেন সিনেমার গল্প। আর এই গল্পের কেন্দ্রবিন্দুতে আছেন সঞ্জয় দত্ত।  

নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি সময়ে ব্যক্তিগত ও আইনি জটিলতায় জর্জরিত ছিলেন সঞ্জয় দত্ত। জেলে কাটানো এই দিনগুলো সঞ্জয় দত্তের জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়গুলোর একটি। আর এই কঠিন ও জটিল সময়টাই হয়ে উঠেছে সিনেমার অন্যতম উপাদান।  

জেলখানায় সিনেমার গল্পের গাঁথুনি

সঞ্জয় দত্ত নিজেই জানিয়েছেন, জেলের ভেতরে তিনি প্রায়ই গান বাজাতেন। আর তখনই তিনি লক্ষ করেন, সহবন্দীরা বারবার শুনতে চাইতেন ‘খলনায়ক’-এর গান। সেই ছবির প্রতি তাঁদের উন্মাদনা তাঁকে ভাবতে বাধ্য করে, ‘এই গল্প কি আবার বলা যায়?’

একদিন কৌতূহলবশত তিনি জেলের প্রায় চার হাজার বন্দীকে জিজ্ঞেস করেন, ‘যদি “খলনায়ক” আবার বানানো হয়, দেখবে?’ উত্তর আসে একসঙ্গে, ‘হ্যাঁ।’ এ যেন এক অদ্ভুত গণভোট, যেখানে দর্শক নেই, আছে বন্দী; নেই প্রেক্ষাগৃহ, আছে কারাগারের দেয়াল। কিন্তু সেখানেই রোপিত হয় সিনেমার বীজ।  

এই ঘটনার পর ঘটে আরো অবিশ্বাস্য ঘটনা। সঞ্জয় দত্ত তাঁর সহবন্দীদের বলেন, তাঁরা যেন ছবির জন্য নিজেদের ধারণা লিখে দেয়। এই প্রস্তাবনার দিতে না দিতেই শুরু হয়ে যায় গল্পগাঁথুনি। প্রায় চার হাজারেরও বেশি এক পাতার গল্প চলে আসে তাঁর হাতে! এই ঘটনা চলচ্চিত্র নির্মাণের ইতিহাসে এক বিরল উদাহরণ হয়ে থাকবে। এত মানুষের ভাবনা, অভিজ্ঞতা ও কল্পনা-সব মিলিয়ে যেন বিশাল এক গল্প ভান্ডার।

জানা যায়, এই সব কটি গল্প ধারণা পড়তে সময় লেগেছিল অনেকদিন। কিন্তু সেই হাজারো চিন্তার ভিড় থেকে একটি ধারণা সঞ্জয়কে নাড়া দেয়। সেটিই হয়ে ওঠে ‘খলনায়ক রিটার্নস’-এর ভিত্তি।

‘এটা বানানো উচিত’

যেই কথা সেই কাজ। জেল থেকে বেরিয়ে সঞ্জয় দত্ত চলে গেলেন ছবির মূল নির্মাতা সুভাষ ঘাইয়ের কাছে। তাঁকে শোনালেন গল্প। গল্পটি শুনে ঘাইও বেশ উচ্ছ্বসিত হন। তাঁর এককথার জবাব, ‘এটা বানানো উচিত।’

এই জায়গাটিই এখন বেশ গুরুত্ববহ। কারণ, ‘খলনায়ক’ শুধু একটি ছবি ছিল না, এটি ছিল একটি সময়ের প্রতিচ্ছবি। ‘বল্লু’ চরিত্রটি যেমন নায়ক-খলনায়কের সীমারেখা ভেঙে দিয়েছিল, তেমনি নতুন ছবিতেও সেই জটিলতা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা থাকবে বলেই ইঙ্গিত মিলছে।

এদিকে, সঞ্জয়ের প্রযোজনা সংস্থা ‘থ্রি ডাইমেনশন মোশন পিকচার্স’এবং প্রযোজক ‘অ্যাসপেক্ট এন্টারটেইনমেন্ট’ যৌথভাবে ছবিটির সিকুয়েলের স্বত্ব কিনে নিয়েছেন পরিচালক সুভাষ ঘাই এবং তাঁর সংস্থা ‘মুক্তা আর্টস’ থেকে। এই ছবির প্রথম ভাগে দেখা গিয়েছিল মাধুরী দীক্ষিত ও জ্যাকি শ্রফকে। এরপর এখন দ্বিতীয় সিকুয়েলের নাম দেওয়া হয়ে গেছে।এটির নাম হবে ‘খলনায়ক রিটার্নস’। ইতিমধ্যেই নাকি তৈরি হয়ে গেছে ছবির প্রথম ঝলকও।

এই প্রসঙ্গে সঞ্জয় বলেন, ‘“খলনায়ক”-এর যাত্রা দীর্ঘ। সুভাষজি না থাকলে এটা সম্ভব হতো না। তিনি একজন কিংবদন্তি। এই নতুন ছবিতেও তিনি আমাদের সঙ্গে থাকবেন।’

‘খলনায়ক’

১৯৯৩ সালে মুক্তি পায় ‘খলনায়ক’ যা বলিউডে এক নতুন ধারার সূচনা করেছিল। এখানে নায়ক আর খলনায়কের বিভাজন এতটা সরল ছিল না। সঞ্জয় দত্তের ‘বল্লু’ চরিত্রটি ছিল ভয়ংকর, তবু আকর্ষণীয়। তিনি একজন অপরাধী, কিন্তু মানবিক টানাপোড়েনে ভরা।

এই চরিত্রই আজও দর্শকের মনে জায়গা করে আছে। আর সেই কারণেই ‘খলনায়ক রিটার্নস’ শুধু নস্টালজিয়ার ওপর দাঁড়িয়ে নয়; বরং চরিত্রের গভীরতা নিয়েই নতুন করে দর্শকের সামনে আসতে চায়।

 তবে এই গল্পের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো সঞ্জয় দত্তের ব্যক্তিগত উপলব্ধি। জেলের অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, একসময় তিনি মুক্তির জন্য অস্থির হয়ে উঠতেন। কিন্তু এক কারারক্ষীর পরামর্শ, ‘আশা করা বন্ধ করুন, সময় নিজেই কেটে যাবে’ তাঁর ভাবনাকে বদলে দেয়।

তিনি জানান এই উপলব্ধি শুধু ব্যক্তিগত নয়; বরং দর্শনগত উপলব্ধিও। এই অভিজ্ঞতাই ‘খলনায়ক রিটার্নস’-এর গল্পে নতুন এক মনস্তাত্ত্বিক স্তর যোগ করবে। তবে নির্মাতারা এখনো স্পষ্ট করেননি ‘খলনায়ক রিটার্নস’ ঠিক কী ধরনের ছবি হবে। এটি কি সরাসরি সিকুয়েল হবে, নাকি নতুনভাবে কল্পনা করা গল্প হবে তা জানা যায়নি।

+ posts
Share this article
Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Read next

শিক্ষার্থী ও নাট্যকর্মী মুনিরা মাহজাবিন মিমোর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

মুনিরা মাহজাবিন মিমো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী ও নাট্যকর্মী…
নাট্যকর্মী মুনিরা মাহজাবিন মিমোর

মুক্তিযুদ্ধের অবর্ণনীয় দুর্দশা তুলে ধরা আলোকচিত্রী রঘু রাই মারা গেছেন

ভারতীয় আলোকচিত্রী রঘু রাই বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে শরণার্থীদের অবর্ণনীয় দুর্দশা তুলে ধরা ভারতীয় আলোকচিত্রী…

স্ত্রীর ওড়না দিয়ে আমির খান চোখের পানি মুছলেন  

আমির খানের কান্না বলিউডের ‘মিস্টার পারফেকশনিস্ট’খ্যাত আমির খান এবার নতুন এক বিষয় নিয়ে আলোচনায়।  রেডিও…
স্ত্রীর ওড়না দিয়ে আমির খান
0
Share