দুবাইয়ের অভিজ্ঞতা
চলছে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল ও ইরান যুদ্ধ। এই চরম উত্তেজনার মধ্যে উপসাগরীয় অঞ্চলের মানুষেরা এখন প্রবল অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগের ভিতর দিন কাটাচ্ছে। এর মধ্যে আছে সংযুক্ত আরব আমিরাতে বসবাস রত মানুষেরাও। সেখানে আটকে পড়েছিলেন দেশ-বিদেশের নানা পর্যায়ের অসংখ্য তারকা। ছিলেন বলিউড অভিনেত্রী নার্গিস ফাকরি, এশা গুপ্তাও। দিনব্যাপী উৎকণ্ঠা, বিভ্রান্তি ও আতঙ্কের মধ্য দিয়ে দিন কেটেছে এই নায়িকাদের। এই চরাই-উতরাই পেরিয়ে অবশেষে নিরাপদে ভারতে ফিরেছেন এশা গুপ্তা এবং দুবাইয়ের ভয়ংকর অভিজ্ঞতার কথাও জানালেন নায়িকারা।
রোববার নার্গিস ফাকরি দুবাইয়ের একটি দৃশ্য শেয়ার করে লেখেন, ‘এখানে গত দুই দিন একেবারে পাগল প্রায় সময় কেটেছে।’ অন্য একটি পোস্টে তিনি স্থানীয় প্রশাসনের প্রচেষ্টার প্রশংসা করে জানান, ‘ওরা দারুণ কাজ করছে।’ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষের তৎপরতাকে কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।

দুবাইয়ের পরিস্থিতিতে তাঁর মানসিক অবস্থা উল্লেখ করেন নার্গিস। একটি ছবি শেয়ার করে তিনি লেখেন, ‘কী হবে পরের মুহূর্তে—তা না জানার এই অনুভূতি, উদ্বেগ আর ভয়ের ছায়া কাটছে না। ঘুমই আসছে না। মস্তিষ্ক যেন সব সময় সতর্ক অবস্থায় আছে। এত রাত হয়ে গেছে, তবু আমি পুরো জেগে। দুই দিন যেন দুঃস্বপ্নের মতো কেটেছে।’
এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে এশা জানান, পরিস্থিতি ছিল ভীষণ কঠিন ও খুব ভয়ংকর। তিনি লেখেন, ‘বাড়ি ফিরেছি। সবার প্রার্থনা ও শুভকামনার জন্য ধন্যবাদ। আমরা যে পরিস্থিতিতে ছিলাম, তা খুবই কঠিন ছিল। ঈশ্বরের কৃপায় নিরাপদে ফিরতে পেরেছি।’
এশা জানান, গত রোববার দুপুরে বিমানবন্দরে পৌঁছান তিনি। বেলা একটার দিকে আচমকাই বিমানবন্দর বন্ধ করে দেওয়া হয়। কেউই বুঝতে পারছিলেন না, কী ঘটেছে। কিছুক্ষণ পর ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে ওঠে।‘

অভিনেত্রী আরো লিখেন,‘কেউ জানত না পরের মুহূর্তে কী হবে। অচেনা মানুষ একে অপরকে সান্ত্বনা দিচ্ছিল, সবাই নিজের দেশের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছিল।“
দুবাইয়ের ভয়ংকর অভিজ্ঞতার সাথে ভিন্ন উপলব্ধি
এ সময় এশা ছিলেন আবুধাবি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। এশার ভাষ্য অনুযায়ী, বিমানবন্দরের কর্মীরা দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এগিয়ে আসেন এবং পুরো সময় শান্ত ও দায়িত্বশীল আচরণ করেন। তাঁদের পেশাদারত্বের প্রশংসাও করেন অভিনেত্রী।
এশা তখনো চেক ইন করেননি। বিমানবন্দর বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সেখান থেকে ফিরে আবুধাবির একটি হোটেলে আশ্রয় নেন। পরে সেখানে অন্য যাত্রীদের কাছ থেকেও একই ধরনের আতঙ্ক ও বিভ্রান্তির অভিজ্ঞতার কথা শোনেন।

এভাবে কয়েক ঘণ্টা অনিশ্চিতভাবে কাটানোর পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয় এবং দেশে ফিরে আসেন এশা গুপ্তা। তাঁর ভাষ্যে, এই অভিজ্ঞতা ছিল ভয়াবহ, তবে একই সঙ্গে মানুষের সহমর্মিতা ও সংহতির এক অনন্য উদাহরণও প্রত্যক্ষ করেছেন তিনি।
এই চলমান সংকটের সময় অচেনা মানুষের পাশে দাঁড়ানো ও কর্তৃপক্ষের দায়িত্বশীল ভূমিকার কথা উল্লেখ করে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন অভিনেত্রী।
এদিকে নার্গিস ফাকরি এখনো দুবাইতেই অবস্থান করছেন।


