দিল্লি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব
দিল্লি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে জায়গা করে নিয়েছে বাংলাদেশের দুই সিনেমা। দেশের শীর্ষ প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ইমপ্রেস টেলিফিল্মের ব্যানারে নুরুল আলম আতিক নির্মিত ‘মানুষের বাগান’ ও তৌফিক এলাহী পরিচালিত ‘নীলপদ্ম’ প্রদর্শিত হবে ভারতের রাজধানী দিল্লিতে অনুষ্ঠিতব্য এই উৎসবে।
নুরুল আলম আতিক পরিচালিত ‘মানুষের বাগান’ সিনেমাটি সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের জীবনচিত্র তুলে ধরেছে। ছবিটিতে অভিনয় করেছেন প্রসূন আজাদ, মনোজ কুমার, জ্যোতিকা জ্যোতি, স্বাগতা, মুনিরা মিঠু, মাহমুদ আলম, দীপান্বিতা মার্টিন ও অর্চিতা স্পর্শিয়া।

সিনেমায় ‘মানুষের বাগান’ শিরোনামে একটি গান করেছে ব্যান্ড দল চিরকুট। গানটির গীতিকার নাহিদুর রহমান আনন্দ। সিনেমাটির পোস্টার বেশ ভাবনা জাগানিয়া। এতে দেখা গেছে, পৃথিবীর গোল আকৃতিকে পেছনে রেখে দাঁড়িয়ে আছে অনেক মানুষ! তারা একেকজন একেক কাজে ব্যস্ত! সব বয়সী মানুষ রয়েছে সেখানে। ঠিক মানুষের বাগানের মতোই।
শূন্য দশকের শুরুতে ‘চতুর্থ মাত্রা’, ‘সাইকেলের ডানা’ কিংবা ‘বিকল পাখির গান’-এর মতো ফিকশন দিয়ে দর্শকদের মুগ্ধ করেছিলেন নুরুল আলম আতিক। ২০১০ সালে ‘ডুবসাঁতার’ নির্মাণ করেছেন । এরপর করেছেন ‘পেয়ারার সুবাস’ ও ‘লাল মোরগের ঝুঁটি’। এটি আবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও পেয়েছে।
আগামী ৫ মে স্থানীয় সময় সকাল ১১টা ৫৩ মিনিটে প্রদর্শিত হবে সিনেমাটি। খুব শিগগিরই বাংলাদেশেও মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে এটি।
‘নীলপদ্ম’
অন্যদিকে উৎসবে প্রদর্শিত হবে তৌফিক এলাহী পরিচালিত ‘নীলপদ্ম’। সিনেমাটি দৌলতদিয়ার যৌনকর্মীদের জীবন, পরিচয় ও অধিকার নিয়ে একটি গভীর ও সংবেদনশীল গল্প নিয়ে নির্মিত।

সিনেমার প্রধান চরিত্র নীলা। যৌনপল্লিতে তার বেড়ে ওঠা। সে জানে না তার জন্মপরিচয়। সে জানে না এই যৌনপল্লিতে যৌনকর্মী হিসেবে কেন সে বেড়ে উঠেছে। সব সময় এই জীবন ছেড়ে একটা সুন্দর–স্বাভাবিক জীবন চায় নীলা। সে সুযোগও আসে। এক সময় সে একজনকে বিশ্বাস করে তার হাত ধরে যৌনপল্লি ছেড়ে চলে যায়। ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে আবারও এই জীবনে ফিরে আসতে বাধ্য হয় নীলা। এমন দুভাগ্যকে বরণ করে নেয়া হাজারো নীলার গল্পই এই সিনেমা।
এতে অভিনয় করেছেন রুনা খান ও রাশেদ মামুন অপু, সঙ্গে রয়েছেন রোকেয়া প্রাচী, সুজাত শিমুল, শহীদ আলী ও এ কে আজাদ সেতু। সিনেমাটি প্রদর্শিত হবে ৬ মে সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিটে।

বেশ কয়েক বছর ধরেই আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক উপস্থিতি বেড়েছে। বিশ্বের মর্যাদাপূর্ণ সব সিনেমা উৎসবে জায়গা পাচ্ছে বাংলাদেশী সিনেমা। তাঁরই ধারাবাহিকতায় যুক্ত হলো আরো দুটি সিনেমা।


