নির্বাচনে নেই বাপ্পারাজ
বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির ২০২৬-২০২৮ মেয়াদের নির্বাচনকে ঘিরে যখন চলচ্চিত্র অঙ্গনে আলোচনা তুঙ্গে, তখন নতুন এক সিদ্ধান্তে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন জনপ্রিয় অভিনেতা বাপ্পারাজ । সভাপতি পদে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জোরালো সম্ভাবনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। তার এই সিদ্ধান্তে শিল্পী সমিতির আসন্ন নির্বাচন ঘিরে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে।
গত কয়েক মাস ধরেই চলচ্চিত্র অঙ্গনে গুঞ্জন ছিল, শিল্পী সমিতির সভাপতি পদে প্রার্থী হতে যাচ্ছেন বাপ্পারাজ। বিষয়টি নিয়ে শিল্পীদের পাশাপাশি ভক্ত-অনুরাগীদের মধ্যেও ব্যাপক আগ্রহ দেখা দিয়েছিল। অনেকেই মনে করেছিলেন, দীর্ঘদিন চলচ্চিত্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত এই অভিনেতার নেতৃত্বে শিল্পী সমিতিতে নতুন ধরনের কার্যক্রম ও পরিবর্তন আসতে পারে। তবে সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে শেষ মুহূর্তে নির্বাচন না করার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বাপ্পারাজ জানান, ব্যক্তিগত ও পারিবারিক নানা বিষয় বিবেচনায় নিয়েই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি বলেন, ব্যক্তিগত কারণের পাশাপাশি ব্যবসায়িক ব্যস্ততাও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তার ভাষায়,
নির্বাচন করে যদি সময়ই দিতে না পারি, তাহলে বিষয়টা ভালো দেখায় না। দায়িত্ব নিয়ে তা যথাযথভাবে পালন করতে না পারলে সেটি সংগঠনের জন্যও ভালো নয়।
বাপ্পারাজের নেতৃত্বে একটি প্যানেল গঠনের প্রস্তুতি চলছিল বলে জানা যায়। সেই প্যানেলে সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী হওয়ার কথা ছিল অভিনেত্রী রুমানা ইসলাম মুক্তির। তিনি জানান, গতকাল একটি খুদে বার্তার মাধ্যমে বাপ্পারাজ তাকে নির্বাচন না করার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন। বার্তায় ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কারণের বিষয়টি উল্লেখ করেছিলেন অভিনেতা।
সভাপতি পদে কে আসছেন?
মুক্তি বলেন, বাপ্পারাজের সরে দাঁড়ানোর ফলে তাদের প্যানেলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় কিছুটা পরিবর্তন এসেছে। সভাপতি পদে এখন কে প্রার্থী হবেন, সে বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে প্যানেলের সদস্যরা বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করছেন এবং আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই নতুন সিদ্ধান্ত জানানো হতে পারে।
যদিও নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন না, তবু শিল্পী সমিতির প্রতি নিজের দায়বদ্ধতার কথা উল্লেখ করেছেন বাপ্পারাজ। তিনি বলেন, চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি তার নিজের সংগঠন। অতীতেও তিনি শিল্পীদের পাশে ছিলেন এবং ভবিষ্যতেও থাকবেন। নির্বাচনে না থাকলেও সংগঠনের কল্যাণে যেকোনো ইতিবাচক উদ্যোগে তিনি সহযোগিতা করবেন বলেও জানান।

বাপ্পারাজের এই সিদ্ধান্তে চলচ্চিত্র অঙ্গনে নতুন করে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। সভাপতি পদে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম নিয়ে এখন জোর আলোচনা চলছে। কে হবেন শিল্পী সমিতির পরবর্তী সভাপতি, তা নিয়ে শিল্পী, প্রযোজক ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে কৌতূহল বেড়েছে।
উল্লেখ্য, শিল্পী সমিতির সর্বশেষ কার্যনির্বাহী পরিষদের মেয়াদ শেষ হয়েছে চলতি বছরের ২৪ এপ্রিল। মিশা সওদাগর ও মনোয়ার হোসেন ডিপজলের নেতৃত্বাধীন কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নতুন নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু হয়। সংগঠনের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, মেয়াদ শেষ হওয়ার তিন মাসের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ফলে আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে বিভিন্ন প্যানেল গঠন, প্রার্থী চূড়ান্তকরণ এবং সমর্থন আদায়ের কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। বাপ্পারাজের সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত সেই নির্বাচনী সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করল বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


