আতর বিবি লেন
প্রান্তিক নারীদের জীবন নিয়ে নির্মিত বাংলাদেশী চলচ্চিত্র ‘আতর বিবি লেন’ মুক্তি পাচ্ছে শুক্রবারে। জানা গেছে, ১লা মে তথা শুক্রবারে দেশব্যাপী প্রেক্ষাগৃহগুলোতে মুক্তি পাবে এটি। সিনেমাটি নির্মাণ করেছেন মিজানুর রহমান লাবু।
টাইমস মিডিয়ার ব্যানারে নির্মিত এই চলচ্চিত্রটির প্রচার অভিযান ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। রবিবার (২৬ এপ্রিল) রাজধানী ঢাকায় বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশনে (বিএফডিসি) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ছবিটির আনুষ্ঠানিক ট্রেলার, গান ও পোস্টার উন্মোচন করা হয়। এ সময় অভিনয়শিল্পী, কলাকুশলী ও চলচ্চিত্র জগতের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

মিজানুর রহমান লাবু পরিচালিত এই চলচ্চিত্রটি তাঁর নিজের গল্প, চিত্রনাট্য ও সংলাপের উপর ভিত্তি করে নির্মিত। আতর বিবির কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন ফারজানা সুমি, যিনি এটিকে তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম কঠিন অভিনয় হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
এ নিয়ে সুমি বলেন, “এই চরিত্রটি আমার আগের করা যেকোনো চরিত্রের চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা ছিল।” তিনি আরও জানান যে, চরিত্রটিকে বিশ্বাসযোগ্যভাবে ফুটিয়ে তোলার জন্য তিনি ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। তিনি উল্লেখ করেন, গত বছর রমজান মাসে অত্যন্ত কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে শুটিং সম্পন্ন হয়েছিল।
আতর বিবি লেন-এর গল্প
একজন প্রান্তিক নারীর কঠোর সামাজিক বাস্তবতার সাথে পথচলার গল্প বলা হয়েছে “আতর বিবি লেন” ছবিতে। একটি স্থিতিশীল ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনের আকাঙ্ক্ষা থাকা সত্ত্বেও, আতর বিবি বারবার প্রতারিত হন এবং সমাজের প্রান্তিক অবস্থানে ঠেলে দেওয়া হয় তাঁকে। গল্পটি শোষণের বিরুদ্ধে তার প্রতিরোধ এবং প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিকূলতার মাঝে তার অবিচল থাকার চিত্র তুলে ধরে।

এছাড়াও সিনেমার গল্প অভিনেত্রী সুমি বলেন, ‘আতরবিবি সমাজের অন্য নারীদের মতোই স্বাভাবিক আর সুন্দর জীবনের স্বপ্ন দেখে। কিন্তু ভদ্রবেশি কিছু ভয়ংকর স্বার্থলোভী মানুষের স্বার্থ উদ্ধারের জন্য বারবার বলি হতে হয় তাকে। তার জীবনের নানা ঘাত-প্রতিঘাতের ঘটনাকে এক সুতোয় বেঁধে নির্মাতা এগিয়ে নিয়েছেন সিনেমার কাহিনি। পরতে পরতে রয়েছে আতর বিবির সংগ্রামী জীবন।’
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে লাবু বলেন, ছবিটি দীর্ঘ সময় ধরে খুঁটিনাটি বিষয়ের প্রতি সতর্ক মনোযোগ দিয়ে তৈরি করা হয়েছে এবং তিনি আশা প্রকাশ করেন যে দর্শকরা এর বিষয়বস্তুর সাথে একাত্ম হতে পারবেন।
শুটিংয়ের স্থান
দৌলতদিয়া পতিতালয় এলাকা, সেইসাথে রাজবাড়ী, গোয়ালন্দ এবং ফরিদপুরের কিছু অংশ সহ ঢাকা এবং এর বাইরে একাধিক স্থানে চিত্রগ্রহণ করা হয়েছে, যা চলচ্চিত্রটিকে একটি বিশ্বাসযোগ্য, প্রাকৃতিক ও বাস্তবিক সিনেমা হিসেবে গড়ে তুলেছে।

সিনেমাটিতে এতে আরও অভিনয় করেছেন মোস্তফা প্রকাশ, রাশেদ মামুন অপু, আশীষ খন্দকার, এলিনা শাম্মী, সানজিদা মিলা, জয়রাজ, পারভেজ সুমন, ফরহাদ লিমন, কাজী উজ্জল, সকাল ও সীমান্ত প্রমুখ।


