রাজধানীর মগবাজারে সংগীতশিল্পী ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সাবেক পরিচালক আসিফ আকবরের ব্যক্তিগত গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি ছুড়েছে দুর্বৃত্তরা। শনিবার (২৪ অক্টোবর) ভোরে বিশাল সেন্টার মার্কেটের পার্কিংয়ে এ ঘটনা ঘটে। তবে ঘটনার সময় গাড়িতে ছিলেন না এই সংগীতশিল্পী। এতে কেউ হতাহত হননি।
পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় এসে আসিফ আকবরের গাড়ি লক্ষ্য করে এক রাউন্ড গুলি ছোড়েন। পরে তিনি ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। খবর পেয়ে হাতিরঝিল থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে গাড়িটি পরিদর্শন করে।

জানা গেছে, ঘটনার সময় আসিফ আকবর মার্কেটের তৃতীয় তলায় নিজের কার্যালয়ে ছিলেন। পরে তাঁর ও এক বন্ধুর উপস্থিতিতে গাড়ির পেছনের জানালা খুলে ভেতর থেকে একটি গুলির কার্তুজ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ সেটি জব্দ করেছে।
হাতিরঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদুজ্জামান জানান, কারা গুলি চালিয়েছে এবং এর পেছনে কী উদ্দেশ্য রয়েছে, তা এখনো জানা যায়নি। জড়িত ব্যক্তিকে শনাক্ত করতে আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করছে পুলিশ। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গানের জগতে ‘ও প্রিয়া তুমি কোথায়’ দিয়ে পরিচিতি
বাংলা গানের শ্রোতাদের কাছে আসিফ আকবরের পরিচিতি দীর্ঘদিনের। ২০০১ সালে প্রকাশিত তাঁর প্রথম একক অ্যালবাম ‘ও প্রিয়া তুমি কোথায়’ তাঁকে রাতারাতি ব্যাপক জনপ্রিয়তা এনে দেয়। অ্যালবামটি বাংলাদেশের অডিও গানের বাজারে অন্যতম ব্যবসাসফল অ্যালবাম হিসেবে পরিচিতি পায়। এরপর একের পর এক জনপ্রিয় গান উপহার দিয়ে সংগীতাঙ্গনে নিজের অবস্থান শক্ত করেন তিনি।
‘তুমি সুখী হও’, ‘তুমি কথা রাখোনি’, ‘তুমিও কাঁদবে একদিন’, ‘সুখে থাকো তুমি বান্ধবী’, ‘একবার বলো তুমি’, ‘তবুও ভালোবাসি’, ‘বাঁচব না’, ‘জবাব দাও’ ও ‘কিছু ভুল কিছু স্মৃতি’র মতো গান শ্রোতাদের কাছে পরিচিত। আবেগনির্ভর প্রেম ও বিরহের গানে তাঁর কণ্ঠের আলাদা আবেদন তৈরি হয়েছে।
একক গানের পাশাপাশি মিশ্র অ্যালবাম ও চলচ্চিত্রের গানেও কাজ করেছেন আসিফ। তাঁর সংগীতজীবন নিয়ে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনে ১৯টি একক ও ১০৭টি মিশ্র অ্যালবামের তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সময়ের সঙ্গে নতুন গান প্রকাশ এবং ডিজিটাল মাধ্যমে গান যুক্ত হওয়ায় তাঁর গাওয়া মোট গানের নির্ভুল সংখ্যা নিশ্চিতভাবে বলা কঠিন।

চলচ্চিত্রের গানেও রয়েছে পরিচিতি
আসিফ আকবরের সংগীতজীবনের শুরু চলচ্চিত্রের গান দিয়ে। ১৯৯৮ সালে ‘রাজা নাম্বার ওয়ান’ চলচ্চিত্রে ডলি সায়ন্তনীর সঙ্গে দ্বৈত গান করেন তিনি। পরে একক ও মিশ্র অ্যালবামের পাশাপাশি চলচ্চিত্রের গানেও জনপ্রিয়তা পান। প্লেব্যাক গানে অবদানের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও পেয়েছেন এই শিল্পী।
তাঁর কণ্ঠে গাওয়া ‘সাবাশ বাংলাদেশ’ গানটি বাংলাদেশের ক্রিকেটের সঙ্গেও বিশেষভাবে জড়িয়ে আছে। দেশের ক্রিকেট নিয়ে তৈরি এই গান খেলাপ্রেমীদের মধ্যে পরিচিতি পেয়েছে। ফলে সংগীতশিল্পী হিসেবে পরিচিত হলেও ক্রিকেটের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নতুন নয়।
সংগীতের পাশাপাশি ক্রিকেটেও সম্পৃক্ততা
গানের জগতে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার আগে ক্রিকেট খেলতেন আসিফ আকবর। নব্বইয়ের দশকের শুরুতে ঢাকা প্রথম বিভাগ ক্রিকেট লিগে ইয়ং পেগাসাসের হয়ে খেলেছেন তিনি। স্কুল ও কলেজজীবনেও ক্রিকেটের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরবর্তী সময়ে সংগীতকে পেশা হিসেবে বেছে নিলেও খেলাটির প্রতি আগ্রহ ধরে রেখেছেন।
২০২৫ সালে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক নির্বাচিত হন আসিফ আকবর। চট্টগ্রাম বিভাগ থেকে বিসিবির পরিচালনা পর্ষদে যুক্ত হয়ে বয়সভিত্তিক ক্রিকেটের উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ ক্রিকেটার তৈরির বিষয়ে আগ্রহের কথা জানিয়েছিলেন তিনি। কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ক্রিকেট প্রতিভা বিকাশেও কাজ করার প্রত্যাশা ছিল তাঁর।
সংগীত ও ক্রিকেট, দুই অঙ্গনেই পরিচিত আসিফ আকবরকে ঘিরে মগবাজারে গুলির এ ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই নিরাপত্তার বিষয়টি সামনে এসেছে। তবে এখন পর্যন্ত ঘটনার কারণ কিংবা এর সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত বা পেশাগত কোনো বিরোধের যোগসূত্র রয়েছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। পুলিশি তদন্তের পরই এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যেতে পারে।






