Chitralee will take you closer to the world of entertainment.
Chitralee will take you closer to the world of entertainment.
সোমবার, জুন ১৫, ২০২৬

ফুটবলের পাশাপাশি সিনেমায়ও এগিয়ে স্পেন- দেখে নিন ৫টি সিনেমা

স্পেন ফুটবল সিনেমা
স্পেন ফুটবল সিনেমা

কান ও অস্কার মনোনীত সিনেমা

ফুটবলের ইতিহাসে স্পেন একমাত্র দল যারা একটানা তিনটি প্রধান আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট জিতেছে। ২০০৮ সালে ইউরো চ্যাম্পিয়ন, এরপর ২০১০ সালে ফুটবল বিশ্বকাপ এবং ২০১২ সালে আবারো জেতে ইউরোপ সেরার মুকুট। এরপর ২০২৪ সালের ইউরো জেতে স্পেন। ফুটবলের এই নজরকাড়া সাফল্যের পাশাপাশি সিনেমায়ও এগিয়ে যাচ্ছে দেশটি। আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র অঙ্গনে স্প্যানিশ সিনেমার অবস্থান দিন দিন আরও শক্তিশালী হচ্ছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে স্পেনের কয়েকটি সিনেমা কান চলচ্চিত্র উৎসব এবং অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ডস বা অস্কারের স্বীকৃতি অর্জন করে প্রমাণ করেছে তাঁদের শক্তি। শিল্পমানে উত্তীর্ণ এই সিনেমাগুলো বিশ্বজুড়ে দর্শক ও সমালোচকদের মন জয় করেছে।

আজ রাত পার হলেই স্পেনের ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ। খেলার পাশাপাশি দেখে নেয়া যায় তাঁদের সাম্প্রতিক পাঁচটি আন্তর্জাতিক সিনেমা যা অস্কার ও কান চলচ্চিত্র উৎসবে জায়গা পেয়েছে।

৫. পেইন এন্ড গ্লোরি (Pain and Glory)

স্পেন ফুটবল সিনেমা

স্পেনের অন্যতম শক্তিশালী নির্মাতাপেদ্রো আলমোদোভার ২০১৯ সালে এই চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করেছেন। সিনেমাটি সে বছর কান চলচ্চিত্র উৎসবের মূল প্রতিযোগিতা বিভাগে প্রদর্শিত হয়। এই ছবিতে অভিনয়ের জন্য আন্তোনিও বান্দেরাস কান থেকে সেরা অভিনেতার পুরস্কার জেতেন। পরে সিনেমাটি অস্কারে সেরা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র ও সেরা অভিনেতা বিভাগে মনোনয়ন পায়। এটি আধুনিক স্প্যানিশ সিনেমার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সৃষ্টি হিসেবে বিবেচিত হয়।

সংক্ষিপ্ত কাহিনি: এতেএক বৃদ্ধ চলচ্চিত্র পরিচালকের জীবন, স্মৃতি, শারীরিক যন্ত্রণা ও হারিয়ে যাওয়া সম্পর্কের এক আত্মমুখী গল্প দেখানো হয়েছে যা দর্শকহৃদয় ছুঁয়ে যাওয়ার মতো।  

রান টাইমঃ ১১২ মিনিট

৪. প্যারালেল মাদারস (Parallel Mothers)

স্পেন ফুটবল সিনেমা

এই সিনেমাটিও নির্মাণ করেছেন পেদ্রো আলমোদোভার। ২০২১ সালে এটি মুক্তি পায়। সিনেমায় মাতৃত্ব, স্মৃতি ও ঐতিহাসিক ন্যায়বিচারের মতো বিষয়গুলো সামনে এনেছেন এই গুণী নির্মাতা। ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে এটির প্রিমিয়ার হয়েছিল। এই সিনেমায় অভিনয় করার জন্য পেনেলোপে ক্রুজ অস্কারে সেরা অভিনেত্রীর মনোনয়ন পান। ছবিটি স্প্যানিশ সিনেমার আবেগঘন গল্প বলার ঐতিহ্যকে আরও দৃঢ়ভাবে তুলে ধরে।   

সংক্ষিপ্ত কাহিনি: একই দিনে সন্তান জন্ম দেওয়া দুই নারীর জীবন ও স্পেনের অতীত রাজনৈতিক ইতিহাসের অমীমাংসিত স্মৃতিকে ঘিরে নির্মিত মানবিক নাটক।

রান টাইমঃ ১২৩ মিনিট

৩. রোবট ড্রিমস (Robot Dreams)

স্পেন ফুটবল সিনেমা

এটি একটিঅ্যানিমেটেড চলচ্চিত্র। সংলাপহীন এই অ্যানিমেটেড চলচ্চিত্রটি কানে বিশেষ প্রদর্শনীতে দেখানো হয়। পরে এটি অস্কারে সেরা অ্যানিমেটেড চলচ্চিত্র বিভাগে মনোনয়ন পায়। রোবট ড্রিমসপ্রমাণ করেছে যে আবেগ প্রকাশের জন্য সবসময় সংলাপের প্রয়োজন হয় না। এটি পরিচালনা করেছেন পাবলো বার্গার।

সংক্ষিপ্ত কাহিনি: একাকী একটি কুকুর ও তার রোবট বন্ধুর বন্ধুত্ব, বিচ্ছেদ এবং স্মৃতির হৃদয়স্পর্শী গল্প।

রান টাইমঃ ১০২ মিনিট

২. সোসাইটি অব দ্য স্নো (Society of the Snow)

স্পেন ফুটবল সিনেমা

জে.এ. বায়োনার পরিচালিত ‘সোসাইটি অব দ্য স্নো’ কান থেকে যাত্রা শুরু করে বিশ্বজুড়ে আলোচনায় আসে। ছবিটি অস্কারে সেরা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র এবং সেরা মেকআপ ও হেয়ারস্টাইলিং বিভাগে মনোনয়ন অর্জন করে। সিনেমায় মানবিক সহনশীলতার শক্তিশালী চিত্রায়ণ দর্শকদের গভীরভাবে নাড়া দেয়। এটি ২০২৩ মুক্তি পায়।

সংক্ষিপ্ত কাহিনি: ১৯৭২ সালের আন্দিজ বিমান দুর্ঘটনায় বেঁচে যাওয়া যাত্রীদের বেঁচে থাকার সংগ্রাম ও মানবিক সাহসের বাস্তব কাহিনি নিয়ে নির্মিত।

রান টাইমঃ ১৪৪ মিনিট

১. সিরাত (Sirât)

স্পেন চলচ্চিত্রের সাম্প্রতিক শক্তিশালী সংযোজন সিরাত। এটি কান চলচ্চিত্র উৎসবে জুরি পুরস্কার জেতে। স্পেনের পক্ষ থেকে অস্কারের জন্য মনোনীত চলচ্চিত্র হিসেবে নির্বাচিত হয়। এটি ২০২৫ সালের অস্কারে সেরা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র ও সেরা সাউন্ড বিভাগে মনোনয়ন ।

এটি দেখিয়ে দিয়েছে যে স্প্যানিশ সিনেমা এখনো নতুন ভাষা, নতুন ভাবনা ও নতুন নির্মাণশৈলীতে বিশ্বকে চমকে দিতে সক্ষম। এটি ২০২৫ সালে মুক্তি পায় এবং ২০২৬ সালের অস্কারেসেরা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র ও সেরা সাউন্ড বিভাগে মনোনয়ন পায়।

সংক্ষিপ্ত কাহিনি: মরক্কোর মরুভূমিতে নিখোঁজ মেয়েকে খুঁজতে বের হওয়া এক বাবার গল্প হৃদয় বিদারক গল্প এটি। মরুভূমির পথে যাত্রা, আধ্যাত্মিক অনুসন্ধান ও মানব অস্তিত্বের সংকটকে অতুলনীয়ভাবে তুলে ধরেছে সিনেমাটি। এটি পরিচালনা করেছেন অলিভার ল্যাক্স।

রান টাইমঃ ১১৪ মিনিট

এই পাঁচটি চলচ্চিত্র একসঙ্গে স্প্যানিশ সিনেমার সৃজনশীল শক্তি, বৈচিত্র্য ও আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতার প্রতীক। কান থেকে অস্কার-দুই মঞ্চেই সাফল্য পাওয়া এসব ছবি শুধু স্পেনের সাংস্কৃতিক মর্যাদা বাড়ায়নি, বরং বিশ্ব সিনেমায় স্প্যানিশ ভাষার গল্প বলার ক্ষমতাকেও নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে। সবশেষে বলতেই হয়, স্পেন ফুটবল সিনেমা দিয়ে নতুন করে আবিষ্কার করছে তাঁদের পুরাতন জৌলুস।

+ posts
Share this article
Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Read next

নিজ গ্রামের শিক্ষার্থীদের বৃত্তি দিলেন বিজয় ও রাশমিকা

‘দ্য দেবেরাকোন্ডা ফাউন্ডেশন’ বিয়ের পর এবার জনকল্যাণে নেমেছেন বিজয় দেবরাকোন্ডা ও রাশমিকা মান্দানা। সরকারি…
বিজয় ও রাশমিকা

অস্ট্রেলিয়ার পাঁচ শহরে মুক্তি পাচ্ছে ‘বনলতা সেন’

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বনলতা সেন দেশে প্রশংসা কুড়ানোর পর এবার আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছে চলচ্চিত্র…
বনলতা সেন
0
Share