শাহনামা রচয়িতা ফেরদৌসি
‘শাহনামা মহাকাব্য’ রচনা করেছিলেন পারস্যের মহাকবি আবুল কাসেম মনসুর বিন হাসান তুসি (৯৪০–১০২৫), যিনি ফেরদৌসি নামে অধিক পরিচিত। এবার সেই মহাকবি ফেরদৌসিকে নিয়ে বাংলাদেশ থিয়েটারের মঞ্চে আসছে নাট্য উপস্থাপনা।
নাটকটি লিখেছেন অপূর্ব কুমার কুন্ডু এবং নির্দেশনা দিয়েছেন অভিনেতা-নির্দেশক খন্দকার শাহ আলম। তিনি নাটকের নাম ভূমিকায় একক অভিনয়ও করবেন। এটি বাংলাদেশ থিয়েটারের ১৮তম প্রযোজনা।

শেষ একঘণ্টা
ফেরদৌসির জীবনের শেষ এক ঘণ্টাকে কেন্দ্র করে নির্মিত এই নাটকে দেখা যাবে-‘শাহনামা’ রচনার জন্য গজনীর সুলতান মাহমুদের প্রতিশ্রুত পুরস্কারের অপেক্ষায় তুস নগরীতে নিজের বাড়ির বাইরে বসে আছেন বৃদ্ধ কবি। অপেক্ষার সেই মুহূর্তে তাঁর জীবনের নানা স্মৃতি ফিরে আসে। শৈশব, সাহিত্যযাত্রা, বন্ধুত্ব, সংগ্রাম, নির্বাসন এবং পারস্য সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কাব্য রচনার আবেগময় যন্ত্রণা।
নাটকটিতে মহাকবি ফেরদৌসির সঙ্গে কবি দাকিকির সম্পর্কও তুলে ধরা হয়েছে। দাকিকির অসমাপ্ত রচনাগুলো আংশিকভাবে ‘শাহনামা’ মহাকাব্য রচনায় অনুপ্রেরণা জুগিয়েছিল। পাশাপাশি এই বিশাল সাহিত্যকর্ম রচনার সময় বন্ধু ও পৃষ্ঠপোষকদের কাছ থেকে পাওয়া সহায়তার দিকও নাটকে উঠে আসবে।
এ ছাড়া প্রতিশ্রুত স্বর্ণমুদ্রা নিয়ে ফেরদৌসি ও গজনীর সুলতান মাহমুদের দ্বন্দ্ব নাটকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নাটকীয় উপাদান হিসেবে উপস্থিত থাকবে।
ইতিহাস ও নাট্যকল্পনা
প্রযোজনা দলের ভাষ্য অনুযায়ী, ইতিহাসভিত্তিক বর্ণনার সঙ্গে নাট্যকল্পনার মিশেলে নির্মিত এই নাটকে শিল্পীর মর্যাদা, আত্মত্যাগ, স্বীকৃতি এবং টিকে থাকার মতো বিষয়গুলো গভীরভাবে অনুসন্ধান করা হয়েছে।
নাট্যকার অপূর্ব কুমার কুন্ডু জানান, পারস্য সাহিত্য, ইরানি সিনেমা এবং জীবনীভিত্তিক নাট্যচর্চার সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততা থেকেই এই নাটকের ধারণা এসেছে। এর আগে তিনি সাদি শিরাজি, জালাল উদ্দিন মুহাম্মদ রুমি, মাইকেল মধুসূদন দত্ত এবং লিওনার্দো দা ভিঞ্চির মতো ব্যক্তিত্বদের নিয়েও নাটক লিখেছেন। তিনি আরও জানান, এই প্রযোজনার গবেষণাকাজে সহায়তা করেছে অনুবাদক মনিরুদ্দিন ইউসুফ, ঢাকার ইরান সাংস্কৃতিক কেন্দ্র এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ।
নির্দেশক খন্দকার শাহ আলম বলেন, বহুদিন ধরেই তিনি ফেরদৌসির জীবনকে মঞ্চে নিয়ে আসতে চেয়েছিলেন। তাঁর ভাষায়, ফেরদৌসি পারস্য সভ্যতার অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব। তিনি আরও বলেন, ঢাকার দর্শক এখনো ইতিহাস ও সাহিত্যভিত্তিক নতুন নাট্যপ্রযোজনার প্রতি গভীর আগ্রহ দেখাচ্ছেন।
বর্তমানে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে নাটকটির মহড়া চলছে। দলটি কোরবানির ঈদের পর নাটকটির প্রিমিয়ার মঞ্চায়নের পরিকল্পনা করছে।
/জেডএইচ


