বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে শুরু হচ্ছে তিন দিনব্যাপী চলচ্চিত্র উৎসব। ‘চলচ্চিত্র উৎসব: একাল সেকাল’ শিরোনামের এই আয়োজনে বিভিন্ন সময়ের ছয়টি সিনেমা প্রদর্শিত হবে। আজ ৯ আগস্ট থেকে শুরু হয়ে চলচ্চিত্র উৎসব চলবে ১১ আগস্ট পর্যন্ত। শিল্পকলা একাডেমির নাট্যকলা ও চলচ্চিত্র বিভাগের আয়োজনে জাতীয় চিত্রশালা মিলনায়তনে হবে সিনেমাগুলোর প্রদর্শনী। সব প্রদর্শনী দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।
প্রথম দিনেই ‘রইদ’ ও ‘জীবন থেকে নেয়া’
বিকেল পাঁচটায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শুরু হবে চলচ্চিত্র উৎসব। উদ্বোধনের পর সন্ধ্যা ছয়টায় প্রদর্শিত হবে মেজবাউর রহমান সুমন পরিচালিত সিনেমা ‘রইদ’। এরপর রাত আটটায় দর্শকদের জন্য দেখানো হবে জহির রায়হানের আলোচিত চলচ্চিত্র ‘জীবন থেকে নেয়া’। বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ এই সিনেমাটি উৎসবের প্রথম দিনের আয়োজনকে বিশেষ মাত্রা দেবে।

উৎসবের দ্বিতীয় দিন ১০ আগস্ট বিকেল সাড়ে পাঁচটায় প্রদর্শিত হবে খান আতাউর রহমান পরিচালিত ‘আবার তোরা মানুষ হ’। এরপর রাত আটটায় দেখানো হবে মোহাম্মদ নূরুজ্জামান পরিচালিত চলচ্চিত্র ‘মাস্তুল’। একদিনে দুটি ভিন্ন সময়ের ও ভিন্ন নির্মাণধারার সিনেমা দেখার সুযোগ পাবেন দর্শকেরা।

শেষ দিনে ‘দুই পয়সার আলতা’
১১ আগস্ট উৎসবের শেষ দিনে বিকেল সাড়ে পাঁচটায় প্রদর্শিত হবে আমজাদ হোসেন পরিচালিত ‘দুই পয়সার আলতা’। এরপর রাত আটটায় উৎসবের সমাপনী প্রদর্শনী হিসেবে দেখানো হবে আকাশ হক পরিচালিত ‘দ্য ইউনিভার্সিটি অব চানখাঁরপুল’। এর মধ্য দিয়ে শেষ হবে তিন দিনের এই চলচ্চিত্র উৎসব।
আয়োজকেরা জানিয়েছেন, শুধু সিনেমা প্রদর্শন নয়, বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের অতীত ও বর্তমান নিয়ে আলোচনার সুযোগও তৈরি করা হয়েছে এই আয়োজনের মাধ্যমে। উৎসবকে কেন্দ্র করে গত শুক্রবার শিল্পকলা একাডেমির নাট্যকলা ও চলচ্চিত্র বিভাগের সেমিনারকক্ষে অনুষ্ঠিত হয়েছে বিশেষ সেমিনার। ‘সমসাময়িক প্রেক্ষাপটে চলচ্চিত্রের একাল সেকাল’ শীর্ষক আলোচনায় দেশের চলচ্চিত্রের বর্তমান পরিস্থিতি, বিকল্প প্রদর্শনব্যবস্থা এবং স্বাধীন নির্মাতাদের সুযোগ নিয়ে আলোচনা করা হয়।
চলচ্চিত্রকে ঘিরে নতুন উদ্যোগ
তিন দিনের চলচ্চিত্র উৎসব তাই শুধু ছয়টি সিনেমার প্রদর্শনীতে সীমাবদ্ধ থাকছে না। পুরোনো ও নতুন চলচ্চিত্রের মধ্যে সংযোগ তৈরি, বিকল্প সিনেমার প্রদর্শন বাড়ানো এবং স্বাধীন নির্মাতাদের জন্য সুযোগ তৈরির বিষয়গুলোও এই আয়োজনের আলোচনায় এসেছে। দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত এই উৎসবের মাধ্যমে দেশের চলচ্চিত্রপ্রেমীদের সামনে ভিন্ন সময়ের ছয়টি সিনেমা দেখার সুযোগ তৈরি হয়েছে।











