সম্প্রতি লন্ডন থেকে চিকিৎসা নিয়ে দেশে এসেছেন চিত্রনায়ক ও নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)-এর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন । তিনি তাঁর নিজের জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন এবং নিরাপদ সড়ক আন্দোলনকে এগিতে নিতে আহবান জানিয়েছেন।
দেশে ফিরেই ইলিয়াস কাঞ্চন যোগ দেন শুক্রবার (৭ আগস্ট) বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হওয়া নিরাপদ সড়ক চাইয়ের ১১তম মহাসমাবেশে।
সেখানে তিনি বলেন, ‘৩৩ বছর আগে ব্যক্তিগত জীবনের এক গভীর বেদনাকে আমি মানুষের জীবন রক্ষার আন্দোলনে রূপ দিয়েছিলাম। আজ সেই আন্দোলন সারা দেশের মানুষের আন্দোলন। এটি আর ইলিয়াস কাঞ্চনের আন্দোলন নয়, এটি বাংলাদেশের মানুষের আন্দোলন।’

সড়ক আন্দোলনে যুক্ত হওয়ার আহবান জানালেন ইলিয়াস কাঞ্চন
নিজের শারীরিক অবস্থার কথা তুলে ধরে ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, ‘আমি বর্তমানে শারীরিকভাবে অসুস্থ। দেশবাসীর কাছে আমার জন্য আন্তরিক দোয়া কামনা করছি। মহান আল্লাহ–তাআলা যেন আমাকে দ্রুত সুস্থতা দান করেন এবং মানুষের পাশে, নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের পাশে আবারও সক্রিয়ভাবে কাজ করার শক্তি দান করেন।’
দেশবাসীর সুস্বাস্থ্য, নিরাপত্তা, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে এই অভিনেতা বলেন, সরকার, প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, পরিবহন মালিক–শ্রমিক, প্রকৌশলী, গবেষক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, গণমাধ্যম ও দেশের প্রত্যেক সচেতন নাগরিককে নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের অংশ হতে হবে।
তিনি বলেন, ‘আমরা একে অপরের প্রতিপক্ষ নই। আমরা সবাই মানুষের জীবন রক্ষার সহযোদ্ধা। আমার স্বপ্ন আপনাদের কাছে দিয়ে দিলাম। আমি না থাকলেও আপনারা নিরাপদ সড়ক বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখবেন।’
ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত হয়ে গত বছরের এপ্রিল থেকে যুক্তরাজ্যের লন্ডনে চিকিৎসার জন্য যান ইলিয়াস কাঞ্চন। সেখানে ১৫ মাসের বেশি সময় ধরে চিকিৎসা নিয়ে গত সোমবার দেশে ফিরেছেন তিনি।
সেখানকার হাসপাতাল ও মেয়ে ইমা ইসলামের বাসায় থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন তিনি। গত বছরের আগস্টে লন্ডনের একটি হাসপাতালে তাঁর মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার করা হয়। চিকিৎসকেরা টিউমারের একটি বড় অংশ অপসারণ করলেও ঝুঁকির কারণে পুরো টিউমার সরাতে পারেননি। পরে চিকিৎসকেরা জানান, তাঁর ব্রেন ক্যানসারের কথা।
এই অস্ত্রোপচার শেষে এই অভিনেতার দীর্ঘ সময়ের চিকিৎসা শুরু হয়। প্রথম ধাপে টানা তিন মাস কেমোথেরাপি নেওয়ার পাশাপাশি দ্বিতীয় ধাপে নিয়েছেন ওরাল থেরাপি।

একশো কেমোথেরাপি
এই অভিনয়শিল্পীর পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে, সপ্তাহে পাঁচ দিন করে ১২ সপ্তাহের চিকিৎসার মধ্যে প্রায় ৬০টির বেশি কেমোথেরাপি নিতে হয়েছে এই তাঁকে। এরপর তিন মাসের প্রথম ধাপের ওরাল থেরাপি শেষ করে তিনি দ্বিতীয় ধাপের আরও তিন মাসের ওরাল থেরাপি নিয়েছেন। তিন ধাপে সব মিলিয়ে মোট একশো এর মত কেমোথেরাপি নিয়েছেন ইলিয়াস কাঞ্চন।
ইলিয়াস কাঞ্চন দেশে ফেরার পর তাঁর সাথে দেখা করেছেন চলচ্চিত্রাঙ্গনের অনেকেই। জানা গেছে, কিছুদিন দেশে থাকার পর আবারো চিকিৎসার জন্য লন্ডনে যাবেন এই অভিনেতা।








