মুক্তির প্রায় এক বছর আগেই গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নাম লিখিয়েছে আল্লু অর্জুন ও অ্যাটলি কুমারের বহুল প্রতীক্ষিত সিনেমা ‘রাকা’। একসঙ্গে ৩৭ জন পারফর্মারের গতিবিধি রিয়েল-টাইমে ধারণ করে ‘মোস্ট পিপল মোশন-ক্যাপচারড ইন রিয়েল-টাইম’ বিভাগে বিশ্বরেকর্ড করেছে সিনেমাটি।
গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর মুম্বাইয়ে রেকর্ডটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি পায়। ৩৭ জন পারফর্মারের মধ্যে ছিলেন চার বছরের শিশু থেকে ৭০ বছর বয়সী ব্যক্তিও। তাদের শরীরের নড়াচড়া ও মুখের অভিব্যক্তি ধারণে ব্যবহার করা হয়েছে ৯২টি অপটিক্যাল মোশন-ক্যাপচার ক্যামেরা। ছিল ফেসিয়াল ক্যাপচার, ক্যামেরা সিঙ্ক্রোনাইজেশন ও রিয়েল-টাইম ভিজ্যুয়ালাইজেশন প্রযুক্তিও। সান পিকচার্স পরে আল্লু অর্জুন ও অ্যাটলির হাতে গিনেস সনদ তুলে দেওয়ার ছবি প্রকাশ করে।
অ্যাটলির বহুদিনের ভাবনা
‘রাকা’ পরিচালনা করছেন ‘জওয়ান’ সিনেমা নির্মাতা অ্যাটলি কুমার। আল্লু অর্জুনের সঙ্গে এটিই তার প্রথম কাজ। ছবিটি প্রযোজনা করছেন সান পিকচার্সের কালানিধি মারান। চিত্রগ্রাহক জি কে বিষ্ণু, সংগীত পরিচালনায় সাই অভ্যাঙ্কর।

ছবিটির গল্প নিয়ে পুরো তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি। তবে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অ্যাটলি দীর্ঘদিন ধরে এই গল্পের ভাবনা লালন করেছেন। কাহিনিতে প্রাচীন উপজাতীয় ও পুরাণভিত্তিক সময়ের সঙ্গে ভবিষ্যৎ বা সমান্তরাল এক জগতের সংযোগ থাকবে। ফলে ছবিটিকে সায়েন্স-ফিকশন, ফ্যান্টাসি ও অ্যাকশনের মিশেল হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিভিন্ন প্রতিবেদনে ছবিটির বাজেট ৭০০ থেকে ১ হাজার কোটি রুপি পর্যন্ত বলা হয়েছে। তবে নির্মাতারা নির্দিষ্ট অঙ্ক নিশ্চিত করেননি। বিশাল কাহিনির কারণে ছবিটি দুই খণ্ডে আসতে পারে বলেও খবর রয়েছে।
তারকায় ভরা ‘রাকা’
ছবিতে আল্লু অর্জুনের বিপরীতে রয়েছেন দীপিকা পাড়ুকোন। এছাড়া রাশমিকা মান্দানা, মৃণাল ঠাকুর ও জাহ্নবী কাপুরের নামও এসেছে। তবে সবার চরিত্র এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি।
আল্লু অর্জুনের লুকেও রয়েছে রহস্য। ন্যাড়া মাথা, ঘন দাড়ি, চোখে কাজল ও পশুর নখের মতো নখ নিয়ে সেজেছেন তিনি।

হলিউড মানের প্রযুক্তি
‘রাকা’র আরেকটি বড় আকর্ষণ হতে যাচ্ছে এর ভিএফএক্স ও মোশন-ক্যাপচারের কাজ। ছবির বিশাল জগতকে পর্দায় বাস্তব করে তুলতে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে।
এরই প্রমাণ মিলেছে গিনেস রেকর্ডের মোশন-ক্যাপচার কাজেই। ৯২টি ক্যামেরা, ফেসিয়াল ক্যাপচার এবং রিয়েল-টাইম ভিজ্যুয়ালাইজেশনের সমন্বয়ে তৈরি হয়েছে এই বিশেষ প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা।
ফলে ‘রাকা’ শুধু তারকা আর বড় বাজেটের ওপর নির্ভর করছে না। ছবিটির নির্মাণে প্রযুক্তিকেও গুরুত্বপূর্ণ জায়গা দেওয়া হয়েছে।
পর্দায় আসতে আরও অপেক্ষা
২০২৬ সালজুড়ে ছবিটির শুটিং ও নির্মাণকাজ চলার কথা। এরপর বিশাল ভিএফএক্স ও পোস্ট-প্রোডাকশনের কাজ শেষ করতে আরো সময় লাগবে। ছবিটি ২০২৭ সালে প্রেক্ষাগৃহে আসার কথা রয়েছে।অর্থাৎ দর্শক এখনো ‘রাকা’র সম্পূর্ণ গল্প বা চরিত্রগুলো পর্দায় দেখেননি। কিন্তু মুক্তির আগেই সিনেমাটি এমন একটি রেকর্ড করে ফেলেছে, যা তার নির্মাণের উচ্চাকাঙ্ক্ষার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
৩৭ জন পারফর্মার, ৯২টি ক্যামেরা, বিশাল প্রযুক্তিগত আয়োজন আর আল্লু অর্জুন-অ্যাটলির প্রথম জুটি, সব মিলিয়ে ‘রাকা’ মুক্তির আগেই তৈরি করেছে আলাদা কৌতূহল। এখন অপেক্ষা, গিনেসের রেকর্ডের পর বড় পর্দায় সিনেমাটি দর্শকদের জন্য কী নিয়ে আসে।









