‘প্রিন্স’ সিনেমার শো বাতিলে ক্ষতির মুখে হল মালিকরা
প্রিন্স সিনেমা প্রদর্শনে বিশৃঙ্খলা – হল ভাঙচুর । ঈদে মুক্তি পাওয়া শাকিব খানের বহুল প্রতীক্ষিত ছবি প্রিন্স সিনেমা প্রদর্শনে শুরুতেই বিশৃঙ্খলায় নজিরবিহীন আলোচনার জন্ম দিয়েছে দেশজুড়ে। অর্ধশতাধিক প্রেক্ষাগৃহে শো বাতিল হয়েছে। এতে দর্শকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। কাক্ষিত সিনেমা দেখতে না পেরে অনেক সিনেমা হলে ভাঙচুর চালিয়েছে বিক্ষুব্ধ দর্শকেরা। অনেক হল মালিক বাধ্য হয়ে টিকিটের টাকা ফেরত দেন।

প্রিন্স সিনেমা বিশৃঙ্খলার কারণ
প্রদর্শক সমিতির তথ্য অনুযায়ী, প্রযুক্তিগত জটিলতা ছিল এই সমস্যার মূল কারণ। নতুন সার্ভার সিস্টেম ব্যবহার করতে গিয়ে বিপাকে পড়েন অনেক হল অপারেটর। নির্ধারিত সময়ের পরে সিনেমার ডিজিটাল কপি (ডিসিপি) সরবরাহ করা হয়। ফলে সময়মতো কনটেন্ট লোড করা সম্ভব হয়নি।
এর পাশাপাশি লাইসেন্স সংকট বড় ভূমিকা রাখে। অনেক হলে কেডিএম না পাওয়ায় শো চালানো যায়নি। যেসব হলে কপি পৌঁছেছে, সেখানেও সাউন্ড সমস্যা দেখা গেছে। ফলে দর্শক হলে বসেও সিনেমা দেখতে পারেননি।

প্রেক্ষাগৃহে ভাঙচুর ও আর্থিক ক্ষতি
বগুড়ার মধুবন সিনেপ্লেক্স, সৈয়দপুরের তামান্না সিনেমা হল এবং মাদারীপুরের সোনালী সিনেমা হলে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। দর্শকরা ক্ষোভে চেয়ার-টেবিল ভাঙচুর করেন। অনেক হলে অগ্রিম বিক্রি হওয়া টিকিটের টাকা ফেরত দিতে হয়েছে।

ত্রিশালের চিত্রপুরী সিনেমা হলেও একই পরিস্থিতি তৈরি হয়। হল কর্তৃপক্ষ জানায়, সার্ভারে সিনেমা না পাওয়ায় একাধিক শো বাতিল করতে হয়েছে। এতে কয়েক লাখ টাকার ক্ষতির মুখে পড়েছেন তারা। ভাঙচুরের ফলে অবকাঠামোগত ক্ষতিও হয়েছে।
মাল্টিপ্লেক্সেও সমস্যা
শুধু সিঙ্গেল স্ক্রিন নয়, মাল্টিপ্লেক্সেও একই চিত্র দেখা গেছে। দেশের বড় মাল্টিপ্লেক্স চেইনও নির্ধারিত সময়ে ডিসিপি পায়নি। ফলে বিকল্প সিনেমা প্রদর্শন করতে হয়েছে। এতে দর্শকদের হতাশা আরও বেড়েছে।
দায় নিয়ে প্রশ্ন
হল মালিকদের অভিযোগ, ঈদকে সামনে রেখে তড়িঘড়ি করে সিনেমা মুক্তি দেওয়ার কারণেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী আগের রাতে সার্ভারে সিনেমা আপলোড হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু অনেক হল ঈদের দিন দুপুর পর্যন্ত সিনেমা পায়নি।

এই প্রিন্স সিনেমা বিশৃঙ্খলা এখন চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টদের সমন্বয়হীনতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলেছে। প্রযোজনা ও পরিবেশনা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে এখনো স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
