‘কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ’
বাংলাদেশের একসময়ের জনপ্রিয় অভিনেত্রী মৌসুমী ফিরছেন নতুন কাজ নিয়ে। তবে মুক্তির আগেই বিতর্ক তৈরি হয়েছে ‘কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ’ কাজটি নিয়ে। একই কাজ তবে মৌসুমী বলছেন ‘নাটক’ নির্মাতা বলছেন সিনেমা। যা নিয়েই শুরু হয়েছে বিতর্ক।
যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় দুই বছর আগে নির্মিত এই প্রজেক্টটি শুরুতে নাটক হিসেবে পরিকল্পনা করা হলেও পরে সেটি টেলিফিল্মে রূপ নেয়। তবে সম্প্রতি জানা গেছে, নির্মাতা হাসান জাহাঙ্গীর এটিকে সিনেমা হিসেবে সেন্সর থেকে অনুমোদন নিয়েছেন। আগামী ১৫ মে দেশজুড়ে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির প্রস্তুতিও নিচ্ছেন তিনি।
মৌসুমীর ক্ষোভ
বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মৌসুমী। এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে এসে একটি মেয়ের স্ট্রাগল টাইমের ছোট গল্প নিয়ে ‘কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ’ নির্মাণের কথা ছিল। হাসান জাহাঙ্গীর আমাকে অনেক অনুরোধ করার পর আমি রাজি হয়েছি। শুরুতে এটা ১ ঘণ্টার একটি নাটক ছিল। দুই দিনে শুটিং শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তিন দিন লেগে যায়। কিছুদিন পর নির্মাতা এসে বলে, এটার শুটিংতো বেশি হয়েছে আমরা টেলিফিল্ম হিসেবে প্রচার করতে চাই। তাতেও আমি রাজি হয়ে কাজটি শেষ করেছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘‘কিন্তু খবরে দেখছি ‘কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ’ নাকি সিনেমা হিসেবে আসছে। বিষয়টি শুনে অবাক হয়েছি। বোর্ডে এটাকে কীভাবে সেন্সর সার্টিফিকেশন দিল। তার চেয়ে বড় কথা হলো, আমি যেখানে সিনেমাই করি না, সেখানে এ রকম একটা গল্প দিয়ে আমাকে হুট করে পর্দায় নিয়ে আসা যুক্তিসংগত বলে মনে করি না। আমিতো জানিই না ‘কন্ট্রাক্ট ম্যারেজের আগে-পরে কী আছে। নির্মাতা ও প্রযোজকের কাছে এটা আমি মোটেই আশা করিনি,’ বলেন তিনি।

মুক্তিতে আপত্তি
সিনেমাটির মুক্তি নিয়ে নিজের আপত্তির কথাও জানান এই অভিনেত্রী। মৌসুমীর ভাষায়, ‘এমন অবস্থায় সিনেমাটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি দেওয়া উচিত কিনা তা দূর দেশ থেকে বুঝতে পারছি না। আমার মতে এটি সিনেমা হিসেবে মুক্তি না পাক। তার পরও বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি, পরিচালক সমিতি ও প্রযোজক সমিতিসহ যারা আছেন তারা যেন বিষয়টি বিবেচনা করেন।’
অন্যদিকে, এ অভিযোগের জবাবে পরিচালক হাসান জাহাঙ্গীর দাবি করেন, ‘এই প্রজেক্টে মৌসুমী ম্যাডামকে সিনেমার সম্মানি দিয়েই যুক্ত করেছিলাম। এটা কখনো টেলিফিল্ম নাটক বলে শুটিং করিনি।’
এ ঘটনায় এখন প্রশ্ন উঠেছে , যে প্রজেক্টকে অভিনেত্রী নাটক বা টেলিফিল্ম হিসেবে জানতেন, সেটি কীভাবে পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র হিসেবে সেন্সর অনুমোদন পেল, আর সেই প্রক্রিয়ায় কতটাই বা স্বচ্ছতা ছিল।


