Chitralee will take you closer to the world of entertainment.
Chitralee will take you closer to the world of entertainment.
শুক্রবার, মার্চ ২০, ২০২৬

শাকিব খানের ‘প্রিন্স’- বদলে যাওয়া এক তারকার নতুন অধ্যায়

শাকিব খানের ‘প্রিন্স’
শাকিব খানের ‘প্রিন্স’

‘প্রিন্স’ শুধু আরেকটি নতুন সিনেমা নয়

ঢাকাই সিনেমায় শাকিব খানকে ঘিরে নতুন ছবি নিয়ে আগ্রহ থাকেই। কিন্তু শাকিব খানের ‘প্রিন্স’ কে ঘিরে কৌতূহলটা একটু ভিন্ন। কারণ, এটি এমন সময়ে আসছে যখন শাকিব খান নিজেকে শুধু জনপ্রিয় নায়ক হিসেবে নয়, বরং বড় ক্যানভাসের, পরিকল্পিত, বাজারসচেতন একজন তারকা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চাইছেন। ২০২৫ সালের আগস্টে ছবিটির ফার্স্টলুক সামনে আসার পর থেকেই বোঝা যায়, এটিকে সাধারণ প্রেম বা অ্যাকশনধর্মী ছবি হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে না; বরং শহর, ক্ষমতা, সহিংসতা আর এক ধরনের ‘মিথ নির্মাণ’ এর আবহে সাজানো হচ্ছে।

শাকিব খানের ‘প্রিন্স’- বদলে যাওয়া এক তারকার নতুন অধ্যায়
শাকিব খানের ‘প্রিন্স’- বদলে যাওয়া এক তারকার নতুন অধ্যায়

এই কারণেই ‘প্রিন্স’ নিয়ে আলোচনা শুধু শাকিব খানের নতুন ছবি বলে নয়, তার বদলে যাওয়া ক্যারিয়ার কৌশলের অংশ হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ।

নামের ভেতরে যে ইমেজ পলিটিক্স কাজ করছে

‘প্রিন্স’ নামটি শুনলে প্রথমেই এক ধরনের প্রভাব, স্টাইল আর কর্তৃত্বের অনুভূতি তৈরি হয়। আবার ছবির পূর্ণ নাম ‘Prince: Once Upon a Time in Dhaka’ হওয়ায় বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয় যে, এটি কেবল ব্যক্তিকেন্দ্রিক গল্প নয়; ঢাকাকে এক ধরনের চরিত্র হিসেবেও ব্যবহার করা হতে পারে। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডে প্রকাশিত ফার্স্টলুক বর্ণনায় দেখা যায়, পোস্টারে শাকিব খানকে পিস্তল হাতে নগর-সংঘাতের কেন্দ্রে দাঁড়ানো এক ব্যক্তিত্ব হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে, যা ছবির গ্যাংস্টারধর্মী বা আরবান-অ্যাকশন আবহের ইঙ্গিত দেয়।

শাকিব খানের ‘প্রিন্স’
‘প্রিন্স’

অর্থাৎ, এখানে নায়ককে শুধু প্রেমিক বা মারদাঙ্গা অ্যাকশন হিরো হিসেবে নয়, শহরের ভেতর ক্ষমতার এক প্রতীক হিসেবেও নির্মাণ করার চেষ্টা থাকতে পারে।

পরিচালক কে, আর কেন বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ

এই ছবির পরিচালক আবু হায়াত মাহমুদ। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড ছবিটিকে তার পরিচালনায় নির্মিত কাজ হিসেবে উল্লেখ করেছে, আর চ্যানেল আই অনলাইন জানিয়েছে যে তিনি এ ছবিকে বড় ক্যানভাসে, “larger than life” ভিশনে নির্মাণ করতে চাইছেন।

ছবির পরিচালক আবু হায়াত মাহমুদ
ছবির পরিচালক আবু হায়াত মাহমুদ

এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, একজন তুলনামূলক নতুন পরিচালককে নিয়ে এমন উচ্চাভিলাষী প্রজেক্ট করা ঝুঁকিপূর্ণও, আবার সম্ভাবনাময়ও। ঝুঁকি এই কারণে যে, বড় তারকা ও বড় প্রত্যাশার ছবি সামলানো সহজ নয়। কিন্তু সম্ভাবনা এই জায়গায় যে, নতুন পরিচালকরা অনেক সময় পরিচিত ফর্মুলার বাইরে গিয়ে ফ্রেশ ভিজ্যুয়াল ভাষা তৈরি করতে পারেন। তাই ‘প্রিন্স’কে আবু হায়াত মাহমুদের জন্যও একধরনের অগ্নিপরীক্ষা বলা যায়।

গল্প ও চিত্রনাট্যে কারা আছেন

চ্যানেল আই অনলাইন জানিয়েছে, ছবিটির গল্প মেজবাহ উদ্দিন সুমনের, আর চিত্রনাট্য লিখছেন মেজবাহ উদ্দিন সুমন ও মোহাম্মদ নাজিমউদ্দিন।

এই তথ্যটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ মোহাম্মদ নাজিমউদ্দিনের নাম থাকলে অনেক দর্শকের মধ্যেই স্বাভাবিকভাবেই অন্ধকার, স্টাইলাইজড, চরিত্রভিত্তিক এক জগতের প্রত্যাশা তৈরি হয়। আবার মেজবাহ উদ্দিন সুমনের উপস্থিতি গল্পকে বাণিজ্যিক কাঠামোর ভেতরে রাখার ইঙ্গিতও দেয়। ফলে ‘প্রিন্স’ সম্ভবত এমন একটি ছবি হতে যাচ্ছে, যেখানে মূলধারার বিনোদন আর কিছুটা মুড-ড্রিভেন গল্প বলার ধরন একসঙ্গে মেশানোর চেষ্টা থাকবে।

‘প্রিন্স’-এর নায়িকা কারা, আর তা কেন আলোচনায়

এই ছবির সঙ্গে সবচেয়ে জোরালোভাবে যে নায়িকার নাম যুক্ত হয়েছে, তিনি তাসনিয়া ফারিণ। প্রথম আলোতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি ‘প্রিন্স’-এ চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন এবং ডিসেম্বর থেকে শুটিংয়ে অংশ নেওয়ার কথা ছিল। একই বিষয়ে জাগো নিউজও জানিয়েছে, শাকিব খানের সঙ্গে প্রথমবারের মতো জুটি হয়ে কাজ করছেন ফারিণ এবং ছবিতে তার চরিত্রকে গ্ল্যামারাস ও বিনোদনধর্মী হিসেবে দেখা হচ্ছে।

‘প্রিন্স’-এর নায়িকা
ফারিণ

ফারিণকে নেওয়ার ভেতরেও একটি স্পষ্ট কৌশল আছে। তিনি টেলিভিশন, ওটিটি এবং অভিনয়দক্ষতার কারণে নতুন প্রজন্মের দর্শকের কাছে পরিচিত মুখ। ফলে শাকিব খানের তারকাখ্যাতির সঙ্গে ফারিণের সমসাময়িক গ্রহণযোগ্যতা মেলালে ছবিটি একসঙ্গে দুই ধরনের দর্শককে টানতে পারে।

‘প্রিন্স’-এর নায়িকা
‘প্রিন্স’-এর নায়িকা

এদিকে আইএমডিবির কাস্ট তালিকায় রিংকু দাসের নামও দেখা যাচ্ছে। তবে তাকে নিয়ে বড় আকারে অফিসিয়াল ঘোষণা কম পাওয়া গেছে, তাই তাকে ছবির কাস্টের অংশ হিসেবে উল্লেখ করা গেলেও, প্রধান নায়িকা হিসেবে তাসনিয়া ফারিণই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আছেন।

প্রযোজনা, নির্মাণ স্কেল এবং বাজারের ভাষা

চ্যানেল আই অনলাইন জানিয়েছে, ছবিটি ক্রিয়েটিভ ল্যান্ড ব্যানারে প্রযোজনা করছেন শিরিন সুলতানা। আর দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড বলছে, ছবিটি ঈদুল ফিতর ২০২৬ উপলক্ষে মুক্তির লক্ষ্য নিয়ে পরিকল্পিত হয়েছে।

এখানে লক্ষ্য করার বিষয় হলো, ঈদের বাজারে শাকিব খানের ছবি মানেই বড় ক্যানভাসে ভাবা এক ধরনের ইভেন্ট সিনেমা। ফলে ‘প্রিন্স’ও সম্ভবত সেই ধাঁচেই নির্মিত হচ্ছে, যেখানে শুধু গল্প নয়, পোস্টার, লুক, স্কেল, লোকেশন, কাস্ট, সবকিছু মিলিয়ে আগেই একটি “বড় ছবি”র আবহ তৈরি করা হচ্ছে।

বাজেট নিয়ে গুঞ্জন, আর আসল অবস্থান কী

‘প্রিন্স’ নিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হয়েছে বাজেট প্রসঙ্গে। সামাজিক মাধ্যমে ছবিটির বাজেট ২০ কোটি টাকা বলে দাবি উঠেছিল। কিন্তু চ্যানেল আই অনলাইনকে দেওয়া বক্তব্যে পরিচালক আবু হায়াত মাহমুদ বলেছেন, ২০ কোটির কথা ভিত্তিহীন; তারা কখনও আনুষ্ঠানিকভাবে এমন বাজেট বলেননি। তিনি আরও জানান, শুরুর পরিকল্পনায় ছবিটির বাজেট ৭ থেকে ৮ কোটির মতো ধরা হয়েছিল, তবে শুটিং শেষ না হলে চূড়ান্ত বাজেট বলা যায় না।

অন্যদিকে আইএমডিবিতে ছবিটির বাজেটের একটি “estimated” অঙ্ক হিসেবে ২০০,০০০,০০০ বাংলাদেশি টাকা, অর্থাৎ প্রায় ২০ কোটি টাকার উল্লেখ আছে। কিন্তু এটি অফিসিয়াল প্রযোজনা সংস্থার নিশ্চিত করা তথ্য নয়।

তাই সবচেয়ে নিরাপদ বিশ্লেষণ হলো এই: ‘প্রিন্স’ যে বড় বাজেটের প্রকল্প হিসেবে ভাবা হচ্ছে, সে ইঙ্গিত আছে; কিন্তু ২০ কোটি টাকার সংখ্যা এখনো নিশ্চিত বা অফিসিয়াল নয়।

শাকিব খানের ক্যারিয়ারে ‘প্রিন্স’ কেন গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে

শাকিব খান এখন এমন এক পর্যায়ে আছেন, যেখানে শুধু জনপ্রিয় হওয়া যথেষ্ট নয়; তাকে নিজের তারকাখ্যাতিকে নতুন ভাষায় অনুবাদ করতে হচ্ছে। একসময় তার সাফল্যের কেন্দ্র ছিল বিপুল সংখ্যক রিলিজ। এখন সেই জায়গায় এসেছে বাছাই করা প্রকল্প, বড় উপস্থাপনা এবং বাজারে আগাম আলোচনার কৌশল। ‘প্রিন্স’ সেই পরিবর্তনেরই একটি লক্ষণ।

শাকিব খানের ক্যারিয়ারে ‘প্রিন্স’

এই ছবিটি সফল হলে দুই দিক থেকে লাভ হবে। প্রথমত, শাকিব খান প্রমাণ করতে পারবেন যে তিনি এখনও বড় ইভেন্ট সিনেমার কেন্দ্রবিন্দু। দ্বিতীয়ত, নতুন পরিচালক, নতুন জুটি এবং নতুন টোন নিয়েও তিনি দর্শক টানতে পারেন। আর যদি ছবিটি প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারে, তাহলে সেটিও দেখাবে যে শুধু স্টারডম নয়, কনটেন্ট ও নির্মাণের ভারসাম্য এখন কতটা গুরুত্বপূর্ণ।

শেষ কথা

সব মিলিয়ে ‘প্রিন্স’কে শুধু একটি আসন্ন শাকিব খান চলচ্চিত্র হিসেবে দেখলে পুরো চিত্রটা ধরা পড়ে না। এটি একদিকে তার ক্যারিয়ারের বর্তমান অবস্থানের প্রতিফলন, অন্যদিকে ঢালিউডে বড় ক্যানভাসের বাণিজ্যিক ছবির নতুন ভাষা তৈরিরও একটি পরীক্ষা।

নায়িকা হিসেবে তাসনিয়া ফারিণের যুক্ত হওয়া, পরিচালনায় আবু হায়াত মাহমুদের উচ্চাভিলাষী ভিশন, গল্পে মেজবাহ উদ্দিন সুমন ও মোহাম্মদ নাজিমউদ্দিনের সম্পৃক্ততা, আর বাজেট ঘিরে আলোচনার মধ্য দিয়ে ‘প্রিন্স’ এখন আর শুধু একটি শিরোনাম নয়; এটি হয়ে উঠেছে প্রত্যাশা, কৌতূহল এবং বাজার বিশ্লেষণের একটি বড় বিষয়। ছবিটি শেষ পর্যন্ত কেমন হবে, তা সময়ই বলবে। তবে এতটুকু নিশ্চিত, ‘প্রিন্স’ ইতোমধ্যেই নিজেকে একটি আলোচিত প্রকল্পে পরিণত করেছে।

তথ্যসূত্র

১. চ্যানেল আই অনলাইন, “শাকিবের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় বাজেটের ছবি ‘প্রিন্স’?”
২. দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, “Shakib Khan unveils Prince”
৩. আইএমডিবি, “Prince: Once upon a time in Dhaka” কাস্ট ও আনুমানিক বাজেট তালিকা

+ posts
Share this article
Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Read next

বলিউডে আরিফিন শুভর নতুন যাত্রা শুরু হল আজ

বলিউডে আরিফিন শুভ বলিউডে এতোদিন বাংলাদেশের কোনো অভিনয়শিল্পীর কেন্দ্রীয় চরিত্রের অভিনয়ে দেখা যায়নি। তবে সময়…
বলিউডে আরিফিন শুভর নতুন

জর্ডান অস্কার জিতলেও টিমোথি শ্যালামে হেরে যায় নি

অস্কার-জর্ডান-টিমোথি শ্যালামে সদ্য শেষ হওয়া ৯৮তম অস্কারে টিমোথি শ্যালামে ও তাঁর সিনেমা মার্টি সুপ্রিম হয়ে উঠেছে…
জর্ডান অস্কার জিতলেও টিমোথি শ্যালামে
0
Share