সংগীত শিল্পীদের দুর্দশা প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরলেন মিনু
শিল্পীদের মানবেতর জীবন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সংগীতশিল্পী আলম আরা মিনু। বুধবার (১১ মার্চ) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসে তিনি দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের মানুষের দুরবস্থার কথা তুলে ধরেন। সেখানে তিনি বলেন, অনেক শিল্পী দীর্ঘদিন ধরে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এই পরিস্থিতিতে সরকারকে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

বঞ্চিত শিল্পীর কষ্ট তুলে ধরলেন মিনু
স্ট্যাটাসে মিনু উল্লেখ করেন, দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের মানুষ সব সময় ভালো থাকেন না। অনেক সময় তাদের কাজ থাকে না এবং জীবিকা নির্বাহ করাও কঠিন হয়ে পড়ে। দুই-একজন জনপ্রিয় শিল্পী হয়তো ভালো অবস্থায় আছেন, কিন্তু অধিকাংশ শিল্পীর বাস্তবতা ভিন্ন। তিনি দাবি করেন, অনেক শিল্পী পাঁচ থেকে সাত বছর নয়, বরং পনেরো থেকে বিশ বছর পর্যন্ত নানা সংকটে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন।

সাংস্কৃতিক অঙ্গনের মানুষের নিরাপত্তা চান মিনু
শিল্পীদের মানবেতর জীবন থেকে উত্তরণের জন্য মিনু একটি স্থায়ী কাঠামোর দাবি জানিয়েছেন। তিনি মনে করেন, দেশের গীতিকবি, শিল্পী, সংগীতজ্ঞ ও সংগীত পরিচালকদের জন্য একটি স্থায়ী পরিচয়পত্র বা সরকারি সুবিধা থাকা প্রয়োজন। এতে তাদের জীবনের ন্যূনতম নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

তার মতে, বিভিন্ন জাতীয় অনুষ্ঠান বা প্রয়োজনে শিল্পীদের ডাকা হলেও অনেক সময় তাদের যথাযথ সম্মান বা পারিশ্রমিক দেওয়া হয় না। অথচ এই শিল্পীরাই দেশের সংস্কৃতি ও ইতিহাসকে মানুষের কাছে তুলে ধরেন। তাই এই মানুষগুলোর প্রতি রাষ্ট্রের দায়িত্ব থাকা উচিত বলেও মনে করেন তিনি।
নিজের সংগীতজীবনের কথাও তুলে ধরেন
স্ট্যাটাসে মিনু নিজের সংগীতজীবনের কথাও স্মরণ করেন। তিনি বলেন, ছোটবেলা থেকেই গান গেয়ে আসছেন। রেডিও ও টেলিভিশনে গান গেয়ে তিনি তালিকাভুক্ত শিল্পী হন। তার জনপ্রিয় গানের মধ্যে রয়েছে ‘যে মাটির বুকে ঘুমিয়ে আছে’, ‘যে বাতাসে ফোটে ফুল’, ‘যদি তুমি বলো’ ও ‘এতোটা অবুঝ আমি নইতো’।

অভিজ্ঞ শিল্পীর কষ্টের কারণ অবহেলা
স্ট্যাটাসের শেষে দীর্ঘ সংগীতজীবনে দেশ-বিদেশে বহু মঞ্চে গান করেছেন মিনু। প্রায় ৪০টির বেশি দেশে সংগীত সফরে অংশ নিয়েছেন বলেও জানান তিনি। তবে এত বছরের অভিজ্ঞতার পরও অনেক শিল্পী যে অবহেলা ও সংকটের মধ্যে আছেন, সেটিই তাকে সবচেয়ে বেশি কষ্ট দেয় বলে জানান এই শিল্পী।
শিল্পীদের নিরাপত্তা ও সম্মানের আবেদন
মিনু সরকারের পাশাপাশি দেশবাসীর প্রতিও আহ্বান জানান। তার মতে, শিল্পীদের মানবেতর জীবন দূর করতে সমাজের সবার সচেতনতা প্রয়োজন। সাংস্কৃতিক অঙ্গনের মানুষ যেন সম্মান ও নিরাপত্তা নিয়ে বাঁচতে পারেন এমন আশাও করেন তিনি।