মোস্তফা সরওয়ার ফারুকী
নির্মাতা মোস্তফা সরওয়ার ফারুকী নির্মিত সিনেমা শনিবার বিকেল নিয়ে গত কয়েকবছর ধরে চলছে নানা আলোচনা ও গুঞ্জন। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সিনেমাটির মুক্তি নিয়ে চলেছে ব্যাপক আলোচনা। কিন্তু এতো আলোচনা ও সমালোচনার পরেও বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় মুক্তির অনুমতি পায়নি সিনেমাটি। এরপর ২০২৪ সালে লীগ সরকারের পতনের পর এই নির্মাতা নিজেই সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করেন। কিন্তু তিনি নিজে দায়িত্বে থাকলেও সেই সময়ে মুক্তি পায়নি সিনেমাটি। সিনেমাটি কেন মুক্তি পায়নি, এ নিয়ে নানা প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে নির্মাতাকে। এসব প্রশ্নের উত্তর এবার এক ফেসবুক পোস্টে জানালেন তিনি। দেখে নেয়া যাক ফারুকী ‘শনিবার বিকেল’ মুক্তি না দেয়ার কি ব্যাখ্যা দিলেন।
শনিবার ২৮ ফেব্রুয়ারি মোস্তফা সরয়ার ফারুকী এ নিয়ে একটি স্ট্যাটাস দেন তাঁর ফেসবুকে। তিনি লিখেছেন, ‘“শনিবার বিকেল” কেন মুক্তি দিচ্ছেন না? অনেকেই মাঝেমধ্যেই আমার উদ্দেশ্যে এই হাওয়াই প্রশ্ন ছুঁড়েছেন গত দেড় বছর। প্রশ্নের মধ্যে এমন একটা ভাব লুকাইয়া রাখা আছে অ্যাজ ইফ আমি এখন উগ্রবাদ নিয়ে কথা বলতে ভয় পাই। বিষয়টি তেমন নয়। হাহা হা।’
‘শনিবার বিকেল’ মুক্তি না দেয়ার আসল কারণ
এই সময় ফারুকী পোস্টে জানান, তাঁর সিনেমাটি দেশে মুক্তি না পেলেও ভারতীয় ওটিটি প্ল্যাটফর্ম সনি লিভে মুক্তি পায়। সেখানে থেকে পাইরেসি হওয়ায় সিনেমাটি দেশে মুক্তির উদ্যোগ থেকে সরে দাঁড়ান।
তিনি লিখেছেন, ‘বাস্তবতা হলো, ছবিটা সনি লিভে মুক্তি পাওয়ার পর হাজার হাজার অনলাইন লিংক ছড়িয়ে পড়ে। যার দেখার সে দেখে ফেলছে। আর কারও দেখা বাকি থাকলে সে এক সেকেন্ডেই দেখতে পারবে।’
যাঁরা সিনেমা দেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি দেওয়ার কথা বলেন, তাঁদের উদ্দেশে ফারুকী লিখেছেন, ‘অনলাইনে অ্যাভেইলেবল একটা ছবি সিনেমা হলে কেন মুক্তি দিচ্ছেন না—এই দাবি একমাত্র তারাই করতে পারেন, যারা সিনেমা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত না। বাংলাদেশের বাজারে একটা সুপারহিট ছবিও ডিস্ট্রিবিউশন খরচ বাদ দিলে কত টাকা আয় করে, এটা অন্দরমহলের লোক জানে। যেমন আমাকে কিন্তু তারা কেউ বলবেন না, “ব্যাচেলর” সিনেমা হলে এখন মুক্তি দিচ্ছেন না কেন? কারণ, দেয়ার ইজ নো বিজনেস লেফট।’
ফারুকী আরও লিখেছেন, ‘যারা কল্পনায় অনেক কিছু ভাবতে আনন্দ পাচ্ছেন, তাদের উদ্দেশ্যে আমার ছোট মন্তব্য—আমি আমার বানানো সকল ছবিই ওউন করি। আগের মতোই ধর্মীয় বা সাংস্কৃতিক (জ্বী ওটাও খুব গুরুত্বপূর্ণ) যে কোনো উগ্রবাদ নিয়ে ছবিও করব। শিল্পীর ধর্মীয় উগ্রবাদ নিয়ে কথা বলতে যেমন সংকট থাকার কথা না, তেমনি চেতনার নামে শত শত মানুষ গুম-খুনের বিরুদ্ধে কথা বলতেও সংকট থাকার কথা না।’
শেষে ফারুকী লেখাটি শেষ করেন ‘জগতের সকল প্রাণী সুখী হোক’ কথাটি লিখে।


