অস্কারের ৯৯তম আসরে বাংলাদেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করবে মেজবাউর রহমান সুমন পরিচালিত সিনেমা ‘রইদ’। ‘ইন্টারন্যাশনাল ফিচার ফিল্ম’ বিভাগে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র হিসেবে ছবিটিকে চূড়ান্ত করেছে অস্কার বাংলাদেশ কমিটি।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলের পদ্মা হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘রইদ’-এর নাম ঘোষণা করা হয়। বাংলাদেশ ফেডারেশন অব ফিল্ম সোসাইটিজের (বিএফএফএস) সভাপতি ও অস্কার বাংলাদেশ কমিটির চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে ছবিটির নাম ঘোষণা করেন।

এবার অস্কারে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বের জন্য নির্ধারিত সময় সীমার মধ্যে মোট পাঁচটি সিনেমা জমা পড়ে। এগুলো হলো মেজবাউর রহমান সুমনের ‘রইদ’, রেদওয়ান রনির ‘দম’, নূরুল আলম আতিকের ‘মানুষের বাগান’, মোহাম্মদ তৌকির ইসলামের ‘দেলুপি’ এবং মনিরুল আকাশ হকের দ্য ইউনিভার্সিটি অব চাঁনখারপুল।
পরে ‘মানুষের বাগান’ স্বেচ্ছায় প্রতিযোগিতা থেকে সরে দাঁড়ায়। বাকি চারটি ছবির সার্বিক দিক ও গুণগত মান বিবেচনা করে সিলেকশন কমিটির সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত হয় ‘রইদ’।
‘রইদ’ মেজবাউর রহমান সুমনের দ্বিতীয় পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র। এর আগে তাঁর নির্মিত ‘হাওয়া’ দর্শক-সমালোচকের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। নতুন ছবিতেও মানুষের সম্পর্ক, ভালোবাসা ও জীবনের গভীর অনুভূতিকে ভিন্ন এক দৃষ্টিকোণ থেকে তুলে ধরেছেন নির্মাতা।

ছবির গল্প সাধু ও তাঁর মানসিকভাবে অসুস্থ স্ত্রীর সম্পর্ককে ঘিরে। সরল অথচ গভীর এই আখ্যানের মধ্য দিয়ে প্রেম ও নীরবতার ভেতর মানুষের চিরন্তন ভালোবাসার গল্প বলতে চেয়েছেন নির্মাতা। ছবির গুরুত্বপূর্ণ দুটি চরিত্রে অভিনয় করেছেন মোস্তাফিজুর নূর ইমরান ও নাজিফা তুষি।
‘রইদ’ অস্কারের জন্য নির্বাচিত হওয়ায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন ছবির শিল্পীরাও। অভিনেত্রী নাজিফা তুষীর মতে, ‘রইদ’-এর এই যাত্রা বাংলাদেশের সিনেমার জন্য নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিতে পারে।
তবে অস্কারের মূল প্রতিযোগিতায় যেতে হলে এখনো পেরোতে হবে আরও একটি ধাপ। চূড়ান্ত মনোনয়ন তালিকায় ‘রইদ’ জায়গা করে নিতে পারলে আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের সিনেমার গল্প ও নির্মাণশৈলী আরও বড় পরিসরে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হবে।









