দ্য বিটলস এর জাদুঘর
দ্য বিটলস তাদের শেষ কনসার্টটি যেখানে অনুষ্ঠিত হয়েছিল সে ভবনে জাদুঘর চালু করার উদ্যোগ নিয়েছে। ভক্তদের জন্য ওই সাততলা বাড়ির পুরোটা জুড়ে থাকবে সংরক্ষিত স্মারক এবং আগে কখনও প্রকাশ করা হয়নি এমন দুর্লভ সব আর্কাইভ।
গ্রেড-টু তালিকাভুক্ত ঐতিহাসিক ভবন ‘থ্রি সেভিল রো’ ১৯৬৮ থেকে ১৯৭২ সাল পর্যন্ত দ্য বিটলস এর প্রধান কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল। এই ভবনটির বেজমেন্টেই দলটি তাদের শেষ অ্যালবাম লেট ইট বি রেকর্ড করেছিলো।
এ নিয়ে পল ম্যাকার্টনি বিবিসিকে কে বলেন, তিনি চেয়েছিলেন লন্ডনে ভক্তদের জন্য বিটলসের একটি আনুষ্ঠানিক গন্তব্য থাকুক। তিনি বলেন, “পর্যটকেরা ইংল্যান্ডে এসে অ্যাবে রোড এ যায় কিন্তু ভেতরে ঢুকতে পারেন না। এতে যানজট তৈরি হয় এবং গাড়ী চালকেরাও বিরক্ত হন। তাই আমি মনে করেছি এটি দারুণ একটি উদ্যোগ।”

আনুষ্ঠানিকভাবে ‘দ্য বিটলস থ্রি সেভিল রো’ শিরোনামের এই অভিজ্ঞতামূলক প্রদর্শনী ২০২৭ সালে চালু হওয়ার কথা রয়েছে। আজ সোমবার থেকেই ভক্তরা ব্যান্ডটির ওয়েবসাইটে টিকিটের জন্য নিবন্ধন করতে পারবেন বলেও জানা গেছে।
বাড়িটিতে যা থাকছে
ভবনটিতে থাকবে সেই বেজমেন্ট স্টুডিওর পুনর্নির্মিত সংস্করণ, যেখানে লেট ইট বি রেকর্ড করা হয়েছিল। পাশাপাশি ভক্তরা ঠিক সেই স্থানেই দ্য বিটলসের বিখ্যাত ছাদ কনসার্টের অভিজ্ঞতা আবার অনুভব করতে পারবেন, যেখানে এটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
এখনও পুরো আয়োজনের বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি। তবে পল ম্যাকার্টনি ভেন্যুটি কীভাবে পরিচালিত হবে, সে বিষয়ে কিছু ধারণা দিয়েছেন।

তিনি বলেন, “প্রথমে আপনি নিচতলায় প্রবেশ করবেন, সেখানে থাকবে নানা স্মারক ও এ ধরনের জিনিসপত্র। এরপর ধাপে ধাপে পুরো ভবন ঘুরে দেখবেন, আর এখানে-সেখানে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ঘটনার অভিজ্ঞতা পাবেন। সবশেষে ওপরে ছাদে উঠবেন, যেখানে গিয়ে নিজেকে একেবারে দ্য বিটলসের সদস্য মনে হবে।”
স্বাভাবিকভাবেই ভবনটিতে লাইসেন্সপ্রাপ্ত বিটলস পণ্যের একটি দোকানও থাকবে। এ বিষয়ে তিনি বলেন, “মানে, একটা রিটেইল শপ থাকবে… তবে মানুষ সেটাই চায়। “আপনি ন্যাশনাল ট্রাস্ট এ গেলেও তো এমন কিছু চান, তাই না? একটা স্মারক তো থাকতেই হবে।”
রুফটফ কনসার্ট
১৯৬৯ সালের জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত দ্য বিটলস রুফটফ কনসার্ট ছিল দ্য বিটলসের শেষ জনসমক্ষে পারফরম্যান্স। তবে এই কনসার্টটি প্রায় বাতিলই হয়ে যাচ্ছিল।
শো’টির পরিচালক মাইকেল লিন্ডসে-হগ স্মরণ করে বলেন, ব্যান্ডের কয়েকজন সদস্য শেষ মুহূর্তে অনুষ্ঠানটি বন্ধ করে দিতে চেয়েছিলেন। তিনি বলেন, “জর্জ হ্যারিসন কনসার্টটি করতে চাইছিল না এবং রিঙ্গো স্টার বলতে শুরু করেছিল যে এর কোনো অর্থই সে দেখছে না।”
“তারপর জন লেনন বলল, ‘আরে, বাদ দাও , চলো এটা করি।’”

এরপর ব্যান্ডটি পাঁচতলা ওপরে উঠে দিনের বেলা একপ্রকার উন্মাদনার সৃষ্টি করে। ভক্তরা যখন বুঝতে পারেন কী ঘটছে, তখন তারা রাস্তাঘাট ও আশপাশের ভবনের ছাদে ভালোভাবে দেখার জন্য ভিড় জমাতে শুরু করেন।
৪২ মিনিটের এই পরিবেশনায় তারা ডোন্ট লেট মি ডাউন, আই’ভ গট এ ফিলিং’ এবং গেট ব্যাক এর দুটি সংস্করণসহ বেশ কয়েকটি গান পরিবেশন করেন। পরে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগের কারণে পুলিশ অনুষ্ঠানটি বন্ধ করে দেয়।
সম্প্রতি এই কনসার্টের ফুটেজ পুনরুদ্ধার ও পরিষ্কার করা হয়েছে গেট ব্যাক ডকুমেন্টারির জন্য। এছাড়া থ্রি সেভিল রো-এ কনসার্টটির স্মরণে একটি নীল স্মারক ফলকও স্থাপন করা হয়েছে।
দারুণ এক ভ্রমণ
থ্রি সেভিল রো-তে দ্য বিটলস আসার আগেও ভবনটি বহু গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির আবাসস্থল ছিল। এর আগের বাসিন্দাদের মধ্যে ছিলেন রবার্ট রস, যিনি ১৮১৪ সালে হোয়াইট হাউজ এ অগ্নিসংযোগ অভিযানের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। এছাড়া ছিলেন এমা হ্যামিল্টন ছিলেন, যিনি অ্যাডমিরাল নেলসনের প্রেমিকা হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
১৯৭০ সালে ব্যান্ড ভেঙে যাওয়ার পরও দ্য বিটলস তাদের প্রতিষ্ঠান অ্যাপল কর্পস-এর কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ভবনটি ব্যবহার করতে থাকে। পরে জর্জ হ্যারিসন ভবনের বাইরে অপেক্ষা করা ভক্তদের স্মরণীয় করে রাখেন তার গান অ্যাপল স্ক্রাপস এ, যা তার পোস্ট-বিটলস অ্যালবাম অ্যাল থিংস মাস্ট পাস এ প্রকাশিত হয়েছিল।
গানের কথায় তিনি লিখেছিলেন “ইউ’ভ বিন স্টুড অ্যারাউন্ড ফর ইয়ার্স / সিন মাই স্মাইলস অ্যান্ড টাচড মাই টিয়ার্স / অ্যাপল স্ক্রাফস / হাউ আই লাভ ইউ”।
পুনরায় ফেরা
১৯৭৬ সালে ব্যান্ডটি ভবনটি বিক্রি করে দেয়। পরে এটি ফ্যাশন প্রতিষ্ঠান “অ্যাবারক্রম্বি অ্যান্ড ফিচ” এর একটি দোকানে রূপান্তর করা হয়।
পল ম্যাকার্টনি জানান, ভবনটিতে আবার ফিরে আসার ধারণাটি দিয়েছিলেন টম গ্রিন যিনি অ্যাাপল কর্পস এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে ২০২৫ সালে দায়িত্ব নেন। এর আগে তিনি হ্যারি পটার ফ্র্যাঞ্চাইজির সঙ্গেও কাজ করেছেন।

স্যার পল বলেন, “সে খুবই প্রাণবন্ত একজন মানুষ। দ্য বিটলস মানুষের কাছে কী অর্থ বহন করে এবং আজকের দিনে মানুষ আমাদের কাছ থেকে কী চায় এসব বিষয় নিয়ে সে দারুণ উদ্যম নিয়ে কাজ করছে।”
এক বিবৃতিতে রিঙ্গো স্টার বলেন, সম্প্রতি ভবনটিতে ফিরে যাওয়া ছিল “যেন নিজের বাড়িতে ফিরে আসার মতো” অনুভূতি। অন্যদিকে পল ম্যাকার্টনি এটিকে বলেছেন “দারুণ এক অভিজ্ঞতা”।
তিনি বলেন, “এই ভবনের দেয়ালের ভেতরে অসংখ্য বিশেষ স্মৃতি জড়িয়ে আছে, ছাদের কথা তো বাদই দিলাম। পুরো টিম অসাধারণ কিছু পরিকল্পনা করেছে এবং সব প্রস্তুত হলে মানুষ সেটি দেখবে , এটা ভাবতেই আমি রোমাঞ্চিত।”
অননুমোদিত জাদুঘর
ভক্তরা এরই মধ্যে “লিভারপুল বিটলস মিউজিয়াম”এবং কাছের “দ্য বিটলস স্টোরি” এ বিটলসের স্মারক দেখতে পারেন। তবে এগুলোর কোনোটিই ব্যান্ডটির আনুষ্ঠানিক অনুমোদিত নয়।
এ ছাড়া ভক্তরা ভিড় করেন এলার্টন এ স্যার পলের শৈশবের বাড়ি, স্ট্রবেরি ফিল্ড এবং ওয়েভারট্রি” এ অবস্থিত জর্জ হ্যারিসন এর জন্মস্থানেও। স্থানগুলো এতটাই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে যে স্থানীয় বাসিন্দাদের স্বার্থ রক্ষায় গত সপ্তাহে ট্যুর গাইড ও দর্শনার্থীদের জন্য আচরণবিধি চালু করা হয়েছে।
ম্যাকার্টনি ও রিঙ্গোর নতুন অ্যালবাম
এদিকে পল ম্যাকার্টনি ও রিঙ্গো স্টার , দুজনই নতুন গান প্রকাশের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। রিঙ্গো স্টারের ২২তম অ্যালবাম লং লং রোড গত মাসে প্রকাশিত হয়েছে এবং এটি যুক্তরাজ্যের কান্ট্রি মিউজিক চার্টে দ্বিতীয় স্থানে পৌঁছেছে।
অন্যদিকে পল ম্যাকার্টনির নতুন অ্যালবাম“দ্য বয়েজ অফ ডানজিয়ন লেন” মে মাসের শেষ দিকে প্রকাশিত হবে। এই অ্যালবামে শিল্পীকে বেশ স্মৃতিময় আবহে দেখা যাবে। এখানে তিনি লিভারপুলে কাটানো শৈশব এবং দ্য বিটলসের শুরুর দিনের স্মৃতি নিয়ে গান গেয়েছেন।


