রিমেক হচ্ছে ‘তেরে নাম’ ও ‘রঙ্গিলা’র
বলিউডের জনপ্রিয় দুই সিনেমা ‘তেরে নাম’ ও ‘রঙ্গিলা’ নতুনভাবে ফিরতে যাচ্ছে বড় পর্দায়। ভারতীয় বিনোদন প্রতিষ্ঠান ইরোস ইন্টারন্যাশনাল তাদের নতুন কনটেন্ট পরিকল্পনার অংশ হিসেবে একাধিক জনপ্রিয় চলচ্চিত্রের সিক্যুয়েল নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছে। লন্ডন টেক উইকে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, নতুন ইরোস ইউনিভার্স উদ্যোগের মাধ্যমে পুরোনো সফল চলচ্চিত্রগুলোকে নতুন গল্প ও নতুন চরিত্রের মাধ্যমে ফ্র্যাঞ্চাইজিতে রূপ দেওয়া হবে।
ইরোসের ঘোষিত প্রকল্পগুলোর তালিকায় রয়েছে ‘তনু ওয়েডস মনু – দ্য নেক্সট চ্যাপ্টার’, ‘ফোবিয়া’, ‘ইংলিশ ভিংলিশ’, ‘দেশি বয়েজ’, ‘রঙ্গীলা’ এবং ‘তেরে নাম’। তবে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে ‘তেরে নাম’ ও ‘রঙ্গিলা’র সিক্যুয়েল।
যদিও দুটি সিনেমার নতুন সংস্করণ নির্মাণের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে, তবে মূল তারকারা ফিরবেন কি না সে বিষয়ে এখনো কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ফলে ‘তেরে নাম’-এর জনপ্রিয় চরিত্র রাধে হিসেবে সালমান খানকে আবার দেখা যাবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। একইভাবে ‘রঙ্গিলা’র নতুন কিস্তিতে আমির খান কিংবা উর্মিলা মাতন্ডকর থাকবেন কি না, সে বিষয়েও কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি।

১৯৯৫ সালে মুক্তি পাওয়া ‘রঙ্গিলা’ পরিচালনা করেছিলেন রাম গোপাল ভার্মা। চলচ্চিত্রটি শুধু বাণিজ্যিকভাবেই সফল হয়নি, বরং নব্বইয়ের দশকের অন্যতম প্রভাবশালী মিউজিক্যাল সিনেমা হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছিল। ছবিটির মাধ্যমে উর্মিলা মাতন্ডকর বলিউডের শীর্ষ অভিনেত্রীদের একজন হিসেবে প্রতিষ্ঠা পান। এ আর রহমানের সংগীতও ছবিটির জনপ্রিয়তায় বড় ভূমিকা রেখেছিল।
অন্যদিকে ২০০৩ সালে মুক্তি পাওয়া ‘তেরে নাম’ পরিচালনা করেছিলেন প্রয়াত পরিচালক সতীশ কৌশিক। প্রেম, বেদনা এবং আত্মত্যাগের গল্পভিত্তিক এই চলচ্চিত্রে সালমান খানের অভিনয় ব্যাপক প্রশংসা কুড়ায়। অনেক সমালোচক আজও এটিকে তার ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা অভিনয় হিসেবে বিবেচনা করেন।
ঘোষিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে ‘তনু ওয়েডস মনু-দ্য নেক্সট চ্যাপ্টার’, নিয়েও দর্শকদের কৌতূহল রয়েছে। প্রথম দুটি ছবিতে অভিনয় করেছিলেন কঙ্গনা রানাউত ও আর মাধবন। তবে নতুন কিস্তিতে তারা ফিরবেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। ছবিটি পরিচালনা করবেন মিতাক্ষরা কুমার এবং ২০২৬ সালে এর নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

শুধু সিক্যুয়েল নয়, ইরোস আরও বড় পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি ইরোস ব্রহ্মাণ্ড নামে পৌরাণিক কাহিনিনির্ভর একটি সিনেমাটিক ইউনিভার্স তৈরির ঘোষণা দিয়েছে। এই ইউনিভার্সে মোট নয়টি মৌলিক চলচ্চিত্র থাকবে। এর মধ্যে রয়েছে ‘নন্দী – কৈলাসের যুদ্ধ’, ‘দ্বারকা: মহাবিশ্বের প্রবেশদ্বার’, ‘বিমান যুদ্ধ’ এবং ‘মহাভারত ৫০০০ খ্রিস্টাব্দ’।
এ ছাড়া ইরোস রিমাস্টার্ড নামে একটি নতুন প্রকল্পেরও ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, যার মাধ্যমে পুরোনো জনপ্রিয় চলচ্চিত্রগুলো আধুনিক প্রযুক্তিতে পুনরুদ্ধার করা হবে। এই উদ্যোগের সূচনা হবে রজনীকান্ত অভিনীত মোশন-ক্যাপচার চলচ্চিত্র ‘কোচাদাইয়ান’ দিয়ে। পুরো পুনরুদ্ধার কার্যক্রমের তত্ত্বাবধানে থাকবেন সৌন্দর্যা রজনীকান্ত।
ইরোস ইন্টারন্যাশনালের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান কিশোর লুলা বলেন, তাদের লক্ষ্য হলো পৌরাণিক গল্প, দর্শকপ্রিয় চলচ্চিত্র ফ্র্যাঞ্চাইজি এবং ক্লাসিক সিনেমাকে একটি বৃহৎ সৃজনশীল ভিশনের আওতায় নিয়ে আসা। তার মতে, নতুন প্রজন্মের দর্শকদের কাছে পরিচিত গল্পগুলোকে নতুনভাবে উপস্থাপন করাই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।
ইরোসের এই ঘোষণার পর থেকেই বলিউডপ্রেমীদের মধ্যে বাড়তে শুরু করেছে আগ্রহ। বিশেষ করে ‘তেরে নাম’ ও ‘রঙ্গিলা’র মতো কালজয়ী চলচ্চিত্রের নতুন অধ্যায় কেমন হবে, তা জানতে এখন মুখিয়ে আছেন দর্শকরা।