Chitralee will take you closer to the world of entertainment.
Chitralee will take you closer to the world of entertainment.
মঙ্গলবার, জুন ২, ২০২৬

নাজিয়া সামান্থা- হজ করলেও ড্রামসের প্রতি টান রয়ে গেছে

নাজিয়া সামান্থা
নাজিয়া সামান্থা

হিজাবী ড্রামার নাজিয়া সামান্থা

সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখা গেছে এক ব্যতিক্রমী চিত্র। হিজাব পরিহিত অবস্থায় নিজের সবটুকু উজাড় করে দিয়ে ড্রাম বাজিয়ে চলছেন একজন মেয়ে। শ্রোতারাও শুনছেন দেখছেন খুব মনোযোগ দিয়ে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া সেই শিল্পীর নাম নাজিয়া সামান্থা । তিনি হজও পালন করেছেন। তবে হজ পালন করার পর নাচসহ অনেক কিছু ছেড়ে দিলেও ড্রামসের প্রতি প্রবল টান রয়ে গেছে শিল্পী নাজিয়া সামান্থার।

সামান্থার ড্রাম বাজানোর ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পরে দেশের এক গণমাধ্যমে দেয়া সাক্ষাৎকারে নাজিয়া সামান্থা বলেছেন, ‘লাস্ট ইয়ার, ২০২৫ সালে আমি হজ করি। হজের আগপর্যন্ত আমি ড্যান্সও করতাম, রিং ড্যান্স করতাম। হজের পরে আমি সবকিছুই ছেড়ে দিই। কিন্তু ড্রামসের প্রতি আমার আলাদা একটা টান আছে।’

নাজিয়া সামান্থা
নাজিয়া সামান্থা | ছবি: কোলাজ

সংগীতের সঙ্গে তার ছোটবেলা থেকেই সম্পর্ক বলে জানান তিনি। এ প্রসঙ্গে সামান্থা বললেন, ‘মিউজিক লাইনে আসা আমার বাবার মাধ্যমে। ছোট থেকে বাবা আমাকে গিটার, ভায়োলিন, ড্রামস সবকিছুই শিখিয়েছে। ওভাবেই মিউজিকের সঙ্গে আমার ইনভলভ হওয়া।’

যেভাবে ভাইরাল হলেন

সম্প্রতি ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি নিয়ে নাজিয়া বলেন,‘আমার ভাইয়ের একটা ব্যান্ড আছে, নবজাত। ওদের সঙ্গেই আমি টুকটাক বাজাই। ওদের একটি প্রোগ্রামে আমি র‌্যান্ডমলি ড্রাম বাজাই। বাজানোর পর হঠাৎ করে দেখি এটা খুব ভাইরাল হয়ে যায়।’

সেদিনের ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে নাজিয়া বললেন, ‘আমরা ক্লাসে ছিলাম। আমার এক বন্ধুকে ওর ব্যান্ড মেম্বার জাওয়াদ কল করে বলে, একটা শো আছে, তুমি আসো। পরে আমরা সবাই যাই। সেখানে একজন টিচার আমাকে চিনতে পারেন। উনি বলেন, ‘তুমি তো পারো, তুমি একটু বাজাও তো।’ ওইভাবেই আমি স্টেজে উঠি। জাস্ট জ্যামিং করতেছিলাম। জ্যামিং করতে করতে ওরা গান ধরে ফেলে। নরমালি ওভাবে আমি বাজিয়ে দিই। তারপর হঠাৎ দেখি এটা খুব ভাইরাল হয়ে যায়।’

প্রথমবার এত পরিচিতি পাওয়ার অনুভূতি নিয়ে নাজিয়া বলেন,‘অবশ্যই অনেক ভালো লাগতেছে। কারণ এটা আমার ফার্স্ট টাইম। আমি ছোট থেকেই মিউজিকের সঙ্গে ইনভলভ।’

হিজাব ও ড্রামসের দ্বন্দ্ব!

তবে এতো প্রশংসার মধ্যেও হিজাব পরে ড্রাম বাজানো নিয়ে সমালোচনার মুখেও পড়েছেন তিনি। এ বিষয়ে নাজিয়া বলেন,‘আমি ছোট থেকে অনেক কিছু শোনার পরেও কোনো কিছু পাত্তা দিই না। এখনো দিচ্ছি না। ড্রামসও আমার ইচ্ছা থেকে আমি বাজাই। হিজাবও আমার ইচ্ছায় করি। হিজাবটা করছি মূলত হজের কারণে, আর ড্রামস আমার শখ। তাই নেগেটিভ কমেন্টগুলো আমি কানেই নিচ্ছি না। যারা পজিটিভ কমেন্ট করছে, তাদের ভালোবাসা নিয়েই সামনে এগিয়ে যাচ্ছি।’

এছাড়াও পরিবারের সমর্থনের কথা উল্লেখ করেন, ‘আমি ছোট থেকেই আমার ফ্যামিলির ফুল সাপোর্ট পেয়েছি। বাবার সাপোর্ট ছিল, মার সাপোর্ট ছিল। বাবাই আমাকে মিউজিক লাইনে এনেছে। বাবার জন্যই আজকে আমি এতদূর। যতটুকু পেরেছি, তার বড় কারণ বাবা।’

সামান্থা বলছেন, ‘বাবা কোনো ইন্সট্রুমেন্ট বাজাতে পারে না, কিন্তু তার খুব শখ। সবসময় কারেকশন করে দেয়। বলে, এটা এভাবে না করে ওভাবে করো। কোথায় কী ভালো হবে, সবকিছুতেই বাবার একটা হাত থাকে। মা-ও সবসময় পাশে থাকে।’

শৈশবের গানের দিনগুলোর স্মৃতিচারণা করে নাজিয়া বলেন,‘একটা সময় আমি উল্টো বিরক্ত হয়ে যেতাম। বাবা আমার জন্য রুটিন করে দিত। এই সময় গিটার, এরপর ভায়োলিন, এরপর ড্রামস। আমি ভাবতাম, আর কত! কিন্তু বাবা-মা কখনো বিরক্ত হতো না। তারা সবসময় চাইত আমরা কিছু করি।’

পেশা হিসেবে ড্রামস

‘সবকিছুই আমার কাছে পজিটিভ লাগছে। আগে আমার বন্ধুদের সাপোর্ট ছিল, এখন আরও বেশি মানুষের ভালোবাসা পাচ্ছি। এটা আসলে ভাষায় প্রকাশ করার মতো না। আমি খুবই এক্সাইটেড। অনেক সময় স্পিচলেস হয়ে যাই’ -বললেন নাজিয়া।

তবে ভবিষ্যতে ড্রাম বাজানোকে পেশা হিসেবে নেওয়ার পরিকল্পনা আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি জানান তাঁর এমন কোন ইচ্ছে নেই। ‘সামনে এগুলো নিয়েই আগাবো, এমন কোনো শখ নেই। আমি আসলে ড্রামসটা হঠাৎ হঠাৎ শখে বাজাই। মাঝে মাঝে মনে হয়, হজ করে ফেলছি, এখন আর দরকার নাই। তখন লুকায় লুকায় বাজাই। কিন্তু এগুলো নিয়েই ক্যারিয়ার গড়ার চিন্তা নেই।’

+ posts
Share this article
Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Read next

‘কালা হিরাণ’ নির্মাতাকে সালমান খানের আইনি নোটিশ

কৃষ্ণসার হরিণ হত্যা সালমান খানের কৃষ্ণসার হরিণ হত্যা মামলাকে কেন্দ্র করে নির্মিত হচ্ছে সিনেমা ‘কালা হিরাণ: দ্য…
0
Share