ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় চিত্রনায়ক মান্নার স্মৃতিবিজড়িত লালগাড়িটি আগুনে পুড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় গাড়িটি মেরামতের সময় আগুন লাগে। এ ঘটনায় প্রায় ৯০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতির অভিযোগে মান্নার পরিবারের ম্যানেজার মো. মামুন মণ্ডল ও টেকনিশিয়ান মো. সোহেল পাটওয়ারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
তবে আসামিপক্ষের আইনজীবীর দাবি, ইচ্ছাকৃতভাবে নয়, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণেই গাড়িটিতে আগুন লাগে। দুই আসামির জামিন আবেদনের শুনানির জন্য বুধবার (২৮ অক্টোবর) দিন ধার্য করেছেন আদালত।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ভাটারা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ইয়াউর রহমান আসামিদের আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদ শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই কামাল উদ্দীন।

মেরামতের সময় আগুন, ক্ষতি ৯০ লাখ টাকা
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একটি ভবনের নিচে পার্কিংয়ের গ্যারেজে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে ছিল মান্নার স্ত্রী শেলী মান্নার ব্যবহৃত একটি প্রাইভেটকার। গাড়িটির নম্বর ঢাকা মেট্রো-গ-১৫-০৭৭৫। একপর্যায়ে গাড়ির নিচে তেলের চিহ্ন দেখতে পেয়ে সেটি সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ জানায় ভবন কর্তৃপক্ষ।
এরপর গাড়িটি গ্যারেজ থেকে বের করে মেরামতের ব্যবস্থা করতে পরিবারের ম্যানেজার মামুন মণ্ডলকে নির্দেশ দেওয়া হয়। গত ২৬ অক্টোবর মামুন ও টেকনিশিয়ান সোহেল পাটওয়ারী গাড়িটি মেরামত করতে সেখানে যান। অভিযোগে বলা হয়েছে, ভবনের ম্যানেজার তাদের গ্যারেজের বাইরে গিয়ে কাজ করার কথা বললেও তারা ভেতরেই মেরামত শুরু করেন।
সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টার দিকে গাড়িটিতে আগুন লাগে। এতে মান্নার ব্যবহৃত গাড়িটি সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। আগুনে পাশের আরেকটি প্রাইভেটকারও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ ছাড়া গ্যারেজ, বিদ্যুতের তার, সিসিটিভি ক্যামেরা, গেটের শাটারসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম পুড়ে যায়। ভবনের বিভিন্ন স্থানের কাচও ভেঙে যায়। সব মিলিয়ে প্রায় ৯০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

আসামিপক্ষের দাবি, দুর্ঘটনাবশত আগুন
আসামিদের আইনজীবী খাদেমুল ইসলাম আদালতে জামিনের আবেদন করেন। তাঁর দাবি, গাড়িটি দীর্ঘদিন অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে ছিল। সেটি মেরামতের উদ্যোগ নেওয়ার সময় যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে আগুন লাগে। দুই আসামির একজন মান্নার পরিবারের ম্যানেজার, অন্যজন গাড়ির টেকনিশিয়ান। তারা ইচ্ছাকৃতভাবে আগুন লাগিয়েছেন, এমন অভিযোগ সঠিক নয় বলে দাবি করেন তিনি।
এ ঘটনায় ভবনের ম্যানেজার মো. গাজী মানিক মিয়া ভাটারা থানায় অভিযোগ করেন। পরে পুলিশ সেটিকে মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করে তদন্ত শুরু করে। তদন্তের অংশ হিসেবে মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে মামুন ও সোহেলকে গ্রেপ্তার করা হয়।
আদালতে দেওয়া আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের পক্ষে তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত আসামিদের কারাগারে রাখা প্রয়োজন বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
মান্নার স্মৃতিবিজড়িত গাড়ি
ঢালিউডের জনপ্রিয় নায়ক মান্না ২০০৮ সালে মারা যান। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তাঁর অভিনীত সিনেমা ও স্মৃতি দর্শকদের কাছে এখনো বিশেষভাবে সমাদৃত। পরিবারের কাছে সংরক্ষিত ছিল তাঁর ব্যবহৃত বিভিন্ন স্মারক। এর মধ্যে লালগাড়িটিও ছিল অন্যতম।
সিনেমায়ও গাড়িটি ব্যবহার করেছিলেন মান্না। দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকার পর মেরামত করতে গিয়ে সেটি আগুনে পুড়ে যাওয়ার ঘটনা তাঁর ভক্তদের কাছে স্মৃতিবিজড়িত এই সম্পদের ক্ষতি হিসেবেই সামনে এসেছে।
এ বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. ইয়াউর রহমান জানিয়েছেন, মান্নার ব্যবহৃত গাড়িটি তাঁর স্ত্রী শেলী মান্নার তত্ত্বাবধানে ছিল। মামলার তদন্ত চলছে।







