সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জ্যাকি চ্যানের মৃত্যুর গুজব
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আবারও ছড়িয়ে পড়েছে হলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা ও মার্শাল আর্ট তারকা জ্যাকি চ্যানের মৃত্যুর গুজব। তবে ৭২ বছর বয়সী এই অভিনেতা জীবিত আছেন। ‘১৯৫৪–২০২৬’ লেখা একটি সাদাকালো ছবি ঘিরেই মূলত নতুন করে এই গুজব ছড়িয়েছে। বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ছবিটি শোকবার্তার আদলে ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকেই সেটিকে সত্য ধরে নিয়ে জ্যাকি চ্যানের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেন। তবে তাঁর মৃত্যুর দাবির পক্ষে কোনো বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ বা আনুষ্ঠানিক ঘোষণা পাওয়া যায়নি।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জ্যাকি চ্যানের একটি সাদাকালো ছবি ভাইরাল হয়। ছবিতে তাঁর নামের পাশে ‘১৯৫৪-২০২৬’ লেখা রয়েছে। স্মরণবার্তার আদলে তৈরি এই ছবি দেখে অনেক ব্যবহারকারী ধারণা করেন, আন্তর্জাতিক অ্যাকশন সিনেমার অন্যতম পরিচিত এই তারকা মারা গেছেন।
গুজবটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার পর ভক্তদের অনেকে শোকবার্তা প্রকাশ করতে থাকেন। এক্সে (সাবেক টুইটার) একটি পোস্টে ওই ছবির সঙ্গে জ্যাকি চ্যানকে নিয়ে শোকবার্তাও প্রকাশ করা হয়। পোস্টটি অল্প সময়ের মধ্যে লাখো মানুষের কাছে পৌঁছে যায়। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এমন একটি পোস্ট কয়েক ঘণ্টার মধ্যে কয়েক মিলিয়ন ভিউ পায়।
তবে ভাইরাল ছবিতে জ্যাকি চ্যানের মৃত্যুর কোনো সূত্র, তারিখ বা বিশ্বাসযোগ্য সংবাদ মাধ্যমের তথ্য নেই। বরং চলতি বছরের ৭ জুলাই সিঙ্গাপুরের পেই চুন পাবলিক স্কুলে তাঁকে প্রকাশ্যে দেখা গেছে। সেখানে প্রায় ৯০০ শিক্ষার্থী ও শিক্ষকের সঙ্গে সময় কাটান তিনি। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিজের শৈশব, দীর্ঘ অভিনয় জীবন ও স্বপ্ন নিয়ে কথা বলেন। অনুষ্ঠানে উশু, সিংহ ও ড্রাগন নৃত্য পরিবেশনের পাশাপাশি গানও পরিবেশন করেন এই অভিনেতা।
এই প্রকাশ্য উপস্থিতির তথ্যের সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়ানো মৃত্যুর দাবির কোনো সামঞ্জস্য নেই। এ ছাড়া জ্যাকি চ্যানের পরিবার বা প্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে তাঁর মৃত্যুর কোনো ঘোষণা আসেনি। তাঁর মৃত্যুর দাবির পক্ষে নির্ভরযোগ্য সংবাদ মাধ্যমেও কোনো তথ্য প্রকাশিত হয়নি।
জ্যাকি চ্যানকে ঘিরে আগেও ছড়িয়েছে মৃত্যুর গুজব
এবারই প্রথম নয়, এক দশকেরও বেশি সময় ধরে একাধিকবার জ্যাকি চ্যানের মৃত্যুর গুজব ছড়িয়েছে। আফ্রিকা চেকের তথ্য অনুযায়ী, ২০১১ সালে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাঁর মৃত্যুর গুজব ছড়িয়েছিল। পরে ২০১৫ সালেও একই ধরনের গুজব ছড়িয়ে পড়ে। দুই ক্ষেত্রেই মৃত্যুর দাবি মিথ্যা ছিল এবং জ্যাকি চ্যান নিজেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাঁর জীবিত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছিলেন।
২০২২ সালেও ফেসবুকে জ্যাকি চ্যানের মৃত্যুর দাবি ছড়িয়ে পড়েছিল। সে সময় পলিটিফ্যাক্ট যাচাই করে জানায়, তাঁর মৃত্যুর দাবির পক্ষে কোনো বিশ্বাস যোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। জ্যাকি চ্যানের যাচাইকৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম অ্যাকাউন্টেও তাঁর মৃত্যুর কোনো ঘোষণা ছিল না।
জ্যাকি চ্যান ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে বিনোদন জগতের সঙ্গে যুক্ত। ‘ড্রাংকেন মাস্টার’, ‘পুলিশ স্টোরি’, ‘রাশ আওয়ার’, ‘দ্য কারাতে কিড’ ও ‘কুংফু পান্ডা’র মতো সিনেমায় অভিনয়ের মাধ্যমে হংকংয়ের চলচ্চিত্র থেকে হলিউড দুই অঙ্গনেই ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছেন তিনি।
ভাইরাল ‘১৯৫৪–২০২৬’ ছবির বিপরীতে জ্যাকি চ্যানের ২০২৬ সালের জুলাইয়ের প্রকাশ্য উপস্থিতির তথ্য রয়েছে। একই সঙ্গে তাঁর মৃত্যুর বিষয়ে পরিবার বা প্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে কোনো ঘোষণা কিংবা নির্ভরযোগ্য সংবাদ মাধ্যমে কোনো প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি। ফলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিটিকে তাঁর মৃত্যুর নিশ্চিত খবর হিসেবে নেওয়ার কোনো ভিত্তি নেই।









