বিটিএসভক্তের বাড়িতে অনুপ্রবেশের চেষ্টা
বিশ্বখ্যাত কে-পপ ব্যান্ড বিটিএসের সদস্য জাংকুক-এর বাড়িতে বারবার গিয়ে অনুসরণমূলক ও অনধিকার আচরণের অভিযোগে এক ব্রাজিলীয় নারীকে এক বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার একটি আদালত। তবে দণ্ডটি দুই বছরের জন্য স্থগিত রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে বহিষ্কারের প্রক্রিয়াও শুরু হতে পারে বলে জানা গেছে।
আদালতের নথিপত্র অনুযায়ী, অভিযুক্ত নারীর নাম প্রকাশ করা হয়নি। তিনি গত ডিসেম্বর থেকে জাংকুকের প্রতি অস্বাভাবিক আগ্রহ ও অনুসরণমূলক আচরণ শুরু করেন। পুলিশের তথ্যমতে, তিনি একাধিকবার জাংকুকের বাড়িতে গিয়ে চিঠি, ছবি এবং বিভিন্ন উপহার রেখে আসার চেষ্টা করেন। এসব কর্মকাণ্ডকে তিনি ‘ভালোবাসার প্রকাশ’ বলে দাবি করলেও আদালত তা গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করেছে।
জাংকুককে অনুসরণ
মামলার তথ্য অনুযায়ী, গত ৭ ডিসেম্বর তিনি প্রথমবার সিউল-এ অবস্থিত জাংকুকের বাড়িতে যান। সেখানে তিনি বাড়ির আশপাশে ঘোরাফেরা করেন, প্রাচীর টপকে ভেতরে বিভিন্ন বস্তু নিক্ষেপ করেন এবং দরজার ফাঁক দিয়ে চিঠি গলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন।

কয়েক দিনের ব্যবধানে তিনি আবারও সেখানে ফিরে আসেন। এবার তিনি একটানা ১৩৩ বার কলিংবেল বাজিয়ে বাসার ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করেন। আদালত এই ঘটনাকে “চরম মাত্রার পাগলামি” হিসেবে উল্লেখ করেছে।
পরিস্থিতি আরও গুরুতর হয়ে ওঠে ১৩ ডিসেম্বর। ওই দিন অভিযুক্ত নারী একজন খাবার সরবরাহকারী কর্মীর পিছু নিয়ে পাশের গেট দিয়ে জাংকুকের বাড়িতে ঢোকার চেষ্টা করেন। পরে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। পরদিন শর্তসাপেক্ষে তাকে মুক্তি দেওয়া হয় এবং জাংকুকের বাড়ির কাছাকাছি না যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু তিনি সেই নির্দেশ অমান্য করেন।
জরুরি আদেশ জারি
আদালতে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, পরবর্তী কয়েক সপ্তাহেও তিনি বারবার জাংকুকের বাড়ির আশপাশে যান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ জরুরি আদেশ জারি করে, যাতে তার জন্য জাংকুকের বাড়ির ১০০ মিটারের মধ্যে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়। কিন্তু সেই নিষেধাজ্ঞাও কার্যকর হয়নি। ফেব্রুয়ারিতেও তিনি সেখানে যাওয়ার চেষ্টা চালিয়ে গেলে বিষয়টি প্রসিকিউটরদের কাছে পাঠানো হয়।
তদন্তে জানা যায়, অভিযুক্ত নারী সব মিলিয়ে অন্তত ২২ বার জাংকুকের বাড়িতে গিয়েছিলেন। আদালত তার কর্মকাণ্ডকে পরিকল্পিত ও ধারাবাহিক অনুসরণমূলক আচরণ হিসেবে বিবেচনা করেছে।

এক বছরের কারাদণ্ড স্থগিত
রায় ঘোষণার সময় বিচারক বলেন, ভবিষ্যতে একই ধরনের অপরাধ পুনরায় সংঘটনের ঝুঁকি তুলনামূলক কম। সেই বিষয়সহ কয়েকটি পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে এক বছরের কারাদণ্ড স্থগিত করা হয়েছে। তবে তিনি আপিলে ব্যর্থ হলে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে বহিষ্কারের মুখে পড়তে পারেন।
উল্লেখ্য, এটি জাংকুককে ঘিরে প্রথম এমন ঘটনা নয়। গত বছরের জুনে সামরিক সেবা শেষ করে ফেরার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তার বাসভবনে প্রবেশের চেষ্টা করার অভিযোগে ৩০ বছর বয়সী এক চীনা নারীকে গ্রেপ্তার করেছিল দক্ষিণ কোরিয়ার পুলিশ। ফলে তারকাদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও ভক্তদের সীমা অতিক্রম করা আচরণ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।