আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলি
বাংলাদেশি নির্মাতা আদনান আল রাজীবের প্রশংসিত স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘আলি’ বালিনাল উৎসবে আরও একটি বড় সাফল্য অর্জন করেছে। চলচ্চিত্রটি বালি ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে (Balinale) ‘বেস্ট শর্ট ন্যারেটিভ’ বা সেরা কাহিনিচিত্রভিত্তিক স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের পুরস্কার জিতেছে। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবগুলোতে ‘আলি’র বিজয়যাত্রায় যুক্ত হলো আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
বাংলাদেশ ও ফিলিপাইনের যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত ১৫ মিনিট দৈর্ঘ্যের এই চলচ্চিত্রটি একটি রক্ষণশীল উপকূলীয় শহরের গল্প তুলে ধরেছে, যেখানে নারীদের গান গাওয়া সামাজিকভাবে নিষিদ্ধ। এমন বাস্তবতায় বেড়ে ওঠা এক কিশোর নিজের স্বপ্ন পূরণের আশায় একটি গানের প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। শহর ছেড়ে নতুন জীবনের সন্ধানে এগিয়ে যেতে চাইলেও তার কণ্ঠস্বর ঘিরে থাকা এক গোপন সত্য তাকে কঠিন এক বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড় করায়। পরিচয়, আত্মপ্রকাশ, স্বাধীনতা ও সামাজিক বিধিনিষেধের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে সংবেদনশীলভাবে তুলে ধরেছে চলচ্চিত্রটি।
চলচ্চিত্রটিতে অভিনয় করেছেন আল আমিন এবং ইন্দ্রাণী সোমা। পরিচয়, আত্মপ্রকাশ এবং সামাজিক বিধিনিষেধের মতো বিষয়কে কেন্দ্র করে নির্মিত ‘আলি’ ইতোমধ্যেই আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্রমহলে ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করেছে।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ‘আলি’র গৌরবময় সাফল্য
বালিনালেতে সাফল্যের আগে ‘আলি’ ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন করেছে। চলচ্চিত্রটি কাটমুন্ডূ ইন্টারন্যাশনাল মাউন্টেন ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা বিভাগে সেরা স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের পুরস্কার জেতে। এছাড়া ৭৮তম কান ফেস্টিভ্যালের স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র প্রতিযোগিতা বিভাগে ‘স্পেশাল মেনশন’ সম্মান অর্জন করে ইতিহাস গড়ে। এর মাধ্যমে ‘আলি’ প্রথম বাংলাদেশি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র হিসেবে কান উৎসবে এ ধরনের স্বীকৃতি লাভ করে।
চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ‘আলি’র ধারাবাহিক সাফল্য ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক সহ-প্রযোজনা, উৎসব অংশগ্রহণ এবং বৈশ্বিক দর্শকের কাছে বাংলাদেশি গল্প পৌঁছে দেওয়ার নতুন সুযোগ তৈরি করবে। একই সঙ্গে এটি দেশের তরুণ নির্মাতাদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। আন্তর্জাতিক মঞ্চে একের পর এক স্বীকৃতি অর্জনের মধ্য দিয়ে ‘আলি’ শুধু একটি সফল চলচ্চিত্র নয়, বরং বাংলাদেশের সৃজনশীল সম্ভাবনার প্রতীক হিসেবেও নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করছে।
সাম্প্রতিক এই অর্জনের মধ্যদিয়ে ‘আলি’ বাংলাদেশের স্বাধীন চলচ্চিত্রকে বিশ্বমঞ্চে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গেল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। চলচ্চিত্রটির ধারাবাহিক আন্তর্জাতিক সাফল্য দেশের চলচ্চিত্র অঙ্গনের জন্যও গর্বের বিষয় হয়ে উঠেছে।


