ঢাকাই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেত্রী অপু বিশ্বাস। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে অসংখ্য ব্যবসাসফল সিনেমায় অভিনয় করে তিনি দর্শকদের হৃদয়ে বিশেষ স্থান করে নিয়েছেন। তবে পর্দার গ্ল্যামারাস এই নায়িকার শৈশব ও স্কুলজীবনের গল্প ছিল একেবারেই ভিন্ন। সম্প্রতি একটি পডকাস্ট অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে নিজের ছোটবেলা, স্কুলজীবন এবং প্রেমের প্রস্তাব পাওয়া নিয়ে নানা মজার স্মৃতিচারণ করেছেন তিনি।
স্কুলজীবনের স্মৃতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে অপু জানান, পড়াশোনাতেও তিনি ছিলেন বেশ মনোযোগী। ক্লাস ফাইভে বৃত্তি পাওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, শিক্ষকদের কাছেও তার আলাদা গুরুত্ব ছিল।
“স্কুলে কোনো অনুষ্ঠান বা বিশেষ আয়োজন হলেই স্যাররা বলতেন, ‘অপুকে ডাকো, প্ল্যানিং করতে হবে।’ আমি পড়াশোনাতেও ভালো ছিলাম। ক্লাস ফাইভে বৃত্তি পেয়েছিলাম। তাই শিক্ষকরা আমাকে বিশ্বাস করতেন,” বলেন তিনি।

আলোচনার একপর্যায়ে উঠে আসে স্কুলজীবনের প্রেমের প্রস্তাব পাওয়ার বিষয়টিও। এ সময় অপু বিশ্বাস জানান, তাকে সরাসরি ভালোবাসার কথা বলার সাহস খুব কম ছেলেই পেত। বেশিরভাগ সময় তার বান্ধবীদের মাধ্যমেই আসত প্রেমের বার্তা কিংবা চিঠি।
তিনি বলেন, “স্কুলে অনেকেই আমাকে পছন্দ করত। কিন্তু সরাসরি বলার সাহস পেত না। আমার বান্ধবীদের দিয়ে বলাত। কেউ কেউ চিঠিও লিখত। তখন আমার বান্ধবীরা বলত, ‘ওরে বাবা! চিঠি নিলে তো বন্ধুত্বই নষ্ট হয়ে যাবে, অপু অনেক রাগ করবে।’”
তবে এত প্রস্তাব পাওয়া সত্ত্বেও স্কুলজীবনে কখনো কোনো প্রেমের সম্পর্কে জড়াননি বলে জানান এই অভিনেত্রী। তার ভাষায়, “ঐ জায়গা থেকে আমার কখনো প্রেম হয়নি। অনেকেই হয়তো আমাকে পছন্দ করতেন, কিন্তু সেটা আমি পরে শুনেছি বা জেনেছি।”
আড্ডায় অপু বিশ্বাস জানান, ছোটবেলায় তিনি নিজেকে অনেকটা ছেলেদের মতোই ভাবতেন। তার আচরণ, চলাফেরা এবং স্বভাব ছিল বেশ ডানপিটে। এমনকি অনেকেই তাকে ছেলে বলে ভুল করতেন।

অভিনেত্রীর ভাষায়, “ছোটবেলায় তো আমি নিজেকে ছেলে মনে করতাম। আমার নামটা ছিল অপু। আমার কাকা কিংবা বাবার অনেক বন্ধু, যারা আমাকে আগে দেখেননি, তারা ভাবতেন আমি হয়তো ছেলে। বাবাকে বলতেন, ‘আপনার ছোট ছেলে কেমন আছে?’ বাবা বিষয়টি নিয়ে বেশ মজা পেতেন।”
তিনি আরও বলেন, ছোটবেলায় কখনোই শান্ত বা মিষ্টি স্বভাবের ছিলেন না। বরং সবসময় চঞ্চল আর দুষ্টুমিতে ভরা একটি শিশু ছিলেন। সেই কারণেই পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনদের কাছেও তিনি ছিলেন বেশ পরিচিত মুখ।
অপুর এই অকপট স্মৃতিচারণ ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভক্তদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। অনেকেই তার সরল স্বীকারোক্তি এবং স্কুলজীবনের মজার ঘটনাগুলোকে উপভোগ করেছেন। পর্দার তারকা হওয়ার আগে একজন সাধারণ, চঞ্চল এবং আত্মবিশ্বাসী কিশোরী হিসেবে তার বেড়ে ওঠার গল্প নতুন করে ভক্তদের সামনে তুলে ধরেছে তার ব্যক্তিত্বের আরেকটি দিক।