টালিউডে শোক
টালিউডে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। প্রখ্যাত নির্মাতা অনীক দত্ত আর নেই। বুধবার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে পশ্চিমবঙ্গের একাধিক সংবাদমাধ্যম। মৃত্যুকালে অনীকের বয়স হয়েছিল প্রায় ৬৬। পাঁচ দিন আগেই জন্মদিন গিয়েছে পরিচালকের। ২২ মে পুরনো স্মৃতি সমাজমাধ্যমে ভাগও করে নিয়েছিলেন পরিচালক।
জানা গেছে, বুধবার দুপুরে কলকাতার হিন্দুস্তান পার্ক এলাকায় প্রাক্তন স্ত্রীর বাড়ির ছাদ থেকে পড়ে গুরুতর আহত হন তিনি। পরে সংকটজনক অবস্থায় তাকে ভর্তি করা হয় ঢাকুরিয়া মণিপাল হাসপাতালে। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই নির্মাতা। পরে ময়নাতদন্তের জন্য তার মরদেহ নেওয়া হবে এসএসকেএম হাসপাতালে।
পরিচালক অরিন্দম শীল, প্রযোজক রানা সরকার, ফিরদৌসুল হাসানসহ টালিউড সংশ্লিষ্ট অনেকে ফেসবুক পোস্টে অনীক দত্তের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন।
ইতিমধ্যেই হাসপাতালে ভিড় করেছেন টলিউড এবং রাজনৈতিক মহলের অনেকে। প্রযোজক ফিরদৌসল হাসান বলেন, “বিস্তারিত কিছু বলতে পারব না। অনীকের মেয়ের জন্য আমরা অপেক্ষা করছি। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী দেহ এসএসকেএম-এ নিয়ে যাওয়া হবে ময়নাতদন্তের জন্য।”
এই সময়ের বাংলা সিনেমার অন্যতম খামখেয়ালি, প্রতিভাবান ও স্পষ্টভাষী পরিচালক অনীক দত্ত। তাঁর নির্মাণশৈলীতে বুদ্ধিমত্তা, সূক্ষ্ম রসবোধ, সামাজিক ও রাজনৈতিক ব্যঙ্গ চমৎকারভাবে ফুটে ওঠে।
প্রথম সিনেমা ‘ভূতের ভবিষ্যৎ’ দিয়েই তিনি টালিউডে শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেছিলেন। ২০১২ সালে ‘ভূতের ভবিষ্যৎ’ ছবির পরিচালনার মাধ্যমে আলোচনায় উঠে আসেন অনীক। প্রথম সিনেমাতেই বাজিমাত করেন। প্রমোটরদের হাত থেকে কলকাতার পুরোনো এক বাড়িকে বাঁচাতে ভূতেরা কীভাবে এক জোট হয়—এমন এক চমৎকার রূপক ও ব্যঙ্গাত্মক গল্প নিয়ে তৈরি হয় সিনেমাটি। যদিও এই ছবিকে ঘিরেও তৈরি হয়েছিল বিতর্ক।
তার পর একের পর এক ছবি তৈরি করেছিলেন। সেই তালিকায় রয়েছে ‘আশ্চর্য প্রদীপ’, ‘মেঘনাদ বধ রহস্য’, ‘ভবিষ্যতের ভূত’, ‘বরুণবাবুর বন্ধু’, ‘অপরাজিত’। তাঁর তৈরি ছবি ‘অপরাজিত’-কে ঘিরেও বিপুল বিতর্ক হয়েছিল। তাঁর শেষ ছবি ‘যত কাণ্ড কলকাতাতেই’-কে ঘিরে তৈরি হয়েছিল আলোচনা। আদ্যোপান্ত বামপন্থী ভাবনার মানুষ হিসাবেই পরিচিত ছিলেন পরিচালক।
কলকাতায় জন্ম নেওয়া অনীক দত্তের একটি ঐতিহাসিক পারিবারিক ব্যাকগ্রাউন্ড রয়েছে। তিনি ইউনাইটেড ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার প্রতিষ্ঠাতা নরেন্দ্র চন্দ্র দত্তের নাতি। কলকাতার ঐতিহ্যবাহী পাঠ ভবন স্কুল থেকে স্কুলজীবন সম্পন্ন করেন। চলচ্চিত্র পরিচালনায় আসার আগে দীর্ঘদিন বিজ্ঞাপনী সংস্থায় কাজ করেছেন।